কোরিয়ান ‘গ্লাস স্কিন’ রুটিন সবার জন্য নয়, বিশেষ করে ভারতের আবহাওয়ায়। ভারী লেয়ারিং ও কিছু জনপ্রিয় উপাদান সবার ত্বকে স্যুট না করে ব্রণ বা র‍্যাশের কারণ হতে পারে। তাই হাইপে না ভেসে নিজের ত্বক ও আবহাওয়া বুঝে প্রোডাক্ট বাছুন।

K-beauty এখন বিলিয়ন ডলার ইন্ডাস্ট্রি। প্যাকেজিং কিউট, টেক্সচার হালকা, দামও মিড-রেঞ্জ। কিন্তু স্কিন কেয়ার ‘ওয়ান সাইজ ফিটস অল’ না। কোরিয়ার ঠান্ডা, শুকনো ওয়েদারে ১০ লেয়ার দরকার, কারণ ওদের স্কিন ময়েশ্চার হারায়। আমাদের ৪০°C, ৮০% হিউমিডিটিতে ১০ লেয়ার মানে পোরের উপর প্লাস্টার। ফল? ঘাম + তেল + ক্রিম = ব্যাকটেরিয়ার পার্টি। চলুন, K-beauty নিয়ে ৫টা বড় ভুল ধারণা ভাঙি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কোরিয়ান মানেই ন্যাচারাল, তাই সেফ: ‘ন্যাচারাল’ আর ‘সেফ’ এক জিনিস না। সেন্টেলা, টি ট্রি, সিট্রাস অয়েল, ফার্মেন্টেড রাইস—এগুলো ন্যাচারাল হলেও স্ট্রং অ্যাকটিভ। সমস্যা: অনেক কোরিয়ান টোনার-এসেন্সে অ্যালকোহল, ফ্রেগরেন্স, এসেনশিয়াল অয়েল থাকে। সেনসিটিভ বা অ্যাকনে-প্রন স্কিনে র‍্যাশ, জ্বালা, কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হয়। স্নেইল মিউসিনে অনেকের ডাস্ট মাইট অ্যালার্জি ট্রিগার করে। কী করবেন: ইনগ্রিডিয়েন্ট লিস্ট পড়ুন। ‘Fragrance’, ‘Alcohol Denat’, ‘Citrus Oil’ প্রথম দিকে থাকলে অ্যাভয়েড করুন। প্যাচ টেস্ট মাস্ট—কানের পিছনে ২৪ ঘণ্টা লাগিয়ে দেখুন।

১০ স্টেপ রুটিন মানেই গ্লাস স্কিন: কোরিয়ানদের রুটিন: অয়েল ক্লিনজার > ফোম ক্লিনজার > টোনার > এসেন্স > সিরাম > শিট মাস্ক > আই ক্রিম > ময়েশ্চারাইজার > সানস্ক্রিন। ৯-১০টা লেয়ার। সমস্যা: ভারতের গরমে এত লেয়ার স্কিন নিতে পারে না। প্রতিটা লেয়ার আগেরটাকে ‘লক’ করে। ফলে ঘাম বেরোতে পারে না, পোর বন্ধ হয়ে হোয়াইটহেড, ফাঙ্গাল অ্যাকনে হয়। ফাঙ্গাল অ্যাকনে ম্যালাসেজিয়া ফলিকুলাইটিস—চুলকায়, ছোট ছোট ব্রণ। কী করবেন: ‘স্কিনমিনিমালিজম’ ফলো করুন। বেসিক ৩ স্টেপ: জেন্টল ক্লিনজার + ময়েশ্চারাইজার + সানস্ক্রিন। সমস্যা থাকলে টার্গেটেড ১টা সিরাম অ্যাড করুন। শিট মাস্ক সপ্তাহে ১ বার, রোজ না।

সব স্কিন টাইপে স্নেইল মিউসিন, প্রপোলিস চলবে: স্নেইল মিউসিন হাইড্রেটিং, হিলিং। প্রপোলিস অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল। কিন্তু... সমস্যা: দুটোই ভারী, অক্লুসিভ টেক্সচার। অয়েলি, অ্যাকনে-প্রন স্কিনে পোর ক্লগ করে। ফাঙ্গাল অ্যাকনে ট্রিগার করে কারণ ম্যালাসেজিয়া ইস্ট ‘ফার্মেন্টেড’ ইনগ্রিডিয়েন্ট পছন্দ করে। গরমে মুখ আরও চিটচিটে লাগে। কী করবেন: ড্রাই, ড্যামেজড, ব্যারিয়ার রিপেয়ার দরকার হলে শীতকালে রাতে ইউজ করুন। অয়েলি স্কিন হলে ‘Snail 96 Mucin’ এর বদলে ‘Hyaluronic Acid’ বা ‘Beta Glucan’ সিরাম নিন। হালকা, নন-কমেডোজেনিক।

K-beauty সানস্ক্রিন বেস্ট, কোনও হোয়াইট কাস্ট নেই: কোরিয়ান সানস্ক্রিন কসমেটিক্যালি এলিগ্যান্ট। জেল টেক্সচার, মেকআপের নিচে বসে যায়। সমস্যা: বেশিরভাগ K-সানস্ক্রিন SPF 50+ PA++++ লেখা থাকলেও ‘কেমিক্যাল ফিল্টার’ বেসড। ভারতের কড়া UV Index 9-11 এ শুধু কেমিক্যাল ফিল্টার অনেক সময় যথেষ্ট প্রোটেকশন দেয় না। ঘামে গলে যায়। আবার কিছু ভাইরাল সানস্ক্রিনের SPF ল্যাবে ফেল করেছে। কী করবেন: বাইরে রোদে বেশি থাকলে ‘হাইব্রিড’ বা ‘মিনারেল’ সানস্ক্রিন নিন। Zinc Oxide, Titanium Dioxide আছে কিনা দেখুন। ২ আঙুল নিয়মে মাখুন, ৩ ঘণ্টা পর রি-অ্যাপ্লাই করুন। শুধু কোরিয়ান বলে চোখ বন্ধ করে না।

কোরিয়ান প্রোডাক্ট মানেই অ্যান্টি-এজিং, ব্রাইটেনিং হবেই: নিয়াসিনামাইড, আর্বুটিন, ভিটামিন C, গ্যালাক্টোমাইসিস—এগুলো ব্রাইটেনিং করে। কিন্তু... সমস্যা: ‘Whitening’ আর ‘Brightening’ গুলিয়ে ফেলবেন না। অনেক প্রোডাক্টে ‘Whitening’ মানে টেম্পোরারি টোন-আপ, পার্মানেন্ট স্কিন লাইটেনিং না। আর ২% নিয়াসিনামাইড ভালো, ১০-২০% সব স্কিন নিতে পারে না। ইরিটেশন, পার্জিং হয়। কী করবেন: একসাথে ৩-৪টা অ্যাকটিভ ইউজ করবেন না। ভিটামিন C সকালে, রেটিনল/এক্সফোলিয়েন্ট রাতে। নতুন প্রোডাক্ট ১টা করে রুটিনে ঢোকান, ২ সপ্তাহ গ্যাপ দিন। রেজাল্ট আসতে ৮-১২ সপ্তাহ লাগে।

তাহলে ভারতীয় স্কিনে কী কাজ করবে? গোল্ডেন রুল: ১. ওয়েদার দেখে কিনুন: গরমে জেল বেসড, ওয়াটার বেসড, ‘Oil-free’ লেখা প্রোডাক্ট। শীতে ক্রিম বেসড। ২. ইনগ্রিডিয়েন্ট ফোকাসড হন: ব্র্যান্ড না, ইনগ্রিডিয়েন্ট দেখুন। অ্যাকনের জন্য Salicylic Acid, Niacinamide। ড্রাই স্কিনে Ceramide, Hyaluronic Acid। পিগমেন্টেশনে Alpha Arbutin, Tranexamic Acid। ৩. কম ইজ মোর: ক্লিনজার + ময়েশ্চারাইজার + সানস্ক্রিন = ৮০% কাজ। বাকি ২০% আপনার স্কিনের সমস্যা বুঝে ১টা সিরাম। ৪. লোকাল অপশন দেখুন: ভারতীয় ব্র্যান্ডগুলো এখন K-beauty ইনগ্রিডিয়েন্ট দিয়েই ইন্ডিয়ান ওয়েদারের জন্য ফর্মুলা বানাচ্ছে। দামও কম, রিটার্নও ইজি। ৫. ডার্মাটোলজিস্ট বেস্ট: যদি সিভিয়ার অ্যাকনে, মেলাজমা, একজিমা থাকে, রিলস দেখে না, ডাক্তার দেখিয়ে প্রোডাক্ট নিন।

কোরিয়ান স্কিন কেয়ার খারাপ না, আপনার স্কিনের জন্য ভুল প্রোডাক্টটা খারাপ। গ্লাস স্কিন একটা ‘লুক’, হেলদি স্কিন একটা ‘ফিলিং’। আপনার স্কিন ব্যারিয়ার হেলদি, হাইড্রেটেড, ব্রণ-ফ্রি থাকলেই সেটা গ্লাস স্কিন। তার জন্য ১০ স্টেপ না, রাইট স্টেপ দরকার। হাইপে গা ভাসাবেন না, নিজের স্কিনের কথা শুনুন।

এটি সাধারণ তথ্য। প্রত্যেকের স্কিন আলাদা। নতুন প্রোডাক্ট ইউজের আগে প্যাচ টেস্ট করুন। জ্বালা, চুলকানি, র‍্যাশ হলে ইউজ বন্ধ করে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।