মাঝরাতে হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান বা ‘নকচার্নাল লেগ ক্র্যাম্প’ খুব কমন। জল কম খাওয়া, ম্যাগনেসিয়াম-পটাশিয়াম-ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, বেশিক্ষণ একভাবে বসা, কিছু ওষুধের সাইড এফেক্ট ও প্রেগন্যান্সি এর মূল কারণ। টান ধরলে পা সোজা করে পাতা নিজের দিকে টানুন, হালকা ম্যাসাজ করুন, গরম সেঁক দিন ও ২ মিনিট হাঁটুন।

গভীর ঘুমে আছেন, হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে তীব্র টান। ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেল। ডাক্তারি ভাষায় একে বলে ‘নকচার্নাল লেগ ক্র্যাম্প’। ৬০ বছরের উপর ৩ জনের মধ্যে ১ জনের হয়। কিন্তু কম বয়সেও হয়। কেন হয়, আর টান ধরলে কী করবেন? রইল সহজ গাইড।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*কেন মাঝরাতে পায়ে টান ধরে?*

১. *জল কম খাওয়া:* শরীরে জল কমলে ইলেকট্রোলাইট ব্যালান্স নষ্ট হয়। ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম কমে গেলে মাসল হঠাৎ সংকুচিত হয়।

২. *বেশিক্ষণ একভাবে বসা বা দাঁড়ানো:* দিনে অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসলে বা দাঁড়িয়ে কাজ করলে রাতে ক্র্যাম্প হয়।

৩. *ওষুধের সাইড এফেক্ট:* প্রেশার, কোলেস্টেরল, ডাইইউরেটিক ওষুধ খেলে শরীর থেকে মিনারেল বেরিয়ে যায়।

৪. *প্রেগন্যান্সি ও বয়স:* গর্ভাবস্থায় ও ৫০ পেরোলে নার্ভের উপর চাপ পড়ে, রক্ত চলাচল কমে। তখন টান বেশি হয়।

৫. *অতিরিক্ত এক্সারসাইজ:* হঠাৎ জিম শুরু করলে বা অনেক হাঁটলে মাসলে ল্যাকটিক অ্যাসিড জমে টান ধরে।

*টান ধরলে তখনই কী করবেন?*

১. *স্ট্রেচ করুন:* পা সোজা করে পাতা নিজের দিকে টানুন। ৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। কাফ মাসল রিল্যাক্স হবে।

২. *হালকা ম্যাসাজ:* বুড়ো আঙুল দিয়ে টান ধরা জায়গায় গোল করে ম্যাসাজ করুন। রক্ত চলাচল বাড়বে।

৩. *গরম সেঁক:* হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম তোয়ালে ২ মিনিট চেপে ধরুন। ব্যথা কমবে।

৪. *হাঁটুন:* বিছানা থেকে নেমে খালি পায়ে ১-২ মিনিট হাঁটুন। মাসল নর্মাল হবে।

৫. *জল খান:* এক গ্লাস জল খেয়ে নিন। ডিহাইড্রেশন থেকে হলে সাথে সাথে আরাম পাবেন।

*যাতে আর না হয়, কী করবেন?*

১. *জল ও মিনারেল:* দিনে ৮-১০ গ্লাস জল খান। কলা, ডাবের জল, পালং শাক, বাদাম খান। পটাশিয়াম-ম্যাগনেসিয়াম বাড়বে।

২. *ঘুমানোর আগে স্ট্রেচ:* শুতে যাওয়ার আগে কাফ ও থাইয়ের স্ট্রেচ করুন। দেওয়ালে হাত রেখে এক পা পিছনে দিয়ে ৩০ সেকেন্ড রাখুন।

৩. *জুতো বদলান:* হাই হিল বা শক্ত সোলের জুতো এড়িয়ে চলুন। নরম সোলের জুতো পরুন।

৪. *পা ঢেকে শোন:* AC-তে পা খোলা রাখলে মাসল ঠান্ডায় শক্ত হয়ে যায়। পাতলা চাদর দিয়ে পা ঢেকে শোন।

৫. *ডাক্তার দেখান কখন:* সপ্তাহে ৩ বারের বেশি টান, অসহ্য ব্যথা, পা ফুলে যাওয়া, হাঁটতে কষ্ট – এসব হলে নিউরো বা অর্থোর ডাক্তার দেখান। থাইরয়েড, ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা থেকেও ক্র্যাম্প হতে পারে।

মাঝরাতের পায়ের টান ভয়ের কিছু নয়। জল খান, স্ট্রেচ করুন, মিনারেল ঠিক রাখুন। তাতেও না কমলে রক্ত পরীক্ষা করে ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম লেভেল দেখে নিন। সুস্থ পা মানেই শান্ত ঘুম।