আজকের গোয়া মানেই EDM, ক্যাসিনো, ৫০০ টাকার বিয়ার। কিন্তু ৯০ দশকের গোয়া ছিল অন্য গ্রহ। বাগা বিচে বিদেশি হিপ্পিরা আগুন জ্বালিয়ে গিটার বাজাত। দুপুর ১টা-৪টে গোটা গোয়া ঘুমাতো সিয়েস্তায়। পডের আসত সাইকেলে, গরম পাঁউরুটির গন্ধে ঘুম ভাঙত। 

আজ গোয়া গেলে মোবাইল টাওয়ার, রেভ পার্টি, রাশিয়ান মেনু। কিন্তু ৯০ দশকে যারা গোয়া দেখেছে, তারা জানে আসল গোয়া কেমন ছিল। তখন Google Map ছিল না, ছিল লোকের কথায় রাস্তা চেনা। বুকিং ডট কম ছিল না, ছিল বিচের ধারে ‘Room Available’ বোর্ড। চলুন ৫টা স্মৃতি হাতড়ে দেখি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দুপুর ১টা মানেই কারফিউ: সিয়েস্তা কালচার: এখন পাঞ্জিমে দুপুর ২টোয় শপিং মল গমগম করে। ৯০ দশকে ১টা বাজলেই ঝাঁপ বন্ধ। 

১. গোটা শহর ঘুমাতো: দোকান, ব্যাংক, পোস্ট অফিস—সব বন্ধ। রাস্তায় কুকুরও থাকত না। কারণ গোয়ানরা মানত ‘Sossegado’। মানে শান্তিতে ঘুম। 

২. বিকেল ৪টেয় জাগত গোয়া: সিয়েস্তা ভাঙার পর পর্তুগিজ বাড়ির বারান্দায় চেয়ার পড়ত। চা-ফেনী-গল্প। সন্ধ্যা ৭টায় আবার সব বন্ধ। 

৩. এখন? সিয়েস্তা উঠে গেছে। টুরিস্টের চাপে ২৪ ঘণ্টা খোলা। পুরনো লোকেরা বলে, ‘গোয়া তার ঘুম হারিয়েছে’।

২. পডেরের হর্ন: অ্যালার্ম ঘড়ি লাগত না Swiggy-Zomato ছিল না। ছিল সাইকেলওয়ালা পডের। ১. ‘পাঁউ-পাঁউ’ ডাক: ভোর ৬টায় সাইকেলের পিছনে টিনের বাক্স নিয়ে আসত পডের। হর্ন বাজাত ‘পোঁ...পোঁ’। সেই আওয়াজে ঘুম ভাঙত। গরম পাঁউরুটি, কাকন, বান। ২. খাতায় হিসাব: রোজ নিতেন, মাস শেষে মালিক এসে খাতা মেলাত। বিশ্বাসে চলত। দাম? ৫টা পাঁউরুটি ২ টাকা। ৩. এখন? পডের আছে, কিন্তু সুপারমার্কেটের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে। প্লাস্টিকে মোড়া ব্রেড, হর্নের আওয়াজ আর শোনা যায় না।

৩. আঞ্জুনার হিপ্পি: ডলার নয়, গল্পে পেমেন্ট: এখন আঞ্জুনা ফ্লি মার্কেট মানেই ৫০০ টাকার লুঙ্গি। ৯০-এ ছিল অন্য ছবি। ১. আসল হিপ্পি: জার্মানি, ইজরায়েল থেকে আসা হিপ্পিরা বিচে কুঁড়ে বানিয়ে মাসের পর মাস থাকত। গিটার, ড্রাম, আগুন। পুলিশ ধরত না। ২. বার্টার সিস্টেম: ওরা ঘাড়ের মাফলার, কানের দুল, হাতে বানানো পেইন্টিং দিয়ে ভাত-ডাল কিনত। টাকা ছিল না, ছিল গল্প। ৩. ওয়েডনেসডে মার্কেট: আঞ্জুনা মার্কেট শুরুই হয়েছিল হিপ্পিদের হাত ধরে। পুরনো জিন্স, বই, ক্যাসেট বিক্রি হত গাছের তলায়। এখন ব্র্যান্ডেড স্টল।

৪. তাভেরনা: ৫ টাকায় ফেনী, ফ্রি-তে গল্প কিংফিশার টাওয়ার ছিল না। ছিল গ্রামের তাভেরনা। ১. মাটির কুঁড়ে বার: বাঁশের বেঞ্চ, ভাঙা টেবিল। ৫ টাকায় কাজু ফেনী, ২ টাকায় নারকেল ফেনী। সাথে ফ্রি চানাচুর আর গ্রামের খবর। ২. তাভেরনেইরো কাকা: মালিক নিজে ঢালত। কাস্টমার সব চেনা। নতুন লোক দেখলে জিজ্ঞেস করত ‘কোথা থেকে? কদিন থাকবে?’ ৩. এখন? তাভেরনা ভেঙে হয়েছে ‘Tito’s’ আর ‘Cafe Mambo’। ফেনী ১২০ টাকা শট। গল্প নেই, DJ আছে।

৫: কালো-হলুদ স্কুটার: গোয়ার Ola-Uber App ক্যাব ছিল না। ছিল পাইলট। ১. বাজাজ চেতক ট্যাক্সি: ড্রাইভারের পিছনে বসতে হত। হেলমেট? প্রশ্নই নেই। পাঞ্জিম থেকে কালাঙ্গুট ২০ টাকা। ২. রাস্তা চিনত না, মানুষ চিনত: ‘কার্লোসের বাড়ি যাব’ বললেই নিয়ে যেত। GPS লাগত না। ৩. রাত ৮টার পর বন্ধ: পাইলট বলত ‘ঘর যাও, বাবা বকবে’। রাত ৯টায় গোটা গোয়া শুনশান। এখন রাত ৩টেয় রেভ চলে।

সেই গোয়া আর নেই। আছে কংক্রিট, ক্যাসিনো, ট্রাফিক। পুরনো গোয়ানরা বলে, ‘আমরা গোয়া বিক্রি করে দিয়েছি’। আপনি ৯০ দশকের গোয়া দেখেছেন? আপনার কোন স্মৃতিটা সবচেয়ে প্রিয়?