Last Shangri-La Travel Tips: লাদাখের ভিড় এড়িয়ে যদি সত্যিকারের নির্জনতা আর রূপ দেখতে চান, তাহলে যান জান্সকার। চারপাশে ৬০ মিটার উঁচু পাহাড়, মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া নীলচে জান্সকার নদী। শীতে নদী জমে গিয়ে তৈরি হয় "চাদার ট্রেক"। এ যেন পৃথিবীর বাইরের কোনো জায়গা। 

Last Shangri-La Travel Tips: লেহ-মানালি, নুব্রা ভ্যালি - লাদাখের এই নামগুলো আমরা সবাই শুনেছি। কিন্তু লাদাখের বুকেই লুকিয়ে আছে আরেকটা লাদাখ। নাম তার জান্সকার। এখানে না আছে নেটওয়ার্ক, না আছে ভিড়। আছে শুধু নিস্তব্ধতা, বৌদ্ধ মঠের ঘণ্টা আর নীল নদীর গর্জন। পর্যটকরা যাকে বলে "Last Shangri-La"। একবার গেলে মনে হবে সিনেমার সেটে চলে এসেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জান্সকার ভ্রমণ টিপস:-

জান্সকার হল লাদাখের কার্গিল জেলার একটা দুর্গম উপত্যকা। চারপাশে ঘিরে আছে হিমালয় আর জাঁস্কার রেঞ্জের বিশাল সব পাহাড়। এই উপত্যকার প্রাণ হল জান্সকার নদী। গ্রীষ্মে নদীর জল পান্নার মতো নীল হয়ে বয়ে যায় পাথরের গা ঘেঁষে। আর শীতে সেই নদীই ৩-৪ ফুট পুরু বরফে জমে গিয়ে রাস্তা হয়ে যায়। এখানে আসার কারণ দুটো। এক হল প্রকৃতির কাঁচা রূপ, আর দুই হল এখানকার মানুষ আর সংস্কৃতি। ১৪০০ বছরের পুরনো বৌদ্ধ মঠ, পাথরের বাড়ি আর হাসিখুশি জান্সকারি মানুষের সরলতা আপনাকে শহরের কোলাহল থেকে ১০ যোজন দূরে নিয়ে যাবে।

জান্সকারে যাওয়ার আদর্শ সময় দুটো। জুন থেকে সেপ্টেম্বর হল গ্রীষ্মকাল। এই সময় রাস্তা খোলা থাকে। মানালি-দারচা-পাদুম হয়ে গাড়িতে যাওয়া যায়। চারপাশ সবুজ হয়ে থাকে, ক্ষেতের মাঝে সাদা মঠগুলোকে পোস্টকার্ডের মতো লাগে। এই সময় দেখে নিতে পারেন রংদুম মঠ, কারশা মঠ আর পেনে লা পাস। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে জান্সকার নদীতে রিভার রাফটিংও করতে পারবেন। এটা ভারতের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর রাফটিং রুটগুলোর একটা।

আর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি হল শীতকাল। এটাই জান্সকারের আসল ম্যাজিক। এই সময় গাড়ি চলাচল পুরো বন্ধ হয়ে যায়। বেঁচে থাকার একমাত্র রাস্তা হল জমে যাওয়া জান্সকার নদী। একে বলে "চাদার ট্রেক"। মাইনাস ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৯ দিন ধরে ১০৫ কিমি বরফের ওপর দিয়ে হাঁটা। চারপাশে বরফের দেওয়াল আর মাথার ওপর পরিষ্কার নীল আকাশ। কষ্টের, কিন্তু জীবনে একবার হলেও করার মতো অভিজ্ঞতা।

যাওয়ার রাস্তা দুটো। সবচেয়ে সহজ হল শ্রীনগর থেকে কার্গিল হয়ে পাদুম। গ্রীষ্মে এই রাস্তা খোলা থাকে। আরেকটা রাস্তা আরও রোমাঞ্চকর, মানালি থেকে দারচা হয়ে শিঙ্গো লা পেরিয়ে পাদুম। থাকার জন্য পাদুমে কিছু হোমস্টে আর গেস্ট হাউস পাবেন। তবে এখানে নেট আর এটিএম এর আশা করবেন না। সাথে পর্যাপ্ত ক্যাশ আর প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে যাওয়া জরুরি। উচ্চতার কারণে AMS হতে পারে, তাই প্রথম দুদিন বিশ্রাম নিয়ে শরীরকে মানিয়ে নিন। আর এখানকার মানুষ খুব ধার্মিক, মঠে ঢোকার সময় জুতো খুলে আর ছবি তোলার আগে অনুমতি নিয়ে নেবেন।

জান্সকার কোনো বিলাসবহুল ট্যুরিস্ট স্পট নয়। এটা কষ্টের, এটা চ্যালেঞ্জের। কিন্তু বিনিময়ে যা পাবেন সেটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। নদীর ওপর দিয়ে হাঁটা, তারার নিচে তাঁবুতে রাত কাটানো আর হিমালয়ের নীরবতা - এগুলোই আসল জান্সকার।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।