রোদ থেকে ফিরে শরীর আর চলে না? গলা শুকিয়ে কাঠ, মাথা ঘোরে? বারবার লেবু কাটা, চিনি গোলা, পুদিনা বাটার ঝামেলা নেই। শিকাঞ্জি পাউডার বানিয়ে কৌটোয় ভরে রাখুন।

বাইরে ৪২ ডিগ্রি। বাস থেকে নেমেই মনে হয় কেউ শরীরের সব এনার্জি শুষে নিয়েছে। ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা জল খেলেন, তাও শান্তি নেই। কোল্ড ড্রিংকসে চিনি আর গ্যাস। শরীর আরও ডিহাইড্রেট হয়। মা-ঠাকুমারা এই সময় শিকাঞ্জি বানিয়ে দিতেন। লেবু, চিনি, নুন, পুদিনা, ভাজা জিরে। এক গ্লাস খেলেই প্রাণ জুড়াতো। কিন্তু রোজ অফিস থেকে ফিরে ওসব কে করে? সলিউশন হল শিকাঞ্জি পাউডার। একদিন 15 মিনিট খাটুন, সারা মাস আরাম। ব্যাচেলর, হোস্টেল, অফিস—সবার জন্য লাইফ সেভার।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*শিকাঞ্জি পাউডার কেন খাবেন? গরমের সুপার ড্রিংক*

*১. ইনস্ট্যান্ট এনার্জি:* লেবুতে ভিটামিন সি আর চিনি ইনস্ট্যান্ট গ্লুকোজ দেয়। বিট নুন আর সাধারণ নুন শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ব্যালেন্স ঠিক করে। ঘাম হয়ে যে নুন বেরিয়ে যায়, সেটা ফিল আপ হয়। তাই ক্লান্তি কাটে চোখের পলকে। ORS-এর ঘরোয়া ভার্সন।

*২. হজমের বন্ধু:* ভাজা জিরে, গোলমরিচ, হিং হজমে সাহায্য করে। গরমে তেল-মশলা খেয়ে পেট গুড়গুড়, গ্যাস, অম্বল? এক গ্লাস শিকাঞ্জি খান। পেট ঠান্ডা, খিদে বাড়বে।

*৩. হিট স্ট্রোকের যম:* পুদিনা শরীর ঠান্ডা রাখে। লেবু শরীরের টক্সিন বের করে। বিট নুন শরীরের তাপমাত্রা কমায়। রোজ দুপুরে এক গ্লাস খেলে লু লাগবে না, হিট স্ট্রোকের ভয় নেই।

*4. কোল্ড ড্রিংকসের বেস্ট রিপ্লেসমেন্ট:* ১ গ্লাস কোল্ড ড্রিংকসে ১০ চামচ চিনি। শিকাঞ্জিতে চিনি আপনি কন্ট্রোল করবেন। সুগার পেশেন্টরা চিনি ছাড়া বা সুগার ফ্রি দিয়ে বানান।

*পারফেক্ট শিকাঞ্জি পাউডার রেসিপি: ১৫ মিনিটে ৩ মাসের স্টক*

চিনি গুঁড়ো ১ কাপ, বিট নুন ২ চামচ, সাধারণ নুন ১ চামচ, ভাজা জিরে গুঁড়ো ৩ চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো 1 চামচ, শুকনো পুদিনা পাতা গুঁড়ো ২ চামচ, লেবুর শুকনো খোসা গুঁড়ো ২ চামচ বা ১ চামচ সাইট্রিক অ্যাসিড, এক চিমটে হিং, চাট মশলা ১ চামচ অপশনাল।

*বানানোর পদ্ধতি:*

*স্টেপ ১:* ৩টে বড় সাইজের পাতি লেবুর খোসা গ্রেট করে রোদে 2 দিন শুকিয়ে মিক্সিতে গুঁড়ো করুন। এটাই আসল ফ্লেভার। তাড়া থাকলে সাইট্রিক অ্যাসিড ইউজ করুন। ১ কাপ পুদিনা পাতা ছায়ায় শুকিয়ে গুঁড়ো করুন।

*স্টেপ ২:* শুকনো কড়াইতে ২ চামচ জিরে আর ১ চামচ গোটা ধনে লাল করে ভেজে গুঁড়ো করুন। স্মোকি গন্ধটাই শিকাঞ্জির প্রাণ।

*স্টেপ ৩:* এবার একটা বড় বাটিতে চিনি গুঁড়ো, বিট নুন, নুন, জিরে গুঁড়ো, গোলমরিচ, পুদিনা গুঁড়ো, লেবুর খোসা গুঁড়ো, হিং, চাট মশলা সব একসাথে দিন। হাত দিয়ে বা চামচে ৫ মিনিট ভালো করে মেশান। যাতে কোনো দলা না থাকে।

*স্টেপ ৪:* শুকনো এয়ারটাইট কাঁচের বয়ামে ভরে রাখুন। জল যেন না লাগে। ফ্রিজে রাখলে ৩ মাস, বাইরে রাখলে দেড় মাস দিব্যি ভালো থাকবে।

*পারফেক্ট শিকাঞ্জি বানাবেন কীভাবে? ২ মিনিটের ম্যাজিক*

১ গ্লাস ঠান্ডা জল নিন। তাতে ২ চামচ শিকাঞ্জি পাউডার দিন। ভালো করে গুলে নিন। হাফ পাতি লেবুর রস দিলে টেস্ট ১০ গুণ বেড়ে যাবে। ফ্রেশ লেবু না থাকলে শুধু পাউডারই এনাফ।

উপরে বরফ কুচি দিন। ইচ্ছে হলে ২-৩টে পুদিনা পাতা ছিঁড়ে দিন। রাস্তার দোকানের মতো সোডা দিয়েও বানাতে পারেন। বাচ্চাদের জন্য শুধু চিনি আর লেবুর ফ্লেভার বেশি দিন, ঝাল-নুন কম।

*টিপস:* ট্যুরে যাচ্ছেন? ছোট জিপলক ব্যাগে পাউডার ভরে নিন। হোটেলে মিনারেল ওয়াটারে গুলে খান। শরীর চাঙ্গা থাকবে।

*এই ৩টে ভুল করলেই পাউডার নষ্ট:*

*ভুল ১:* ভেজা চামচ ঢোকানো। পাউডারের বয়ামে ভুলেও ভেজা চামচ দেবেন না। দলা পাকিয়ে যাবে, ফাঙ্গাস ধরে যাবে। সবসময় শুকনো চামচ।

*ভুল ২: রোদে পুদিনা শুকানো।* পুদিনা রোদে শুকালে সবুজ রং আর গন্ধ চলে যায়। সবসময় ছায়ায় ফ্যানের নিচে শুকান। সবুজ থাকবে।

*ভুল ৩: সাইট্রিক অ্যাসিড বেশি দেওয়া।* টক হবে ভেবে বেশি সাইট্রিক অ্যাসিড দিলে গলা জ্বলবে। ১ কাপ চিনিতে ১ চামচের বেশি না। লেবুর খোসা ইউজ করলে সবচেয়ে ভালো।

এই গরমে কোল্ড ড্রিংকস না, শিকাঞ্জি খান। পকেটও বাঁচবে, শরীরও। ১৫ মিনিটে বানিয়ে নিন, সারা মাস নিশ্চিন্ত। অফিসের ড্রয়ারে একটা ছোট কৌটো রাখুন। ক্লান্ত লাগলেই বানিয়ে নিন।

লেবু ও সাইট্রিক অ্যাসিডে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। কিডনির রোগী, হাই প্রেশারের রোগী বিট নুন ও সাধারণ নুনের পরিমাণ ডাক্তারের সাথে কথা বলে ঠিক করুন। সুগারের রোগী চিনি ছাড়া বানান। এটি ঘরোয়া টোটকা, মেডিকেল অ্যাডভাইস নয়।