আর দামি সিরামের প্রয়োজন নেই! ঘরোয়া এই টোটকাতেই হবে বাজিমাত, চুল থাকবে ফুরফুরে

শীতকালে চুলে নানা রকম সমস্যা বেড়ে যায়। চুলে খুশকি থেকে শুরু করে চুল পড়া ও চুল দুঃখ হয়ে যাওয়া শীতকালে খুব কমন সমস্যা। তাই নামিদামি শ্রীরাম চুলে তো অনেকেই মাখেন কিন্তু কিছু বীজ আছে যেগুলি সঠিক প্রক্রিয়ায় লাগাতে পারলে চুলের জীবন বৃদ্ধি পায়। দামি সিরামের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারে কুমড়ো, তিসি, তরমুজ ও মেথি বীজের মতো প্রাকৃতিক উপাদান, যা জিঙ্ক, ওমেগা-৩, প্রোটিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ; এগুলো পেস্ট বা তেল হিসেবে মেখে (যেমন মেথি ভিজিয়ে পেস্ট করে বা তিসি-কুমড়ো বীজ হালকা ভেজে গুঁড়ো করে দই/অ্যালোভেরা জেলের সাথে মিশিয়ে) স্ক্যাল্পে লাগালে পুষ্টি জুগিয়ে চুল পড়া কমায় ও ঘনত্ব বাড়ায়। তবে নিয়মিত ব্যবহার ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

সেরা বীজ ও তাদের উপকারিতা:

* মেথি বীজ (Fenugreek): এতে থাকা মিউসিলেজ (mucilage) চুলকে আর্দ্রতা দেয়, frizz কমায় ও মসৃণ করে; প্রোটিন ও নিকোটিনিক অ্যাসিড চুল পড়া রোধে সাহায্য করে। * কুমড়োর বীজ (Pumpkin Seeds): জিঙ্ক ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে ভরপুর, যা চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগায় ও বৃদ্ধি ঘটায়। * তিসির বীজ (Flax Seeds): ওমেগা-৩ ও ফাইবারের উৎস, যা চুলকে মজবুত ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল করে। * তরমুজের বীজ (Watermelon Seeds): এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ও জিঙ্ক চুলকে শক্তিশালী করতে সহায়ক।

ব্যবহারের পদ্ধতি (DIY মাস্ক):

১. মেথি মাস্ক: ২ চামচ মেথি বীজ সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে অল্প জল দিয়ে মিহি পেস্ট তৈরি করুন। এটি স্ক্যাল্প ও চুলে লাগিয়ে ২০-৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ২. কুমড়ো ও তিসি মাস্ক: কুমড়ো ও তিসি বীজ হালকা ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এই গুঁড়োর সাথে দই বা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে স্ক্যাল্পে লাগান। ৩. তেল হিসেবে ব্যবহার: মেথি, তিসি বা কুমড়োর বীজ হালকা ভেজে গুঁড়ো করে নারকেল বা অলিভ অয়েলের সাথে মিশিয়ে গরম করে স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করুন।

অতিরিক্ত টিপস:

* খাবার: রোজ ২ চামচ চিয়া বা তিসির বীজ দই বা স্মুদির সাথে খান, বাদাম ও ডিম খান। * স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট: যোগব্যায়াম ও পর্যাপ্ত ঘুম স্ট্রেস কমিয়ে চুল পড়া রোধে সাহায্য করে। * অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন: হেয়ার ড্রায়ার ও স্টাইলিং টুলসের ব্যবহার কমান।