Weight Loss News: ভাত না রুটি, কোনটা বেশি উপকারী সেটা আপনার শরীরের উপর নির্ভর করে। ওজন কমাতে ও ডায়াবেটিসে গমের আটার রুটি ভালো কারণ এতে ফাইবার বেশি, GI কম। হজমের সমস্যা, দুর্বলতা বা গ্লুটেন অ্যালার্জি থাকলে ভাত বেটার। সাদা ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস বা লাল চাল খেলে পুষ্টি বেশি মেলে। পরিমাণ আর টাইমিং ঠিক রাখলে দুটোই স্বাস্থ্যকর।

Weight Loss News: দুপুরে অফিসের ক্যান্টিনে গিয়ে রোজ একটাই কনফিউশন। ভাত নেব না রুটি? মা বলে ভাত খেলে গায়ে জোর হয়। জিমের ট্রেনার বলে রুটি খেলে পেট কমবে। ডাক্তার আবার বলে দুটোই মেপে খাও। আসলে কার কথা শুনবেন?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সত্যি বলতে, ভাত-রুটির লড়াইয়ে কেউই একা জেতে না। আপনার বয়স, ওজন, রোগ, কাজের ধরন সব দেখে ঠিক হয় কোনটা আপনার জন্য বেটার।

১. ক্যালোরি ও ওজন:

১০০ গ্রাম সাদা ভাতে ক্যালোরি ১৩০, আর ১০০ গ্রাম গমের আটার রুটিতে ৩৪০। শুনে মনে হবে ভাতই ভালো। কিন্তু ১০০ গ্রাম মানে ১ কাপ ভাত, যেখানে ১টা রুটি ৩০ গ্রাম। হিসাব করলে ১ কাপ ভাত = ৩টে রুটির ক্যালোরি প্রায় সমান। আসল তফাৎ ফাইবারে। রুটিতে ফাইবার ৪ গুণ বেশি। তাই পেট ভরা থাকে, খিদে কম পায়। ওজন কমাতে চাইলে রুটি এগিয়ে।

২. সুগার ও ডায়াবেটিস:

এখানে ভাত অনেকটা পিছিয়ে। সাদা ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স GI ৭৩, যেখানে আটার রুটির GI ৬২। মানে ভাত খেলে ব্লাড সুগার খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে। ডায়াবেটিস রোগী বা যাদের সুগার বর্ডারলাইনে, তাদের জন্য রুটি সেফ। তবে ভাত একদম বাদ নয়। ব্রাউন রাইস বা ঢেঁকি ছাঁটা চালের GI কম, ফাইবারও বেশি।

৩. হজম ও পুষ্টি:

ভাত হজম হয় তাড়াতাড়ি। পেট খারাপ, জ্বর বা অপারেশনের পর ডাক্তাররা তাই ভাত খেতে বলেন। ভাতে গ্লুটেন নেই। যাদের গ্লুটেনে অ্যালার্জি বা সিলিয়াক ডিজিজ আছে, তাদের জন্য ভাতই ভরসা। অন্যদিকে রুটিতে প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন B বেশি। খেটে খাওয়া মানুষের জন্য রুটি বেশি এনার্জি দেয়।

৪. কখন কোনটা খাবেন? ডাক্তারি রুটিন:

ওজন কমাতে চাইলে:

দুপুরে ২টো রুটি + প্রচুর সবজি + ডাল + চিকেন/ফিশ। রাতে ১টা রুটি বা ১/২ কাপ ব্রাউন রাইস। রাত ৮টার পর ভাত এড়িয়ে চলুন। ভাত খেলে ঘুমের আগে সুগার বাড়বে, ফ্যাট জমবে।

ডায়াবেটিস থাকলে:

সাদা ভাত বাদ। ব্রাউন রাইস খেলেও ১ কাপের বেশি নয়, সাথে ডাল-সবজি মিশিয়ে খান। রুটি বেটার অপশন। আটার সাথে ছোলার ছাতু বা জোয়ারের আটা মেশালে GI আরও কমবে।

গ্যাস-অম্বল বা IBS থাকলে:

অনেকের রুটি হজম হয় না, গ্যাস হয়। তাদের জন্য ভাত ভালো। ভাত হালকা, পেট ঠান্ডা রাখে। তবে ভাতের সাথে বেশি ডাল বা আলু খেলে গ্যাস হতে পারে।

বডি বানাতে চাইলে:

জিম যারা করেন তাদের কার্ব দরকার। ভাতে কার্ব বেশি, তাড়াতাড়ি এনার্জি দেয়। ওয়ার্কআউটের ২ ঘণ্টা আগে ১ কাপ ভাত + চিকেন খেলে স্ট্যামিনা বাড়বে।

তাহলে শেষ কথা কী?

১. ভাত খারাপ নয়, রুটিও অমৃত নয়। আসল ভিলেন হল পরিমাণ। থালা ভরে ভাত বা ৬টা রুটি খেলে দুটোই ওজন বাড়াবে।

২. সাদা ভাতের বদলে ব্রাউন রাইস, লাল চাল, বাসমতি ট্রাই করুন। ময়দার রুটি বাদ দিয়ে আটার রুটি, জোয়ার-বাজরার রুটি খান।

৩. রাতে হালকা খান। পারলে রাতে ভাত এড়িয়ে রুটি বা সুপ খান। ঘুম ভালো হবে।

৪. যেটা খেয়ে আপনার শরীর ভালো থাকে, এনার্জি পান, সেটাই আপনার জন্য বেস্ট।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।