আমরা ভাত রান্নার পর ফ্যান বা মাড় ফেলে দিই। কিন্তু জানেন কি, এই ফ্যান-সহ ভাত সাধারণ ঝরঝরে ভাতের থেকে অনেক বেশি উপকারী হতে পারে? হজম থেকে শুরু করে পেট ঠান্ডা রাখা পর্যন্ত এর রয়েছে চমকপ্রদ গুণ।

আমরা ভাত রান্নার পর ফ্যান বা মাড় ফেলে দিই। কিন্তু জানেন কি, এই ফ্যান-সহ ভাত সাধারণ ঝরঝরে ভাতের থেকে অনেক বেশি উপকারী হতে পারে? হজম থেকে শুরু করে পেট ঠান্ডা রাখা পর্যন্ত এর রয়েছে চমকপ্রদ গুণ।

বাঙালির পাতে ভাত না থাকলে চলেই না। কেউ ঝরঝরে সাদা ভাত ভালোবাসেন, কেউ আবার ফ্যান বা মাড় সহ নরম ভাত। এখনকার দিনে প্রেসার কুকারে বা ইলেকট্রিক কুকারে ভাত রান্না হওয়ায় আমরা ফ্যান ফেলে দেওয়ার অভ্যাসটাই ভুলে গেছি। কিন্তু আমাদের ঠাকুমা-দিদিমারা যে ফ্যান-ভাত খেতেন, তার পিছনে কিন্তু শুধু স্বাদ নয়, বিজ্ঞানও আছে।

পুষ্টিবিদদের মতে, ভাতের ফ্যান ফেলে দিলে ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছুটা কমে যায় ঠিকই, কিন্তু ফ্যানের সঙ্গেই বেরিয়ে যায় ভাতের অনেক জল-দ্রবণীয় ভিটামিন, যেমন বি ভিটামিন। আর যদি ফ্যান না ফেলে সেই ফ্যান-সহ ভাত খাওয়া হয়, তাহলে তার উপকারিতা অনেক বেশি।

প্রথমত, ফ্যান-ভাত হজমের জন্য অনেক ভালো। ফ্যানে থাকে প্রচুর পরিমাণে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ (Resistant Starch), যা সাধারণ স্টার্চের মতো দ্রুত হজম হয় না। এটি আমাদের অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়ার খাবার হিসেবে কাজ করে। ফলে হজম ভালো হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকে। যাদের আইবিএস বা অল্পতেই পেট গরম হয়ে যায়, তাদের জন্য ফ্যান-ভাত খুবই আরামদায়ক।

দ্বিতীয়ত, ফ্যান-ভাত অনেক বেশি তৃপ্তিদায়ক। রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ থাকার কারণে এটি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে, বারবার খিদে পায় না। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য পরিমিত পরিমাণে ফ্যান-ভাত সাধারণ শুকনো ভাতের থেকে ভালো বিকল্প হতে পারে। এছাড়া ভাতের ফ্যান বা মাড়ে থাকে প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। জ্বর বা পেট খারাপের পর ডাক্তাররা যে ভাতের ফ্যানের জল খেতে বলেন, তার কারণও এটাই।

তাহলে কি সবার জন্য ফ্যান-ভাতই ভালো? না। যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের জন্য ফ্যান-সহ ভাত রক্তে শর্করা একটু দ্রুত বাড়াতে পারে, তাই তাদের জন্য ফ্যান ফেলে দেওয়া ভাত এবং পরিমিত পরিমাণই ভালো। আর যাদের কিডনির সমস্যা আছে, তাদেরও ফ্যান-ভাত এড়িয়ে চলা উচিত কারণ এতে পটাশিয়াম বেশি থাকে।

তাই সুস্থ মানুষের জন্য মাঝে মেনুতে ফ্যান-ভাত রাখা, সঙ্গে একটু আলু সেদ্ধ, ঘি আর নুন দিয়ে খাওয়া শুধু নস্টালজিয়া নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও দারুণ উপকারী।