মনখারাপ। মাথায় হাবিজাবি চিন্তার পাহাড়। একরাশ বিষণ্ণতা ঘিরে ধরেছে। মন ভাল করার ওষুধ খাবেন কি না ভাবছেন। প্রয়োজন নেই। সুন্দর করে ঘরটা সাজিয়েই দেখুন না। নিমেষে কেটে যাবে বিষাদের মেঘ।
মনের মেঘ বা বিষণ্ণতা দূর করতে অন্দরসজ্জা বা ঘর সাজানো এক দারুণ থেরাপি। সুন্দর, গোছানো এবং উজ্জ্বল রঙের ঘর মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, মানসিক চাপ কমায় এবং সতেজতা আনে। জানলার পর্দা বদলানো, গাছ রাখা, পুরনো আসবাবের বিন্যাস পরিবর্তন বা সুগন্ধি মোমবাতি ব্যবহার করে সহজেই ঘরের পরিবেশ পরিবর্তন করে মন ভালো করা যায়।
মানসিক প্রশান্তিতে অন্দরসজ্জার ভূমিকা (বিস্তারিত আলোচনা):
* উজ্জ্বল রঙের জাদু: মন খারাপ থাকলে ঘরের দেয়ালে বা কুশনে হালকা ও উজ্জ্বল রঙ (যেমন- হলুদ, আকাশী, সাদা) ব্যবহার করুন। এগুলো ঘরে ইতিবাচক এনার্জি বা ‘পজিটিভ ভাইব’ নিয়ে আসে।
* আলোর ব্যবহার: ঘরে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস চলাচল করলে মন ফুরফুরে থাকে। ভারী পর্দা সরিয়ে হালকা পর্দা ব্যবহার করুন। দিনের আলো ঘরে আসতে দিন।
* সবুজের ছোঁয়া: ঘরে ইনডোর প্ল্যান্ট বা ছোট টব রাখলে বিষণ্ণতা কমে এবং মন শান্ত হয়। এটি প্রকৃতির সাথে সংযোগ স্থাপন করে।
* ছিমছাম ও গোছানো পরিবেশ: ঘর অপরিচ্ছন্ন থাকলে মানসিক অস্থিরতা বাড়ে। ঘর গুছিয়ে রাখলে মনে প্রশান্তি আসে। অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ফেলুন।
* সুগন্ধি ও মোমবাতি: সুগন্ধি মোমবাতি (Scented Candles) বা রুম ফ্রেশনারের সুগন্ধ মন ভালো করতে দারুণ কাজ করে।
* ব্যক্তিগত ছোঁয়া: নিজের প্রিয় বই, প্রিয় মানুষের ছবি বা পছন্দের ছবির ফ্রেম দিয়ে ঘর সাজালে নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং একঘেয়েমি দূর হয়।
আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সবুজ গাছ মন ভাল রাখতে পারে। এখন ‘বায়োফিলিক ডিজ়াইন’ নিয়েও ভাবনাচিন্তা হচ্ছে। অন্দরসজ্জার এটিও এক নতুন ধারা। প্রাকৃতিক যা কিছু আছে, তা দিয়ে ঘর সাজানোর পদ্ধতিই হল বায়োফিলিক। তা গাছ হতে পারে, প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি কোনও শো-পিস হতে পারে। গাছ যদি বেশি পছন্দ হয়, তা হলে বেছে নিন কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট। তবে এখানেও নিয়ম আছে। গবেষণা বলছে, ঘরের ৬০ শতাংশের বেশি যদি আসবাব ও গাছ দিয়ে ভরিয়ে ফেলা হয়, তা হলে বিষণ্ণতা কাটার বদলে আরও বাড়বে। তাই কোথায় কোথায় গাছ রাখবেন, সে জায়গা আগে বেছে নিতে হবে।
সংক্ষেপে টিপস:
* পর্দা বা বিছানার চাদর বদলে ফেলুন। * ঘরের এক কোণে তাজা ফুল রাখুন। * আসবাবপত্রের জায়গা অদল-বদল করে নতুন লুক আনুন
অন্দরসজ্জা কেবল ঘরকে সুন্দর করে না, এটি নিজের মনের যত্ন নেওয়ারও একটি সৃজনশীল উপায়।


