Tourism Trend: পাঁচতারা হোটেল, পুল, বুফে সব পুরনো। এখন জেন-জি ছুটি কাটাচ্ছে নেটহীন গ্রামে। উদ্দেশ্য একটাই, শহরের ক্লান্তি ভুলে আসল জীবন ফিরে পাওয়া। এই ধরনের ভ্রমণের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
Travel and Tourism: একটা সময় ছিল যখনছুটি মানে ইনস্টাগ্রামের জন্য পুল সাইড ছবি, রুফটপে কফি আর বিলাসবহুল রিসর্ট। ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এটাই ছিল ট্রেন্ড। কিন্তু ২০২৬-এ এসে ছবিটা পুরো উল্টে গেছে। এখনকার তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি আর মিলেনিয়ালরা বলছে, আর বিলাসিতা নয়। তারা ব্যাগ গুছিয়ে ছুটছে উল্টো দিকে। শহরের কোলাহল ছেড়ে গ্রামে। ওয়াই-ফাই ছেড়ে নো-সিগন্যাল জোনে। এসির বাতাস ছেড়ে মাটির বাড়ির উঠোনে। এই নতুন ধরনের ছুটিকেই এখন বলা হচ্ছে রিভার্স ভ্যাকেশন।
রিভার্স ভ্যাকেশন মানে ঠিক কী?
নাম শুনেই বোঝা যায় এটা একদম উল্টো ছুটি। নরমাল ভ্যাকেশনে আমরা স্ট্রেস থেকে বাঁচতে বিলাসবহুল জায়গায় যাই। আর রিভার্স ভ্যাকেশনে বিলাসিতা ছেড়ে আমরা ফিরি একদম সিম্পল জীবনে। এখানে প্রথম শর্তই হল ডিজিটাল ডিটক্স। ফোন সাইলেন্ট করে রাখা, নোটিফিকেশন বন্ধ। দ্বিতীয়টা হল স্লো লিভিং। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাড়া নেই। চা বাগানে হেঁটে বেড়ানো, নদীর পাড়ে বসে থাকা, গ্রামের দিদার হাতে গরম ভাত আর আলু ভাজা খাওয়া। আর তৃতীয় হল অভিজ্ঞতা। এখানে কেউ ছবি তোলার জন্য যায় না। যায় ধান রুতে, মাটির উঠোন নিকোতে, স্থানীয় মানুষের সাথে গল্প করতে। ট্যুরিস্ট নয়, কিছুদিনের জন্য গ্রামেরই একজন হয়ে যাওয়া।
হঠাৎ কেন এই ট্রেন্ড জনপ্রিয় হল?
এর পেছনে তিনটে বড় কারণ আছে। প্রথমত বার্নআউট। ৯টা-৯টা অফিস, টার্গেট, মিটিং এর চাপে সবাই ক্লান্ত। রিসর্টে গিয়েও ল্যাপটপ খুলে মেল চেক করতে হয়। সেখানে শান্তি নেই। দ্বিতীয়ত আসল কানেকশনের অভাব। স্ক্রিনের বাইরে বেরিয়ে আসল মানুষের সাথে কথা বলা, মাটির গন্ধ নেওয়া, রাতের বেলা জোনাকি দেখা - এগুলো এখন সবচেয়ে বড় বিলাসিতা মনে হচ্ছে। আর তৃতীয় কারণ হল পকেট। দু'দিন পাঁচতারা রিসর্টে থাকলে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। অথচ চারদিন গ্রামের হোমস্টেতে থাকা-খাওয়া মিলিয়ে ৮ হাজারের মধ্যেই হয়ে যায়। সাথে লোকাল মানুষেরও রোজগার হয়। তাই এটা সাসটেইনেবলও বটে। পশ্চিমবঙ্গে এখন মুর্শিদাবাদের তাঁত গ্রাম, সুন্দরবনের ধারে ছোট গ্রাম আর ডুয়ার্সের চা-বাগানের হোমস্টেগুলো এই ট্রেন্ডের জন্য খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
জনপ্রিয়তা বাড়ছে রিভার্স ভ্যাকেশনের
রিভার্স ভ্যাকেশনের কোনও ফিক্সড প্যাকেজ নেই। এটা পুরোটাই আপনার ইচ্ছা। কেউ গিয়ে জৈব চাষ শিখছে, কেউ নদীতে নৌকা চালাচ্ছে, কেউ গ্রামের পুজো বা মেলায় যোগ দিচ্ছে। সকালে উঠে গরুকে ঘাস দেওয়া থেকে শুরু করে রাতে উঠোনে বসে ভূতের গল্প - সবই এখানে অভিজ্ঞতা। কোনও শিডিউল নেই, কোনও চেকলিস্ট নেই। শুধু আছে সময়কে ধীরে কাটানোর সুযোগ। রিভার্স ভ্যাকেশন আসলে পালানো নয়, এটা ফেরা। নিজের শিকড়ে ফেরা, নিজের কাছে ফেরা। পাঁচতারা জীবনের আরাম ও বিলাসিতা ছেড়ে যারা মাটির ঘর আর টিউবওয়েলের জল বেছে নিচ্ছে, তারাই এখন আসল "কুল"।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


