পুজো এসে গেল, কিন্তু মুখে ব্রণ, চোখের তলায় কালি, ত্বক নিষ্প্রাণ? মানসিক চাপের প্রভাব পড়ে ত্বকেও। পুজোর আগে স্ট্রেসড স্কিন থেকে মুক্তি পেয়ে কীভাবে ফিরে পাবেন ঝকঝকে গ্লো, রইল ৫টি সহজ উপায়।

পুজো মানে নতুন জামা, ঘোরা, আড্ডা আর একগাদা ছবি। কিন্তু আয়নার সামনে দাঁড়ালেই মন খারাপ? কাজের চাপ, রাত জাগা, টেনশনে মুখে হঠাৎ ব্রণ, ত্বক খসখসে, চোখের নিচে কালি, ঠোঁট ফাটা? এর নামই 'স্ট্রেসড স্কিন'।

*কেন স্ট্রেস ত্বকে ফুটে ওঠে?*

মানসিক চাপ বাড়লেই শরীরে কর্টিসল হরমোন বাড়ে। কর্টিসল বাড়লে সিবাম বা তেলের ক্ষরণ বেড়ে যায়, ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি হয়। আবার ঘুম কম হলে কোলাজেন ভাঙে, ত্বক পাতলা ও নির্জীব লাগে। স্ট্রেসে স্কিন ব্যারিয়ার দুর্বল হয়ে যায়, তাই ত্বক জল ধরে রাখতে পারে না, ফলে টানটান ভাব, লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়।

*পুজোর আগে স্ট্রেসড স্কিন থেকে মুক্তির ৫ টোটকা:*

*১. ঘুমই সেরা নাইট ক্রিম:* দিনে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম মাস্ট। রাত ১১টার মধ্যে ঘুমানোর চেষ্টা করুন। ঘুমের সময়ই ত্বক নিজেকে মেরামত করে। ঘুমের আগে ফোন স্ক্রোল বন্ধ করুন, বালিশে ল্যাভেন্ডার অয়েল দিতে পারেন।

*২. স্কিনকেয়ারে 'লেস ইজ মোর':* স্ট্রেসড স্কিনে ১০টা প্রোডাক্ট নয়। সকালে - মাইল্ড ক্লিনজার + হায়ালুরনিক অ্যাসিড + ময়েশ্চারাইজার + সানস্ক্রিন। রাতে - ক্লিনজার + সিরামাইড যুক্ত ময়েশ্চারাইজার। সপ্তাহে ২ বার ওটস ও মধুর প্যাক।

*৩. ভেতর থেকে গ্লো:* জল খান অন্তত ৩ লিটার। চা, কফি, চিনি, ফাস্ট ফুড কমান। ভিটামিন C যুক্ত ফল - পেয়ারা, কমলালেবু, আমলকি খান। রোজ ১০ মিনিট ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা মেডিটেশন করুন, কর্টিসল কমবে।

*৪. চোখের যত্ন:* রাতে শোয়ার আগে ঠান্ডা গ্রিন টি ব্যাগ ৫ মিনিট চোখের ওপর রাখুন। ডার্ক সার্কেল অনেকটা কমবে।

*৫. পুজোর ৭ দিন আগে ফেসিয়াল নয়:* পুজোর ঠিক আগে নতুন কিছু ট্রাই করবেন না। এতে র‍্যাশ বেরোনোর ভয়। পার্লারে গেলে ১০ দিন আগেই করে নিন।

মনে রাখবেন, ত্বক আপনার মনের আয়না। মন শান্ত থাকলে ত্বক এমনিতেই গ্লো করবে। তাই পুজোর আগে টেনশন নয়, নিজেকে একটু সময় দিন।