দার্জিলিংয়ের ভিড় আর দাম দেখে মন খারাপ? এই বর্ষায় একদম অন্যরকম অভিজ্ঞতার জন্য চলে যান উত্তরবঙ্গের অফবিট গ্রাম জৌবাড়ি। মেঘে ঢাকা পাহাড়, চা বাগান আর নদীর শব্দ - শান্তি খুঁজতে এর থেকে ভালো জায়গা হয় না।

বর্ষা মানেই পাহাড়। আর পাহাড় বলতেই আমরা সবাই ছুটি দার্জিলিং। কিন্তু সেখানে গিয়ে যেটা পাই সেটা হল কংক্রিটের জঙ্গল, গাড়ির লম্বা লাইন আর হোটেলের মোটা বিল। দুটো দিন শান্তিতে বসে চা খাওয়ারও জো নেই।

তাই এইবার একটু অন্যরকম ভাবুন। দার্জিলিং থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বেই আছে একটা ছোট্ট গ্রাম, নাম জৌবাড়ি। নামটা হয়তো নতুন, কিন্তু জায়গাটা একদম মনের মতো। বর্ষায় এই গ্রামটা যেন সবুজের চাদর গায়ে জড়িয়ে নেয়। চারপাশে শুধু চা বাগান আর পাহাড়। সকালবেলা ঘুম ভাঙবে মেঘের ভেজা গন্ধে আর পাখির ডাকে। এখানে কোনো হইচই নেই, শুধু আছে প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দ।

গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে একটা ছোট্ট পাহাড়ি নদী। বর্ষায় সেই নদীর জল বেড়ে যায় আর তার আওয়াজ দূর থেকেও শোনা যায়। নদীর ধারে একটা পাথরের উপর বসে হাতে গরম চা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দেওয়া যায়। মেঘ এসে মাঝে মাঝে আপনাকে ছুঁয়ে চলে যাবে। ফটো তুলতে ভালোবাসলে এই জায়গা আপনার জন্য স্বর্গ।

শুধু শান্ত পরিবেশই নয়, যাঁরা ট্রেকিং করতে ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে জৌবাড়ির আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। এখান থেকে খুব কাছেই রয়েছে মানেভঞ্জন, সুখিয়াপোখরি এবং সিঙ্গালিলা জাতীয় উদ্যান। ফলে একদিকে যেমন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়, তেমনই অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদও মেলে সমান ভাবে।

থাকার জন্য এখানে বড় হোটেল পাবেন না। ভরসা স্থানীয়দের হোমস্টে। কাঠের ছোট্ট ঘর, জানলা দিয়ে পাহাড় দেখা যায় আর খাবার একদম ঘরোয়া। গরম ভাত, ডাল আর পাহাড়ি সবজি - অমৃত লাগবে। সকালে ইচ্ছে হলে ভিজতে ভিজতে চা বাগানের মধ্যে দিয়ে হেঁটে আসুন, বা গ্রামের কাছের ছোট ঝর্ণাটা দেখে আসুন।

*কী ভাবে যাবেন?*

শিলিগুড়ি থেকে জৌবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিলোমিটার এবং দার্জিলিং শহর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার। শিলিগুড়ি থেকে সহজেই প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে পৌঁছে যাওয়া যায়। আবার দার্জিলিং ভ্রমণের সঙ্গে জৌবাড়িকেও অনায়াসে যুক্ত করা যায়। দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে এই শান্ত পাহাড়ি গ্রামে এক রাত কাটিয়ে নিলে ভ্রমণের স্মৃতি হয়ে উঠবে আরও বিশেষ। যাওয়াটাও খুব ঝামেলার না। নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে ৪-৫ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। শুধু বর্ষার সময় পাহাড়ি রাস্তায় একটু সাবধানে যাবেন।

এই বর্ষায় যদি সত্যি মনটাকে রিফ্রেশ করতে চান, তাহলে ব্যাগে দার্জিলিংয়ের বদলে জৌবাড়ি লিখে ফেলুন। এখানে ভিড় নেই, শুধু আপনি, বৃষ্টি আর পাহাড়। ২-৩ দিনের জন্য এর থেকে ভালো ঠিকানা আর হয় না।