২০২৪-এ ছিল ০.৯৭ শতাংশ, ২০২৫-এ কমে ০.৮৭ শতাংশ! সিঙ্গাপুরে জন্মহার নেমেছে রেকর্ড তলানিতে, গত বছর জন্মেছে মাত্র ২৯,৮৬৪ শিশু। কেরিয়ারের চাপে বিয়ের বয়স পেরোচ্ছে ৩০, তার জেরেই এই ধস। পরিস্থিতি সামলাতে এবার 'ফার্স্টডেট' নিয়ে এল সরকার।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে সিঙ্গাপুরে মোট প্রজনন হার বা TFR ছিল ০.৯৭ শতাংশ। গতবছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে তা আরও কমে হয়েছে ০.৮৭ শতাংশ। গত বছর সে দেশে মাত্র ২৯,৮৬৪ শিশুর জন্ম হয়েছে, যা সিঙ্গাপুরের ইতিহাসে অন্যতম সর্বনিম্ন। জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হার ২.১-এর নিচে নামলেই জনসংখ্যা কমতে শুরু করে, সেখানে ০.৮৭ মানে ভয়াবহ সতর্ক সংকেত।

এর পাশাপাশি বাড়ছে মানুষের বিয়ের বয়স। অর্থাৎ কেরিয়ার হোক বা যে কোনও কারণেই অনেকটা দেরিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসছেন সকলে। তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে ছেলেরা বিয়ে করেছে গড়ে ৩১ বছর পেরনোর পর। মহিলাদের ক্ষেত্রে সেই বয়সটা ২৯। স্বাভাবিকভাবেই বিয়ে দেরিতে হওয়ায় সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনাও পিছিয়ে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মহারে।

তবে হ্যাঁ, তার মানে কখনই এটা নয় যে, জোর করে ধরে বেঁধে বিয়ে দিতেই হবে। সিঙ্গাপুর সরকারও সেই পথে হাঁটেনি। উল্টে তরুণ প্রজন্ম যাতে নিজেদের মতো করে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, তার জন্য এনেছে ‘ফার্স্টডেট’। এটি কোনো বাধ্যতামূলক ম্যাচমেকিং অ্যাপ নয়, বরং বিভিন্ন ইভেন্ট, ওয়ার্কশপ এবং কমিউনিটি মিট-আপের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পরিচয় এবং সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহিত করার একটি সরকারি উদ্যোগ।

সরকারের লক্ষ্য একটাই, বিয়ে বা সন্তান নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি নয়, বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তরুণরা কেরিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজেরাই পরিবার গড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।