পেঁয়াজ কাটার সময় চোখে জল আসা একটি সাধারণ সমস্যা, যার কারণ পেঁয়াজের মধ্যে থাকা একটি বিশেষ গ্যাস। তবে পেঁয়াজ ঠান্ডা করা, ধারালো ছুরি ব্যবহার করা, বা পাশে মোমবাতি জ্বালানোর মতো কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে এই সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। 

রান্নাঘরে ঢুকে পেঁয়াজ কাটতে গেলেই চোখে জলের ধারা, এই সমস্যাটা প্রায় সবার। অনেক সময় এতটাই অসুবিধা হয় যে কাজ করাই মুশকিল হয়ে যায়। আসলে, পেঁয়াজের মধ্যে থাকা একটা বিশেষ গ্যাস চোখের সংস্পর্শে এলেই জ্বালা করে, আর তাতেই জল আসে। তবে ভালো খবর হল, কয়েকটা সহজ আর স্মার্ট কৌশল জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে সহজেই বাঁচা যায়। আর এক ফোঁটাও চোখের জল না ফেলে পেঁয়াজ কাটা যায়।

কাটার আগে পেঁয়াজ ঠান্ডা করে নিন

পেঁয়াজ কাটার ১০-১৫ মিনিট আগে ফ্রিজে রেখে দিন। ঠান্ডা হয়ে গেলে পেঁয়াজের ভেতরের গ্যাস অনেক কম বের হয়, ফলে চোখে জ্বালা করে না। এটা খুব সহজ কিন্তু দারুণ কাজের একটা উপায়, যা আপনি রোজকার জীবনে কাজে লাগাতে পারেন।

ধারালো ছুরি ব্যবহার করুন

পেঁয়াজ কাটার সময় সবসময় ধারালো ছুরি ব্যবহার করুন। ভোঁতা ছুরি পেঁয়াজকে থেঁতলে দেয়, যার ফলে বেশি গ্যাস বের হয় এবং চোখে জল আসে। ধারালো ছুরি সহজেই পেঁয়াজ কেটে ফেলে, তাই সমস্যাও কম হয়।

পেঁয়াজ কাটার আগে কাছে জল ভর্তি পাত্র রাখুন

পেঁয়াজ কাটার সময় পাশে এক বাটি জল রাখুন। এতে পেঁয়াজ থেকে বের হওয়া গ্যাস আপনার চোখ পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই জলে মিশে যাবে। যাদের চোখে খুব বেশি জ্বালা করে, তাদের জন্য এই উপায়টা বিশেষ করে খুব উপকারী।

চশমা বা গগলস পরুন

যদি আপনার চোখে খুব বেশি জল আসে, তাহলে পেঁয়াজ কাটার সময় সাধারণ চশমা বা সানগ্লাস পরতে পারেন। এটা একটা বাধা তৈরি করে, যা গ্যাসকে সরাসরি চোখে পৌঁছাতে দেয় না। ফলে আপনি কোনও রকম অসুবিধা ছাড়াই কাজ করতে পারবেন। যদিও উপায়টা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে, তবে এটা বেশ কার্যকর।

মোমবাতির কৌশল

অনেক বাড়িতেই মনে করা হয় যে পেঁয়াজ কাটার সময় পাশে একটা জ্বলন্ত মোমবাতি রাখলে চোখের জ্বালা কমে। মোমবাতির শিখা পেঁয়াজ থেকে বের হওয়া গ্যাসকে নিজের দিকে টেনে নেয়, ফলে আপনার চোখে তার প্রভাব কমে যায়। এটি একটি সহজ এবং বহু পরীক্ষিত ঘরোয়া টোটকা।

জেনে নিন চোখে জ্বালা করে কেন?

পেঁয়াজের মধ্যে থাকা সালফার সমৃদ্ধ গ্যাস হাওয়ায় মিশে গিয়ে চোখে লাগে, যার ফলে জ্বালা হয় এবং জল পড়তে শুরু করে। অনেকেই পেঁয়াজকে জলের ধারার নীচে রেখে কাটেন বা ফ্রিজে রাখেন, তবে এই উপায়গুলো সব সময় পুরোপুরি কাজ করে না।