আপনি সিগারেট ছোঁন না, কিন্তু পাশের জন খাচ্ছে? তাহলেও আপনি সমান বিপদে। Lancet-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ভারতে পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু ১৯৯০-র তুলনায় ৫০% বেড়েছে। ২০২৩ সালে ৩ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে শুধু অন্যের ধোঁয়ায়।

নিজে ধূমপান করেন না বলে নিশ্চিন্তে আছেন? এবার সাবধান হওয়ার সময় এসেছে। আপনি ধূমপায়ী না হলেও আপনার চারপাশের ধূমপায়ীদের ধোঁয়াই আপনার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

Lancet-এর রিপোর্টে ভয়াবহ ছবি:

The Lancet Public Health-এ প্রকাশিত গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি অনুযায়ী, ভারতে সেকেন্ডহ্যান্ড স্মোক বা পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

- ১৯৯০ সালে ভারতে পরোক্ষ ধূমপানে মৃত্যু ছিল ২,১৭,৭০০ জন। - ২০২৩ সালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,২৫,৬০০ জনে। অর্থাৎ দিনে গড়ে ৮৯২ জনের মৃত্যু হচ্ছে অন্যের খাওয়া সিগারেটের ধোঁয়ায়। - ভারতে বর্তমানে ৪৪ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার, যা বিশ্বে চিনের পরেই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

মহিলা ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে:

রিপোর্ট বলছে, মহিলাদের মধ্যে মৃত্যু ১,১৩,৪০০ থেকে বেড়ে ১,৫৬,৯০০ হয়েছে। শিশুরা সবচেয়ে অসহায়, বিশ্বে পরোক্ষ ধূমপানের রোগের বোঝার ১২ শতাংশের বেশি শিশুদের উপর পড়ে, যার প্রধান কারণ লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ ঘরে ধূমপান করলে ধোঁয়ায় থাকা ৭,০০০-এর বেশি রাসায়নিক, যার মধ্যে ৭০টি ক্যান্সার সৃষ্টিকারী, তা পরিবারের অন্যদের ফুসফুসে ঢোকে। এর ফলে ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ, স্ট্রোক, ফুসফুসের ক্যান্সার, COPD, ব্রেস্ট ক্যান্সার, টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও অ্যাজমার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়ে।

কীভাবে বাঁচবেন?

১. বাড়ি ও গাড়ির ভিতরে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করুন। ২. অফিসে স্মোকিং জোন থেকে দূরে থাকুন। ৩. কেউ আপনার সামনে ধূমপান করলে তাকে বাইরে গিয়ে খেতে অনুরোধ করুন। বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের সামনে কখনই নয়। ৪. সচেতনতা বাড়ান। পরোক্ষ ধূমপানও প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতোই প্রাণঘাতী।