দিল্লিতে অফিসের কাজে এসে হাতে ২ দিন ফাঁকা সময় আছে? মাত্র ৬০০০ টাকা বাজেটেই ঘুরে আসুন আগ্রা, জয়পুর, ঋষিকেশ, ল্যান্সডাউন ও আলোয়ারের মতো ৫টি সেরা জায়গা। রইল কী করবেন, কী খাবেন তার সম্পূর্ণ গাইড।
অনেক সময়ই অফিসের কাজে দিল্লি যেতে হয়, কিন্তু কাজ মিটে যাওয়ার পর হাতে ১-২ দিন বাড়তি সময় থেকে যায়। সেই সময়টা হোটেলের ঘরে বসে সিনেমা দেখে বা ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়াটা বোকামি। কারণ দিল্লিকে কেন্দ্র করে চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, পাহাড়, জঙ্গল আর অ্যাডভেঞ্চারে ভরা অসংখ্য জায়গা। আর সবচেয়ে বড় কথা, এর জন্য পকেটে লাখ টাকা থাকার দরকার নেই। হাতে যদি মাত্র ৬০০০ টাকা থাকে আর একটু প্ল্যানিং করে চলেন, তাহলে যাতায়াত, থাকা, খাওয়া সহ এই ৫টি জায়গা খুব সহজেই ঘুরে নিতে পারবেন। চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই লিস্ট।
১. আগ্রা
দিল্লি থেকে মাত্র ৩ ঘণ্টার দূরত্বে আগ্রা হল সবচেয়ে সহজ ট্রিপ। এখানে গিয়ে প্রথমেই তাজমহল দেখে নিন, সকালে গেলে ভিড় কম পাবেন। তারপর আগ্রা ফোর্ট এবং মেহতাব বাগ থেকে তাজমহলের সুন্দর ভিউ পাবেন। এখানে কী করবেন? যমুনা নদীর ধারে বসে সময় কাটান আর তাজমহলের সামনে ফটো তুলুন। কী খাবেন? আগ্রার বিখ্যাত পেঠা এবং বেড়াই-সবজি অবশ্যই খাবেন। দিল্লি থেকে ট্রেনে ২০০-৪০০ টাকায় যাতায়াত হয়ে যাবে আর ৮০০ টাকায় হোটেল পেয়ে যাবেন।
২. জয়পুর
রাজকীয় আমেজ পেতে চাইলে জয়পুর বেস্ট। এখানে গিয়ে হাওয়া মহল, আমের ফোর্টে হাতির পিঠে চড়া এবং সিটি প্যালেস ঘুরে দেখুন। সন্ধ্যায় চকি ধানি রিসোর্টে রাজস্থানী কালচার উপভোগ করতে পারেন। কী করবেন? জোহরি বাজারে শপিং করুন, রাজস্থানী জুতি আর গয়না খুব বিখ্যাত। কী খাবেন? এখানকার দাল-বাটি-চুরমা, গাট্টে কি সবজি আর লস্যি না খেলে মিস করবেন। দিল্লি থেকে বাসে ৫০০ টাকায় পৌঁছে যাবেন।
৩. ঋষিকেশ
শান্তি আর অ্যাডভেঞ্চার দুটোই চাইলে ঋষিকেশ চলে যান। এখানে গিয়ে সকালে যোগ ক্লাস করুন, তারপর লক্ষ্মণ ঝুলা ও রাম ঝুলা হেঁটে পার হন। বিকেলে ত্রিবেণী ঘাটে গঙ্গা আরতি দেখা মাস্ট। কী করবেন? রিভার রাফটিং করুন, খরচ ১০০০-১২০০ টাকা, আর বিটলস আশ্রমে ঘুরে আসুন। কী খাবেন? এখানে আমিষ পাবেন না, তবে জার্মান বেকারির প্যানকেক, লিটল বুদ্ধ ক্যাফের খাবার দারুণ। থাকা খাওয়া খুব সস্তা।
৪. ল্যান্সডাউন
ভিড় একদম পছন্দ না করলে ল্যান্সডাউন আপনার জন্য। এটি একটি ছোট্ট, নিরিবিলি হিল স্টেশন। এখানে গিয়ে টিপ-এন-টপ ভিউ পয়েন্ট থেকে হিমালয় দেখুন, ভুল্লা লেকে বোটিং করুন। কী করবেন? সকালে জঙ্গলে ট্রেকিং করুন, সেন্ট মেরি চার্চে সময় কাটান। কী খাবেন? এখানে তেমন বড় রেস্টুরেন্ট নেই, তবে স্থানীয় ধাবায় গরম মোমো, ম্যাগি আর চা খেতে দারুণ লাগবে। দিল্লি থেকে কোটদ্বার হয়ে যেতে হয়।
৫. আলোওয়ার
একদিনের ছুটিতে ঘুরতে চাইলে আলোয়ার পারফেক্ট। দিল্লি থেকে মাত্র ১৬০ কিমি। এখানে গিয়ে আলোয়ার ফোর্টে ট্রেক করুন, সিলিসেঢ় লেকে বোটিং করুন। পাশেই সরিস্কা টাইগার রিজার্ভ আছে, সাফারি করতে পারেন। কী করবেন? ভানগড়ের ভুতুড়ে কেল্লা দেখে আসুন, দারুণ অ্যাডভেঞ্চার হবে। কী খাবেন? আলোয়ারের বিখ্যাত মিল্ক কেক বা আলোয়ার কা মাওয়া অবশ্যই কিনে আনবেন, আর রাজস্থানী কচুরি খাবেন।


