আপনি সিঙ্গেল নন, আবার কমিটেডও নন। রোজ কথা হয়, দেখা হয়, সব আছে কিন্তু সম্পর্কের নাম নেই। ডেটিং-এর এই নতুন ধোঁয়াশাকেই বলা হচ্ছে 'মেবিলেশনশিপ'।
আজকাল সম্পর্কগুলো আর আগের মতো সহজ নেই। আগে হয় আপনি সিঙ্গেল, না হলে প্রেমে আছেন। কিন্তু এখন মাঝখানে একটা তৃতীয় জগৎ তৈরি হয়েছে, যার নাম দিয়েছে জেন জি - 'মেবিলেশনশিপ'। Maybe + Relationship, এই দুটো শব্দ মিলিয়েই এই নতুন শব্দটি তৈরি হয়েছে। এর মানে হল, একটা সম্পর্ক হয়তো আছে, হয়তো নেই।
এই ফাঁদটা চিনবেন কীভাবে? ধরুন, আপনারা রোজ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলছেন, রিলস শেয়ার করছেন, রাতে ঘুমানোর আগে গুড নাইট বলছেন, সপ্তাহে একবার দেখাও করছেন, একে অপরের সব সুখ-দুঃখের সঙ্গীও। কিন্তু যখনই আপনি জিজ্ঞাসা করবেন, আমরা আসলে কী? তখনই উত্তর আসবে, "দেখা যাক, এখনই লেবেল দিতে চাই না", "আমি এখন কোনও কমিটমেন্টের জন্য রেডি নই", বা "আমরা তো ভালো বন্ধু, এটাই থাক না"।
আসলে এটাই হল মেবিলেশনশিপের সবচেয়ে বড় লক্ষণ। এখানে সম্পর্কের সব সুবিধা আছে, কিন্তু কোনও দায়িত্ব নেই। আপনার খারাপ সময়ে সে থাকবে, কিন্তু তার খারাপ সময়ে আপনি প্রশ্ন করলে সে বলবে আপনি বেশি ভাবছেন। এই সম্পর্কে একজন সবসময় আশায় থাকে যে হয়তো একদিন সম্পর্কটা সত্যি হবে, আর অন্যজন সেই আশাটাকেই ব্যবহার করে নিজের একাকীত্ব কাটায়।
মনোবিদরা বলছেন, এই ধরনের ঝুলে থাকা সম্পর্ক সবচেয়ে বেশি মানসিক ক্ষতি করে। কারণ এখানে আপনি না পারছেন সামনে এগোতে, না পারছেন সম্পর্কটা শেষ করে নতুন কাউকে খুঁজতে। সারাক্ষণ একটা অস্থিরতা কাজ করে, "ও আমাকে ভালোবাসে কি বাসে না?" এই অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি হয় অ্যাংজাইটি, ঘুমের সমস্যা এবং নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা।
আপনি যদি এই পরিস্থিতিতে থাকেন, তাহলে এখনই নিজেকে দুটো প্রশ্ন করুন। প্রথমত, এই সম্পর্কটা কি আপনাকে খুশির চেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে? দ্বিতীয়ত, গত তিন মাসে এই সম্পর্কটা কি একটুও এগিয়েছে? যদি দুটো উত্তরই নেতিবাচক হয়, তাহলে বুঝবেন আপনি মেবিলেশনশিপে আটকে গেছেন। এর থেকে বেরোনোর একমাত্র উপায় হল সরাসরি কথা বলা। তাকে স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করুন সে কী চায়। যদি সে আবারও ধোঁয়াশা তৈরি করে, তাহলে নিজের সম্মানের জন্য সেই দরজা বন্ধ করে দিন। মনে রাখবেন, একটি অস্পষ্ট সম্পর্কের চেয়ে স্পষ্ট একাকীত্ব অনেক ভালো।
