আপনি ধূমপান করেন না, তবুও হতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের ২০-২৫% মানুষ জীবনে কখনও ধূমপান করেননি। কেন এমন হচ্ছে? কী বলছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা, জেনে নিন বিস্তারিত।
আগে মনে করা হত ফুসফুসের ক্যান্সার মানেই ধূমপায়ীদের রোগ। কিন্তু সেই ধারণা এখন সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত। নামী অঙ্কোলজিস্টরা জানাচ্ছেন, এখন যাঁদের ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ছে, তাঁদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষই নন-স্মোকার। এমনকি মহিলা ও কম বয়সীদের মধ্যেও এই হার বাড়ছে। কিন্তু ধূমপান না করেও কেন হচ্ছে এই মারণ রোগ?
ডাক্তারদের মতে নন-স্মোকারদের ফুসফুস ক্যান্সারের ৫টি বড় কারণ:
১. বায়ু দূষণ - সবচেয়ে বড় ভিলেন: চিকিৎসকদের মতে, দিল্লি, কলকাতার মতো মেট্রো শহরে বায়ু দূষণই এখন ফুসফুস ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। বাতাসে থাকা PM 2.5, PM 10 এর মতো সূক্ষ্ম কণা সরাসরি ফুসফুসে ঢুকে কোষের ডিএনএ-কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। WHO-এর মতে, বায়ু দূষণকে এখন গ্রুপ ১ কার্সিনোজেন হিসেবে ধরা হয়।
২. প্যাসিভ স্মোকিং বা পরোক্ষ ধূমপান: আপনি সিগারেট খান না, কিন্তু আপনার পাশের মানুষটি খাচ্ছেন। এই পরোক্ষ ধূমপান সরাসরি ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। বাড়িতে বা অফিসে ক্রমাগত অন্যের সিগারেটের ধোঁয়া নিলে ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি ২০-৩০% বেড়ে যায়।
৩. রান্নাঘরের ধোঁয়া ও রেডন গ্যাস: গ্রামাঞ্চলে কাঠ, ঘুঁটে, কয়লার উনুনের ধোঁয়া এবং শহরেও রান্নার তেলের ধোঁয়া দীর্ঘদিন ধরে নিলে ফুসফুসের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে এই কারণে ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। এছাড়া মাটি ও পাথর থেকে নির্গত রেডন গ্যাস, যা গন্ধহীন, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে জমে থাকলে ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
৪. জেনেটিক বা বংশগত কারণ: পরিবারে কারও ফুসফুস ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেশি থাকে। বিশেষ করে EGFR, ALK-এর মতো জিন মিউটেশনের কারণে নন-স্মোকারদের মধ্যে, বিশেষ করে এশিয়ান মহিলাদের মধ্যে, অ্যাডেনোকার্সিনোমা নামক ফুসফুস ক্যান্সার বেশি দেখা যায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
৫. পেশাগত কারণ ও অ্যাসবেস্টস: যাঁরা ফ্যাক্টরি, খনি, নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অ্যাসবেস্টস, আর্সেনিক, ক্রোমিয়ামের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসেন, তাঁদের ঝুঁকি অনেক বেশি।
কী কী লক্ষণে সতর্ক হবেন?
- ৩ সপ্তাহের বেশি শুকনো কাশি যা কমছে না - কাশির সঙ্গে রক্ত - বুকে ব্যথা, শ্বাস নিতে কষ্ট - হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও ক্লান্তি - গলার স্বর বসে যাওয়া
চিকিৎসকরা বলছেন, ধূমপান না করলেও এই লক্ষণগুলো দেখলে অবহেলা করবেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ফুসফুস ক্যান্সার এখন সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। ধূমপান না করা, বায়ু দূষণ থেকে বাঁচতে মাস্ক ব্যবহার, বাড়িতে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন এবং নিয়মিত হেলথ চেকআপই পারে এই রোগ থেকে বাঁচাতে।
