উত্তরাখণ্ডের ঋষিকেশে গঙ্গার উপর তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম কেবল-সাসপেনশন কাঁচের ব্রিজ 'বজরং সেতু'। ১৩২ মিটার লম্বা এই ব্রিজের কাঁচের মেঝে দিয়ে নীচে বয়ে যাওয়া গঙ্গা দেখা যাবে। ২০১৯ সালে বন্ধ হওয়া লক্ষ্মণ ঝুলার বদলে তৈরি এই ব্রিজ পর্যটনে আনবে নতুন জোয়ার।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২০১৯ সালে নিরাপত্তার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক লক্ষ্মণ ঝুলার বিকল্প হিসেবে গঙ্গার উপর তৈরি হয়েছে দেশের প্রথম কেবল-সাসপেনশন কাঁচের ব্রিজ। ব্রিজটির নাম 'বজরং সেতু'। উত্তরাখণ্ড সরকার ও পর্যটন দফতরের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ১৩২.৫ মিটার দীর্ঘ এই ব্রিজ ঋষিকেশ-বদ্রীনাথ জাতীয় সড়কের সঙ্গে পৌরি জেলার যমকেশ্বর ব্লককে সরাসরি যুক্ত করবে। ব্রিজের দুই পাশে পথচারীদের জন্য রয়েছে পুরু স্বচ্ছ কাঁচের পথ। ওপর থেকে নীচে বয়ে চলা গঙ্গা দেখা যাবে স্পষ্ট।
প্রায় ৭০কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, পাশাপাশি ঋষিকেশের আধ্যাত্মিক ও অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনেও নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বজরং সেতু ঋষিকেশের তপোবন এলাকায় অবস্থিত, ফলে এখানে শহরের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো থেকে সহজেই পৌঁছানো যায়। ঋষিকেশে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা হরিদ্বার এবং দেরাদুন থেকে সড়কপথে এই সেতুতে পৌঁছাতে পারবেন। এই সেতুর নিকটতম প্রধান রেল স্টেশন হল ঋষিকেশ রেল স্টেশন। আর বিমানে আসা যাত্রীদের জন্য নিকটতম বিমানবন্দর হলো দেরাদুনের জলি গ্রান্ট বিমানবন্দর। ঋষিকেশ থেকে দর্শনার্থীরা ট্যাক্সি, অটো-রিকশা ভাড়া করে বা অন্যান্য স্থানীয় পরিবহনের মাধ্যমে লক্ষ্মণ ঝুলা এবং তপোবন এলাকায় সহজেই পৌঁছাতে পারেন।
ভারতে প্রথম গঙ্গার উপর কাঁচের কেবল ব্রিজ হল "বজরং সেতু":
ব্রিজের বিশেষত্ব:
১. প্রথম কেবল-সাসপেনশন গ্লাস ব্রিজ: ভারতের প্রথম ব্রিজ যেখানে কেবলের সাথে কাঁচের রাস্তা আছে। এশিয়ার মধ্যে এটা দ্বিতীয়
২. লক্ষ্মণ ঝুলার বদলি: ২০১৯ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ৯২ বছরের পুরনো বিখ্যাত লক্ষ্মণ ঝুলার জায়গাতেই এটা তৈরি হয়।
৩. সাইজ: লম্বা ১৩২-১৩৩ মিটার, চওড়া ৮ মিটার। গঙ্গা থেকে উচ্চতা ৭০ফুট
৪. কাঁচের পথ: দুই পাশে পায়ে হাঁটার জন্য মোটা শক্ত কাঁচের রাস্তা। নীচে গঙ্গা বয়ে যাওয়া দেখা যাবে।
৫. অন্যান্য ফিচার: মাঝখানে ৫ মিটার চওড়া স্টিল ডেক আছে যেখানে হালকা দু-চাকা গাড়ি চলবে। টাওয়ারগুলো কেদারনাথ মন্দিরের মতো ডিজাইন
৬. সেফটি: ঝড়-ভূমিকম্প মোকাবিলা করার জন্য আধুনিক সেন্সর লাগানো আছে। ব্রিজটা ১৫০ বছর টেকার মতো করে বানানো হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই ব্রিজ ঋষিকেশ-বদ্রীনাথ হাইওয়ের সাথে পৌরি জেলার যমকেশ্বর ব্লককে যুক্ত করবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী আর পর্যটনের জন্য এটা বড় বুস্ট দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
