পুজোয় দার্জিলিং যাওয়ার প্ল্যান করছেন? তাহলে আপনার জন্য দারুণ খবর। দার্জিলিং ঘুম জয়রাইড তো আছেই, এবার DHR চালু করছে পাগলাঝোড়া রুটে দুটি নতুন জয়রাইড - 'মুক্তধারা' ও 'রেড পান্ডা'।

পুজোয় দার্জিলিং যাওয়ার প্ল্যান করছেন? তাহলে আপনার জন্য দারুণ খবর। দার্জিলিং ঘুম জয়রাইড তো আছেই, এবার DHR চালু করছে পাগলাঝোড়া রুটে দুটি নতুন জয়রাইড - 'মুক্তধারা' ও 'রেড পান্ডা'। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মুক্তধারা' নাটকের নামে এই ট্রেনের নামকরণ। কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত ১৬ কিমি পথে ঝর্ণা, মেঘ আর পাহাড়ের বুক চিরে চলবে এই হেরিটেজ রাইড। ভাড়া শুরু মাত্র ১০৩০ টাকা থেকে।

পুজো মানেই বাঙালির পাহাড়ে ছোটা। আর পাহাড় মানেই টয়ট্রেন। কিন্তু প্রতিবার দার্জিলিং-ঘুম জয়রাইডের টিকিটের যা চাহিদা, তাতে অনেকেই ফিরে আসেন খালি হাতে। সেই সমস্যা মেটাতে এবং পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিতে এবার বড় চমক দিল বিশ্ব ঐতিহ্য দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)।

এবার পুজোয় চালু হচ্ছে পাগলাঝোড়া⁷ রুটে দুটি ব্র্যান্ড নিউ জয়রাইড।

ইতিহাসের সঙ্গে প্রকৃতির মেলবন্ধন - 'মুক্তধারা' জয়রাইড

এই নতুন জয়রাইডের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর নাম ও এর রুট। DHR-এর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই পরিষেবার নাম রাখা হয়েছে 'মুক্তধারা'।

কেন এই নাম? সালটা ১৯২২। কার্শিয়াং-এর কাছে পাগলাঝোড়া ঝর্ণার অঝোর ধারা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই ঝর্ণার বাঁধনহারা স্রোত থেকেই তিনি লিখে ফেলেছিলেন তাঁর কালজয়ী নাটক 'মুক্তধারা'। কবিগুরুর সেই স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই এই নামকরণ। অর্থাৎ আপনি যখন এই ট্রেনে চড়বেন, আপনি শুধু প্রকৃতি দেখবেন না, ছুঁয়ে আসবেন ইতিহাসকেও।

এই রাইডটি কার্শিয়াং থেকে মহানদী পর্যন্ত যাবে এবং ফিরে আসবে। পুরো রাস্তাটাই অসম্ভব সুন্দর, ঘন সবুজে মোড়া, মাঝে পড়বে সেই বিখ্যাত পাগলাঝোড়া ওয়াটারফলস, যার উপর দিয়ে ট্রেনটি যাবে। বর্ষার পর পাগলাঝোড়া থাকে তার সবচেয়ে সুন্দর রূপে।

সময় ও ভাড়ার সম্পূর্ণ তালিকা:

DHR জানিয়েছে, ১লা অক্টোবর, ২০২৬ থেকে এই পরিষেবা শুরু হবে।

১. মুক্তধারা (ডিজেল ইঞ্জিন):

- রুট: কার্শিয়াং - মহানদী - কার্শিয়াং (রাউন্ড ট্রিপ)

- দূরত্ব: ১৬ কিমি (যাওয়া-আসা মিলিয়ে)

- ছাড়ার সময়: কার্শিয়াং থেকে দুপুর ৩.১৫ মিনিটে

- ফেরার সময়: মহানদী থেকে বিকেল ৪.০০ টায়

- ভাড়া: জনপ্রতি ১,০৩০ টাকা

২. রেড পান্ডা (স্টিম ইঞ্জিন):

যারা আসল হেরিটেজ অনুভব করতে চান, কালো ধোঁয়া উড়িয়ে ছুটে চলা স্টিম ইঞ্জিনের আওয়াজ শুনতে চান, তাদের জন্য রেড পান্ডা।

- রুট: কার্শিয়াং - মহানদী - কার্শিয়াং (রাউন্ড ট্রিপ)

- ছাড়ার সময়: কার্শিয়াং থেকে সকাল ৯.০০ টায়

- ফেরার সময়: মহানদী থেকে সকাল ১০.০০ টায়

- ভাড়া: জনপ্রতি ১,৫৩০ টাকা

আরও ৪টি স্পেশাল জয়রাইড:

শুধু এই দুটিই নয়, পুজোর সময় দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত আরও ৪টি স্পেশাল সিঙ্গেল ট্রিপ জয়রাইড চালাবে DHR। সেগুলো ডিজেল ইঞ্জিনে চলবে এবং ভাড়া থাকবে ৮০০ টাকা।

টিকিট বুক করবেন কীভাবে?

- IRCTC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট http://www.irctc.co.in থেকে বুক করতে পারবেন।

- এছাড়া NJP, দার্জিলিং, ঘুম ও কার্শিয়াং স্টেশনের কাউন্টার থেকেও টিকিট পাওয়া যাবে।

- পুজোর আগেই বুকিং শুরু হয়ে যাবে, তাই দেরি না করে এখনই প্ল্যান করে ফেলুন।

এবার পুজোয় পাহাড়ে গেলে শুধু ম্যালে বসে কফি খাওয়া নয়, পাগলাঝোড়ার জলকণা গায়ে মেখে মুক্তধারার মতো বাঁধনহারা একটা জার্নি করে আসুন।