বেশিরভাগ মানুষ তরমুজের লাল অংশ খেয়ে খোসা ফেলে দেন। কিন্তু এই ফেলনা খোসা দিয়ে মোরব্বা, আচার, তরকারি থেকে শুরু করে স্মুদি ও ডিটক্স জুসের মতো সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর পদ তৈরি করা যায়। শুধু তাই নয়, এটি ত্বক ও বাগানের যত্নেও অত্যন্ত উপকারী।
গরমকাল মানেই বাজারে ফলের রমরমা। এই সময় নানা রকম ফল ও সবজি খাওয়া হয়। আর গরমের ফল বললেই প্রথমে যার কথা মাথায় আসে, তা হলো তরমুজ। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এর জুড়ি মেলা ভার। তবে বেশিরভাগ মানুষই এর লাল অংশটা খেয়ে খোসাটা সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেন। আপনারও যদি এই অভ্যাস থাকে, তবে আজই বদলান। কারণ, এই ফেলে দেওয়া খোসা দিয়েই আপনি অনেক সুস্বাদু পদ রান্না করতে পারেন। আজ আমরা তরমুজের খোসা কাজে লাগানোর কিছু দুর্দান্ত আইডিয়া দেব, যা খেতেও দারুণ।
তরমুজের খোসা দিয়ে কী কী বানাবেন?
মোরব্বা
তরমুজের খোসা ফেলে না দিয়ে যদি সুস্বাদু কিছু বানাতে চান, তাহলে মোরব্বা বানিয়ে দেখতে পারেন। এটি খেতে খুব মিষ্টি হয় আর বানানোও খুব সহজ। এর জন্য খোসার সবুজ অংশ ফেলে দিয়ে সাদা অংশটি ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিতে হবে।
আচার
আপনি যদি টক বা চাটপাটা স্বাদ পছন্দ করেন, তাহলে তরমুজের খোসা দিয়ে আচার বানাতে পারেন। এটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হয় এবং যেকোনো খাবারের সঙ্গে দারুণ লাগে। খুব কম সময়েই এটি বানিয়ে নেওয়া যায়।
স্মুদি
বাড়িতে যদি স্বাস্থ্যকর কিছু বানানোর ইচ্ছে থাকে, তাহলে তরমুজের খোসা দিয়ে স্মুদি বানাতে পারেন। এর সঙ্গে ভেজানো চিয়া সিড বা सब्जा (সাবজা) মিশিয়ে নিলে এটি আরও বেশি স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু হয়ে উঠবে।
ফ্রুট ক্যান্ডি
তরমুজের খোসা দিয়ে আপনি ঠান্ডা ফ্রুট ক্যান্ডিও বানাতে পারেন। খোসাসমেত তরমুজের টুকরো দিয়ে এই মজাদার জিনিসটি তৈরি করা যায়। বাচ্চারা এটি খুব পছন্দ করবে এবং এটি খেলে শরীরও ঠান্ডা থাকবে।
এছাড়াও বানিয়ে দেখতে পারেন এই পদগুলি-
তরমুজের খোসার তরকারি
খোসার সাদা অংশ ছোট ছোট টুকরো করে কেটে মশলা দিয়ে কষিয়ে রান্না করুন। স্বাদ বাড়াতে এর সঙ্গে আলু বা টমেটোও দিতে পারেন। রোজকার খাবারের জন্য এটি একটি হালকা ও স্বাস্থ্যকর তরকারি।
খোসার রায়তা
তরমুজের খোসা গ্রেট করে হালকা ভাপিয়ে নিন এবং দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। উপরে ভাজা জিরে, বিটনুন আর পুদিনা পাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করুন। এই ঠান্ডা রায়তা গরমে পেটকে আরাম দেয়।
খোসার পরোটা
খোসা গ্রেট করে আটার সঙ্গে মেখে নিন। এরপর নুন, লঙ্কা গুঁড়ো আর ধনে পাতা দিয়ে পরোটা তৈরি করুন। এই পরোটা শুধু সুস্বাদুই নয়, স্বাস্থ্যকরও। সকালের জলখাবারের জন্য এটি একটি দারুণ বিকল্প।
ডিটক্স জুস
তরমুজের খোসার সঙ্গে পুদিনা পাতা, লেবুর রস আর সামান্য মধু দিয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এই জুস শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে।
বাগান ও ত্বকের যত্নেও উপকারী
তরমুজের খোসা বাগানের জন্য একটি চমৎকার সার হিসেবে কাজ করে। এটি মাটিতে মেশালে গাছের পুষ্টি বাড়ে। ত্বকের যত্নের ক্ষেত্রেও এর জুড়ি নেই। খোসার সাদা অংশ মুখে ঘষলে ত্বক ঠান্ডা থাকে, ট্যান কমে এবং ত্বকে একটা প্রাকৃতিক জেল্লা আসে।


