ভাত খেলে মোটা হবেন, রুটি খান’ - এই কথা শুনে হঠাৎ ভাত বাদ দিয়ে দিনে ৪-৫টা রুটি ধরেছেন তো? থামুন! ডায়েটিশিয়ানরা বলছেন, ভাত বাদ দিয়ে শুধু রুটি খাওয়া ওজন কমায় না, উল্টে বদহজম, অ্যাসিডিটি, দাঁত-মাড়ির ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য ডেকে আনে। ভাত-রুটির আসল ফারাক আর সঠিকভাবে ওজন কমানোর নিয়ম রইল।

জিমে গেলেই ট্রেনার বলেন "ভাত অফ, রুটি অন"। ইউটিউবেও ট্রেন্ড - ‘No Rice Diet’। ফলে বাঙালির থালা থেকে ভাত উধাও। জায়গা নিয়েছে শুকনো আটার রুটি। কিন্তু ২ মাস পরেই দেখা দিচ্ছে নতুন সমস্যা - পেট ফোলা, গ্যাস, দাঁতে ব্যথা, কোষ্ঠবদ্ধতা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

*ভুলটা কোথায় করছেন?*

পুষ্টিবিদ ড. অন্বেষা রায় বলছেন, "ভাত আর রুটিতে ক্যালোরির ফারাক খুব সামান্য। ১০ গ্রাম সেদ্ধ ভাতে ক্যালোরি ১৩০, ১টা মাঝারি রুটিতে ১২০। তাহলে মোটা হওয়ার জন্য ভাত দায়ী নয়, দায়ী আপনার প্লেটের পরিমাণ আর ঘি-তেল"।

*শুধু রুটি খেলে যে ৫টি রোগ ডাকছেন:*

*১. বদহজম ও গ্যাস:* আটায় গ্লুটেন থাকে। যাদের গ্লুটেন সেনসিটিভিটি আছে, তাদের পেট ফোলে, ঢেঁকুর ওঠে, অ্যাসিডিটি হয়। ভাতে গ্লুটেন নেই, তাই বাঙালির পেটের জন্য ভাত অনেক সহজপাচ্য।

*২. কোষ্ঠকাঠিন্য:* রুটির ফাইবার ‘ইনসলিউবল’। জল কম খেলে মল শক্ত হয়ে যায়। ভাতে থাকা স্টার্চ জলের সাথে মিশে পেট পরিষ্কার রাখে। হঠাৎ ভাত বন্ধ করলেই অনেকের পটির সমস্যা শুরু।

*৩. দাঁত ও মাড়ির ব্যথা:* আটা চিবোতে বেশি চাপ পড়ে। যাদের দাঁতের গোড়া নড়বড়ে বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, তাদের জন্য টানা রুটি খাওয়া যন্ত্রণার। ভাত নরম, তাই দাঁতের রোগীদের জন্য সেফ।

*৪. পুষ্টির ঘাটতি:* ভাতে ভিটামিন B1, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ থাকে। শুধু রুটি খেলে এই নিউট্রিয়েন্ট মিস হবে। ফলে ক্লান্তি, চুল পড়া, মুড সুইং আসবে।

*৫. থাইরয়েড-গ্লুকোজ ইমব্যালেন্স:* একটানা গ্লুটেন খেলে অন্ত্রের ভিলাই নষ্ট হয়। ফলে খাবার থেকে পুষ্টি শোষণ কমে। থাইরয়েড ও সুগারের রোগীদের ওষুধ কাজ করে না ঠিকমতো।

*তাহলে ওজন কমাবেন কীভাবে? পুষ্টিবিদের ৩টি সোনার নিয়ম:*

*নিয়ম ১: ভাত বাদ নয়, পরিমাণ ঠিক করুন*

দিনে ১ কাপ সেদ্ধ ভাত + প্রচুর সবজি + ডাল + প্রোটিন। ভাত খাওয়ার পর ২০ মিনিট হাঁটুন। ভাতেই ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ থাকে যা পেট ভরায়, মোটা করে না।

*নিয়ম ২: রুটি-ভাত ‘রোটেশন’ করুন*

সকালে ২টো রুটি, রাতে ১ কাপ ভাত। বা সপ্তাহে ৪ দিন ভাত, ৩ দিন রুটি। শরীরও বোর হবে না, পুষ্টিও ব্যালেন্স থাকবে।

*নিয়ম ৩: রুটিটা হেলদি করুন*

শুধু আটা নয়, মেশান ছোলা, জোয়ার, বাজরা, ইসবগুলের ভুসি। আর রুটির সাথে আলু-পরোটা নয়, সবজি-ডিম-পনির খান।

*শেষ কথা:*

ওজন কমাতে গিয়ে ভাতকে ‘ভিলেন’ বানাবেন না। ভাত-রুটি দুটোই কার্বোহাইড্রেট। আসল খেলা ক্যালোরি ডেফিসিট আর প্রোটিনের। বাঙালির DNA-তে ভাত আছে। সেটা ছেড়ে দিলে শরীরই প্রতিবাদ করবে বদহজম-গ্যাস দিয়ে। তাই ‘ডায়েট’ নয়, ‘ব্যালেন্স ডায়েট’ করুন।