Healthcare: এক চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখছেন? কয়েক মিনিট পরেই আবার সব স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে? ডাক্তাররা বলছেন একে মোটেই হালকা ভাবে নেবেন না। এটি 'মিনি স্ট্রোক' বা ভবিষ্যতে বড় স্ট্রোকের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে। সময় মতো ব্যবস্থা নিলে বড় বিপদ আটকানো সম্ভব।

Healthcare News: অফিসের ফাইল দেখছেন বা রিল স্ক্রল করছেন। হঠাৎ খেয়াল করলেন ডান চোখের সামনে সব অন্ধকার হয়ে আসছে। মনে হচ্ছে কেউ একটা কালো পর্দা টেনে দিয়েছে। বুকটা ছ্যাঁৎ করে ওঠে। তাড়াতাড়ি চোখ কচলান। দু'মিনিট, তিন মিনিট। তারপর আস্তে আস্তে সব আবার আগের মতো পরিষ্কার। "ধুর, হয়তো রাত জাগার জন্য হয়েছে" ভেবে আবার কাজে মন দেন। কিন্তু এই কয়েক মিনিটের ঘটনাটাই আপনার শরীরের দেওয়া সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা হতে পারে।

এটা কী লক্ষণ?

চিকিৎসকরা একে বলেন Amaurosis Fugax। সহজ বাংলায় ক্ষণস্থায়ী এক চোখের অন্ধত্ব। শুনতে সাধারণ মনে হলেও এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে 'মিনি স্ট্রোক' বা TIA। TIA মানে Transient Ischemic Attack। আমাদের মস্তিষ্ক আর চোখে রক্ত নিয়ে যায় সরু সরু নালী। কখনও কখনও সেই নালীতে ছোট একটা রক্তজমাট বা কোলেস্টেরলের টুকরো এসে ২ থেকে ৫ মিনিটের জন্য আটকে যায়। তখনই ওই অংশে রক্ত পৌঁছায় না, আর আপনি এক চোখে দেখতে পান না। কয়েক মিনিট পর জমাটটা সরে গেলে রক্ত আবার চলতে শুরু করে, দৃষ্টিও ফিরে আসে। সমস্যা হল এই মিনি স্ট্রোককে আমরা সর্দি-জ্বরের মতো উড়িয়ে দিই। অথচ ডাক্তারদের গবেষণা বলছে, যার একবার TIA হয়েছে তার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে বড় স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি অনেক গুণ বেড়ে যায়। তাই এক চোখের ঝাপসা আসলে শরীর আপনাকে তিন মাসের অ্যাডভান্স নোটিশ দিচ্ছে। অবশ্য সবসময় যে TIA-ই হবে এমন না। অনেক সময় চোখের রেটিনার পিছনের রক্তনালীতে ব্লক হলেও এমন হয়। আবার ঘাড়ের ক্যারোটিড ধমনীতে ময়লা জমলে, BP-সুগার অনিয়ন্ত্রিত থাকলেও রক্ত চলাচল কমে গিয়ে এই উপসর্গ দেখা দেয়। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এক চোখে হঠাৎ ঝাপসা হওয়াটা স্বাভাবিক নয়। দুই চোখ একসাথে ঝাপসা হলে সেটা ক্লান্তি বা চশমার পাওয়ার হতে পারে। কিন্তু একটা চোখ হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যাওয়া মানেই সেটা ইমার্জেন্সি। তাই এমন হলে দ্বিতীয়বার ভাববেন না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একজন নিউরোলজিস্ট এবং একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞকে দেখান। তারা BP, সুগার, কোলেস্টেরল টেস্ট করবেন। সঙ্গে চোখের ফান্ডাস আর ঘাড়ের ডপলার স্ক্যান করে দেখবেন রক্তনালীতে কোথাও ব্লক আছে কিনা। 

কীভাবে সুস্থ থাকা যায়?

ভয় পাবেন না। সময় মতো যদি রক্ত পাতলা করার ওষুধ আর লাইফস্টাইলে একটু পরিবর্তন আনা যায়, তাহলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বড় স্ট্রোক আটকে দেওয়া যায়। নুন কম খাওয়া, রোজ আধ ঘণ্টা হাঁটা আর ধূমপান ছাড়া - এই তিনটে অভ্যাসই অনেক বড় ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। চোখ আমাদের পৃথিবী দেখার জানালা। সেই জানালা যখন নিজেই বিপদের কথা বলতে শুরু করে, তখন তাকে চুপ করিয়ে দেওয়া যায় না। এক চোখে হঠাৎ ঝাপসা দেখলে আজই সতর্ক হন। আপনার একটু সচেতনতা আর একটা ডাক্তারের পরামর্শই পারে আপনাকে প্যারালাইসিসের মতো বড় বিপদ থেকে বাঁচাতে।

এটি সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক তথ্য। শরীরে কোনও উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে নির্ণয় না করে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।