এই নিবন্ধটি রাসায়নিকভাবে পাকানো কলা শনাক্ত করার উপায়গুলি ব্যাখ্যা করে। রঙ, খোসার গঠন, গন্ধ এবং ডাঁটা পরীক্ষা করে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম কলার মধ্যে পার্থক্য করা যায়।
ভারতে সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফলগুলির মধ্যে কলা অন্যতম। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সবচেয়ে বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো ফলের তালিকাতেও এটি প্রথম সারিতে রয়েছে। দীর্ঘ পথ পরিবহন এবং বাজারের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম এজেন্ট ব্যবহার করে কলা দ্রুত হলুদ করে তোলে। এই ধরনের ফল শুধু স্বাদই নষ্ট করে না, হজম এবং স্বাস্থ্যের উপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
কেমিক্যাল ছাড়া কলা চেনার সহজ উপায়গুলি এখানে দেওয়া হল
১. রঙ-ই প্রথম সংকেত (রঙ পরীক্ষা করুন)
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলার রঙ পুরোপুরি হলুদ হয় না। তার ওপর ছোট ছোট কালো বা বাদামী দাগ থাকে (সুগার স্পট)। এগুলি ফলের প্রাকৃতিক চিনির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ।
সতর্কতা: রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হলে, কলার রঙ দাগহীন ও অতিরিক্ত উজ্জ্বল হলুদ হয়। ফলটি প্লাস্টিকের মতো দেখতে হলে বুঝবেন এটি কৃত্রিমভাবে পাকানো।
২. খোসার গঠন এবং স্পর্শ (খোসার ধরন)
কলার খোসা আলতো করে ঘষে দেখুন। স্বাভাবিকভাবে পাকা ফলের খোসা নরম এবং কিছুটা ম্যাট (Dull) ফিনিশের হয়। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো ফলের খোসা খুব মসৃণ বা মোমের মতো (Waxy) মনে হয়। এছাড়াও, প্রাকৃতিক ফলের খোসা সহজেই ছাড়ানো যায়, কিন্তু রাসায়নিক দেওয়া ফলের খোসা শক্ত হওয়ায় ছাড়ানোর সময় ছিঁড়ে যেতে পারে।
৩. গন্ধ থেকেই সত্যিটা জানুন (গন্ধ পরীক্ষা)
স্বাভাবিকভাবে পাকা কলা থেকে মিষ্টি গন্ধ বের হয়। কলার ডাঁটার কাছে এই গন্ধ বেশি পাওয়া যায়। যদি কলা থেকে কোনো গন্ধ না আসে বা ঘাসের মতো গন্ধ বেরোয়, তবে বুঝবেন এটি রাসায়নিক দিয়ে জোর করে পাকানো হয়েছে।
৪. কলার ডাঁটা খেয়াল করুন (ডাঁটা পর্যবেক্ষণ করুন)
কলা পুরো হলুদ হয়ে গেলেও যদি তার ডাঁটা একেবারে সবুজ থাকে, তবে এটি বিপদের লক্ষণ। স্বাভাবিকভাবে পাকার সময় ফলের সাথে ডাঁটাও কিছুটা শুকিয়ে যায় বা বাদামী রঙের হয়ে যায়।
৫. ভেতরের গঠন (ভেতরের ধরন)
কলা ভেঙে দেখুন। স্বাভাবিক ফল ভেতর থেকে ক্রিমের মতো নরম হয় এবং সমান মিষ্টি হয়। রাসায়নিক দিয়ে পাকানো কলা বাইরে থেকে হলুদ হলেও ভেতরে শক্ত বা খড়ির মতো (Chalky) হতে পারে। এগুলিতে স্বাভাবিক মিষ্টিভাব থাকে না।
রাসায়নিক দেওয়া ফল খেলে কী হয়?
অনেকেরই কলা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেট ফোলা, অ্যাসিডিটি বা গলা চুলকানোর মতো সমস্যা হয়। এটি কলার দোষ নয়, বরং কৃত্রিম রাসায়নিকের কারণে হওয়া সমস্যা। এগুলি হজমতন্ত্রের আস্তরণে জ্বালা সৃষ্টি করে।
বিপদ এড়ানো যায় কীভাবে?
বাড়িতেই পাকান: কিছুটা কাঁচা কলা কিনে এনে কাগজের ব্যাগে রেখে বাড়িতেই পাকতে দিন।
প্রাকৃতিক উৎস: স্থানীয় ছোট বিক্রেতাদের কাছ থেকে বা অর্গানিক ফল কেনার চেষ্টা করুন।
নিখুঁত দেখতে ফলের লোভে পড়বেন না: অতিরিক্ত হলুদ এবং সুন্দর দেখতে কলার চেয়ে দাগযুক্ত সাধারণ কলাই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
মনে রাখবেন: স্বাস্থ্যকর খাবারই সুখী জীবনের ভিত্তি। ফল কেনার সময় একটু সতর্কতা অবলম্বন করা আপনার এবং আপনার পরিবারের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।


