Child Care: জন্মের পর শিশুর ঠোঁট, জিভ বা আঙুলের ডগা নীলচে দেখাচ্ছে? কাঁদলেই রং আরও গাঢ় হচ্ছে? সাবধান! এটি হতে পারে ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’। রক্তে অক্সিজেন কমে যাওয়ার এই মারাত্মক উপসর্গ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জন্মগত হৃদরোগের ইঙ্গিত দেয়। দেরি করলে প্রাণসংশয়। চিনে নিন ৫টি জরুরি সংকেত ও কী করবেন।
Child Care: বাড়িতে নতুন অতিথি এসেছে। কিন্তু খুশির মাঝেই খেয়াল করলেন, বাচ্চার ঠোঁট, জিভ বা হাত-পায়ের তালু কেমন যেন নীলচে বা বেগুনি দেখাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁদলে বা খাওয়ানোর সময় রংটা আরও গাঢ় হচ্ছে। অনেকেই ভাবেন ঠান্ডা লেগেছে। কিন্তু শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মোটেও হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। এটি ‘ব্লু বেবি সিনড্রোম’-এর লক্ষণ হতে পারে।
ব্লু বেবি সিনড্রোম আসলে কী? চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘সায়ানোসিস’। আমাদের রক্তে হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন বহন করে, তখন রক্তের রং হয় টকটকে লাল। কিন্তু যখন শরীরে বিশুদ্ধ অক্সিজেনযুক্ত রক্তের বদলে দূষিত রক্ত চলাচল করে, তখন ত্বক ও মিউকাস মেমব্রেন নীলচে দেখায়। নবজাতকের ক্ষেত্রে এর প্রধান কারণ জন্মগত হৃদরোগ বা Congenital Heart Disease (CHD)। এক্ষেত্রে হার্টের গঠনে ত্রুটির জন্য ফুসফুসে বিশুদ্ধ হওয়া রক্তের সাথে দূষিত রক্ত মিশে যায়।
অভিভাবকরা কোন ৫টি সংকেত চিনে রাখবেন? ১. ঠোঁট, জিভ, নখ নীলচে: শুধু হাত-পা ঠান্ডায় নীল হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু ঠোঁট, জিভ, মাড়ি বা বুকের ভিতর নীল হলে সেটা ‘সেন্ট্রাল সায়ানোসিস’। এটা বিপজ্জনক। কাঁদলে বা খাওয়ানোর সময় এই নীলচে ভাব বাড়ে। ২. ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানো: বাচ্চা দুধ টানতে গিয়ে হাঁপিয়ে যাচ্ছে, বারবার মুখ থেকে বোঁটা ছেড়ে দিচ্ছে। শ্বাসের গতি মিনিটে ৬০ বারের বেশি। বুকের পাঁজর বসে যাচ্ছে। ৩. ওজন না বাড়া ও দুর্বলতা: হার্টের সমস্যায় শিশুর ক্যালরি খরচ হয়ে যায় শ্বাস নিতেই। ফলে ওজন বাড়ে না। সবসময় ঝিমিয়ে থাকে, কান্নার জোরও কম। ৪. অতিরিক্ত ঘাম হওয়া: বিশেষ করে কপালে, মাথায়। খাওয়ানোর সময় বা ঘুমের মধ্যে বিনা কারণে ঘেমে যাওয়া হার্টের উপর চাপের লক্ষণ। ৫. ‘টেট স্পেল’ বা হঠাৎ নীল হয়ে যাওয়া: কাঁদতে কাঁদতে হঠাৎ শিশু গাঢ় নীল হয়ে যাচ্ছে, শরীর ছেড়ে দিচ্ছে, জ্ঞান হারাচ্ছে। একে ‘টেট স্পেল’ বলে। এটা ইমার্জেন্সি।
কী করবেন? এই লক্ষণ দেখলে এক মিনিটও দেরি নয়। নবজাতককে ‘নি-টু-চেস্ট’ পজিশনে রাখুন, অর্থাৎ হাঁটু ভাঁজ করে বুকের কাছে আনুন। এতে ফুসফুসে রক্তচলাচল বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের কাছে যান। ইকোকার্ডিওগ্রাফি করলেই হার্টের ত্রুটি ধরা পড়বে।
মনে রাখবেন, ১০০০ শিশুর মধ্যে ৮-৯ জন জন্মগত হৃদরোগ নিয়ে জন্মায়। কিন্তু সময়মতো ধরা পড়লে ৯০% ক্ষেত্রে অপারেশন করে সম্পূর্ণ সুস্থ জীবন দেওয়া সম্ভব। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতন হোন।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


