Narcissistic Personality Disorder: NPD থাকা মানুষ সবসময় নিজেকে সেরা ভাবে। সমবেদনার অভাব, দোষ অন্যের ঘাড়ে দেওয়া - এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানুন। সম্পর্ক টক্সিক হলে কী করবেন?

NPD Signs: সম্পর্কের শুরুতে নার্সিসিস্টিক মানুষজন খুব চার্মিং হন। প্রচুর প্রশংসা, গিফট, "তুমিই আমার সব" - এই সব দেখে আমরা গলে যাই। একে বলে Love Bombing। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আস্তে আস্তে আসল রূপটা বের হয়। তখন মনে হয় "আমি কি কিছুই ঠিক করি না?" এই প্রশ্নটা নিজেকেই করতে থাকেন আপনি।

NPD-এর ৭টি কমন লক্ষণ সঙ্গীর মধ্যে:

প্রথমত, নিজেকে সবচেয়ে স্পেশাল ভাবা। তিনি মনে করেন তিনি সাধারণ মানুষের মতো নন। শুধু বিশেষ মানুষরাই তাকে বুঝবে। তাই আপনার মতামতকে ছোট করে দেখা হয়।

দ্বিতীয়ত, সহানুভূতির অভাব। আপনার খারাপ লাগা, কান্না, সমস্যা - এগুলোকে তিনি গুরুত্ব দেন না। উল্টে বলেন "এত নাটক করো না" বা "এটা নিয়ে ভাবার কী আছে"।

তৃতীয়ত, সব কৃতিত্ব নিজের, সব দোষ আপনার। কোনও কিছু ভালো হলে "আমার জন্যই হয়েছে"। আর খারাপ হলে "তোমার জন্যই হল"। নিজের ভুল স্বীকার করা তাদের কাছে খুব কঠিন।

চতুর্থত, প্রশংসার জন্য তীব্র চাহিদা। সবসময় অ্যাটেনশন চাই। আপনি প্রশংসা না করলে রেগে যান বা ইগনোর করেন।

পঞ্চমত, অন্যের প্রতি ঈর্ষা বা সবাই তাকে ঈর্ষা করে ভাবা। বন্ধু, কলিগ, এমনকি আপনার সাফল্য নিয়েও তার অস্বস্তি হতে পারে।

ষষ্ঠত, সীমা না মানা। আপনার "না" কে "না" হিসেবে মানে না। জোর করে নিজের সিদ্ধান্ত আপনার উপর চাপিয়ে দেয়।

সপ্তমত, সম্পর্ককে ব্যবহার করা। আপনার থেকে কী লাভ হবে সেটাই তার কাছে বড়। আপনার ফিলিংসের দাম কম।

সম্পর্ক থাকলে আপনি কেমন ফিল করবেন?

এই সম্পর্কে থাকলে আপনি সবসময় ক্লান্ত, কনফিউজড আর দোষী বোধ করবেন। একে বলে Gaslighting। আপনাকে বোঝানো হবে "তুমি বেশি ভাবছ" বা "তোমার মাথার সমস্যা"। আস্তে আস্তে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। বন্ধু-পরিবারের থেকে দূরে সরে যাবেন। কারণ তিনি বলবেন "ওরা তোমাকে বোঝে না, শুধু আমিই বুঝি"।

তাহলে কী করবেন?

মনে রাখবেন NPD একটা ডিসঅর্ডার। এটা "ঠিক করে দেব" বা "ভালোবাসা দিয়ে বদলে দেব" - এভাবে সারে না। এর জন্য প্রফেশনাল থেরাপি লাগে।

আপনি যা করতে পারেন:

১. নিজের সীমা ঠিক করুন। কী বলা বা করা আপনাকে কষ্ট দেয় সেটা স্পষ্ট করে বলুন।

২. একা সব সামলানোর চেষ্টা করবেন না। বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলুন।

৩. নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একজন কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

সম্পর্ক যদি শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর হয়ে যায়, তাহলে নিরাপত্তার কথা আগে ভাবুন।

দু-একটা লক্ষণ মিললেই যে NPD তা নয়। অনেক সময় স্ট্রেস বা অন্য কারণেও মানুষ এমন বিহেভ করতে পারে। কিন্তু প্যাটার্নটা যদি লম্বা সময় ধরে থাকে, তাহলে চুপ করে কষ্ট পাবেন না। আপনি একা নন। সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়, এটা শক্তি।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।