শিশুদের ব্লাড প্রেসার কি সত্যিই বাড়ছে? হৃদরোগ, কিডনি সমস্যা, স্থূলতা ও খাদ্যাভ্যাস কীভাবে শিশুদের রক্তচাপ বাড়াচ্ছে, জানুন প্রতিরোধের উপায়।

শিশুদের রক্তচাপ বাড়ার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার, অপর্যাপ্ত ব্যায়াম, জেনেটিক কারণ, এবং কিডনি বা হরমোনের মতো অন্তর্নিহিত রোগ। এটি আটকাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত খেলাধুলা, স্ক্রিন টাইম কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

শিশুদের রক্তচাপ বাড়ার কারণ:

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত লবণ (সোডিয়াম), প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং ফ্যাটযুক্ত খাবার। স্থূলতা (Obesity): অতিরিক্ত ওজন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। ব্যায়ামের অভাব: নিষ্ক্রিয় জীবনধারা ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। বংশগত কারণ: পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে। অন্তর্নিহিত রোগ: কিডনির সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা (যেমন অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির রোগ), বা জন্মগত ত্রুটি। সেকেন্ড হ্যান্ড স্মোক: পরোক্ষ ধূমপান শিশুদের ঝুঁকি বাড়ায়।

কীভাবে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করবেন:

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: তাজা ফল, সবজি, শস্য, কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ও মাছ/ডাল খান। প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন। লবণ নিয়ন্ত্রণ: খাবারে লবণের পরিমাণ কমান। শিশুদের জন্য দৈনিক লবণ;1200-1500 mg (২-৩ বছর বয়সীদের জন্য)। শারীরিক কার্যকলাপ: প্রতিদিন অন্তত ৬০ মিনিট মাঝারি থেকে তীব্র ব্যায়াম বা খেলাধুলা (যেমন দৌড়ানো, সাইক্লিং, বা পারিবারিক হাইকিং)। স্ক্রিন টাইম কমানো: টিভি, কম্পিউটার, মোবাইলের ব্যবহার ২ ঘণ্টার নিচে রাখা। স্বাস্থ্যকর ওজন: ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা বা উচ্চতার সাথে সাথে ওজন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা। ধূমপানমুক্ত পরিবেশ: বাড়িতে ধূমপান থেকে বিরত থাকা। স্ট্রেস কমানো: যোগব্যায়াম বা মেডিটেশনের মতো কৌশল ব্যবহার করা। পর্যাপ্ত ঘুম: ৮-১২ ঘণ্টা ঘুমানো। ডাক্তারের পরামর্শ: নিয়মিত চেকআপ করানো, বিশেষ করে যদি পরিবারের ইতিহাস থাকে বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি:

যদি শিশুর রক্তচাপ বারবার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। * যদি কিডনি বা হরমোনের মতো কোনো অন্তর্নিহিত কারণ থাকে। * চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনযাত্রার পরিবর্তন বা কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ (যেমন CCB বা ACE ইনহিবিটর) সুপারিশ করতে পারেন।