গরমে মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করছে কিন্তু চিনির ভয়? বানিয়ে ফেলুন ছাতুর হালুয়া। চিনি-গুড় কিছু লাগবে না। খেজুর আর এলাচ দিয়েই মিষ্টি। ছাতুতে আছে ২০% প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন। পেট ঠান্ডা রাখে, লু থেকে বাঁচায়। ডায়াবেটিস, ওজন কমানোর ডায়েটে পারফেক্ট। বাচ্চা থেকে বুড়ো সবাই খেতে পারবে। বানাতে লাগবে মাত্র ১০ মিনিট।

গরমে শরীর ছেড়ে দেয়, এনার্জি পাই না। মিষ্টি খেতে ইচ্ছে করে কিন্তু সুগার-প্রেশারের ভয়। বাইরের প্রোটিন বার, শেক কিনে পকেটও ফাঁকা।

সলিউশন আপনার রান্নাঘরেই আছে। মা-ঠাকুমার আমলের সুপারফুড, ছাতু। এটা দিয়েই বানান চিনি ছাড়া হালুয়া। টেস্টে মাখন, পুষ্টিতে বোমা।

গরমে ছাতু কেন খাবেন? ৩টে কারণ:

১. ন্যাচারাল প্রোটিন:

১০০ গ্রাম ছাতুতে ২০ গ্রাম প্রোটিন। ডিমের সমান। সাথে ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ভরপুর। জিম করেন বা ওজন কমাচ্ছেন? ছাতু আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড।

২. শরীর ঠান্ডা রাখে:

আয়ুর্বেদ বলে ছাতু শরীরের ভিতরের গরম টেনে নেয়। লু লাগে না, পেট ঠান্ডা থাকে। গ্যাস-অম্বল হয় না। এইজন্যই বিহার-UP তে গরমে ছাতুর শরবত মাস্ট।

৩. সুগার স্পাইক হয় না:

ছাতুর GI লো। মানে সুগার ধীরে বাড়ে। চিনি না দিয়ে খেজুর দিলে ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারবেন। পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, খাই খাই ভাব কমে।

চিনি ছাড়া ছাতুর হালুয়া: জলের মতো সহজ রেসিপি

১. ছাতু - ১ কাপ

২. খেজুর - ৮-১০টা, বীজ ফেলে ১৫ মিনিট গরম জলে ভিজিয়ে পেস্ট করা

৩. ঘি - ২ চামচ

৪. দুধ - ১.৫ কাপ, গরম। ভেগান হলে আমন্ড মিল্ক নিন

৫. এলাচ গুঁড়ো - ১/২ চামচ

৬. ড্রাই ফ্রুটস - কাজু, কিশমিশ, কাঠবাদাম কুচি ২ চামচ

বানানোর পদ্ধতি: ১০ মিনিটের তৈরি

স্টেপ ১: ছাতু ভাজুন

কড়াইতে ১ চামচ ঘি গরম করে ছাতু দিন। মিডিয়াম আঁচে ৩-৪ মিনিট নাড়ুন। কাঁচা গন্ধ চলে গিয়ে সুন্দর ভাজা গন্ধ বেরোলেই রেডি। পুড়িয়ে ফেলবেন না।

স্টেপ ২: দুধ মেশান

গ্যাস কমিয়ে ভাজা ছাতুতে আস্তে আস্তে গরম দুধ ঢালুন। এক হাতে ঢালবেন, অন্য হাতে নাড়বেন। নইলে দলা পাকিয়ে যাবে। ২ মিনিট নাড়ুন। মিশ্রণটা ঘন হয়ে আসবে।

স্টেপ ৩: মিষ্টি আর ফ্লেভার দিন

এবার খেজুর পেস্ট, বাকি ১ চামচ ঘি আর এলাচ গুঁড়ো দিয়ে দিন। ভালো করে মেশান। আরও ২ মিনিট নাড়ুন। হালুয়া কড়াই ছেড়ে দিলেই বুঝবেন হয়ে গেছে।

স্টেপ ৪: সাজিয়ে সার্ভ করুন

উপরে ড্রাই ফ্রুটস ছড়িয়ে গরম গরম সার্ভ করুন। ঠান্ডা করেও খেতে পারেন, টেস্ট দারুণ লাগে।

৩টে প্রো টিপস:

১. বেশি মিষ্টি চাইলে খেজুর ২-৩টে বাড়ান। গুড় দিতে চাইলে নামানোর পর ১ চামচ গুড়ের গুঁড়ো মেশান। গরমে চিনি দেবেন না।

২. হালুয়া বেশি ঘন লাগলে আরও একটু গরম দুধ বা জল মিশিয়ে নিন।

৩. বাচ্চাকে দিলে সাথে ১ চামচ চকোলেট পাউডার মিশিয়ে দিন। চেটেপুটে খাবে।

সকালের ব্রেকফাস্ট হোক বা বিকেলের খিদে, এই হালুয়া খান। পেট ভরবে, এনার্জি পাবেন, সুগারও বাড়বে না।