বলা হয়, মুখের চেয়েও আগে আমাদের বয়স জানান দেয় হাত। স্কিনকেয়ার রুটিন শুধু মুখে সীমাবদ্ধ থাকার দিন এখন শেষ। স্যানিটাইজার ও কড়া সাবানের অতিরিক্ত ব্যবহারে হাতের ত্বক যখন শুষ্ক হয়ে যায়...

আমাদের সৌন্দর্যচর্চার অভ্যাসে মুখের জন্য যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়, হাত প্রায়শই তা পায় না। কিন্তু আজকাল স্কিনকেয়ার ট্রেন্ডে সবচেয়ে এগিয়ে আছে 'হ্যান্ড মাস্ক'। আপনার বয়স প্রথমে হাতেই প্রকাশ পায়, এই প্রবাদকে সত্যি করে হাতের যত্ন এখন একটি ফ্যাশন স্টেটমেন্ট হয়ে উঠেছে।

হ্যান্ড মাস্ক কী?

মুখে ব্যবহার করা শিট মাস্কের মতোই এটি হাতের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়। গ্লাভসের মতো দেখতে এই মাস্কের ভেতরে ত্বককে পুষ্টি জোগানোর জন্য সিরাম এবং ময়েশ্চারাইজার থাকে। এর ভেতরে হাত ঢুকিয়ে রাখলে এই পুষ্টি উপাদানগুলো ত্বকের গভীরে পৌঁছে যায়।

কেন এই ট্রেন্ড জনপ্রিয়?

  • অতিরিক্ত হ্যান্ড ওয়াশ ব্যবহার: কোভিড পরবর্তী সময়ে ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস বেড়েছে। সাবান এবং স্যানিটাইজারের অতিরিক্ত ব্যবহার হাতের স্বাভাবিক তৈলাক্ত ভাব নষ্ট করে ত্বককে শুষ্ক করে দিয়েছে। এর একটি স্থায়ী সমাধান হিসেবে হ্যান্ড মাস্ক জনপ্রিয় হয়েছে।
  • ডিজিটাল যুগ: স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপের ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে আমাদের হাত সবসময় অন্যদের নজরে পড়ে। এটি ম্যানিকিওর এবং হ্যান্ড মাস্কের মতো সৌন্দর্য চিকিৎসায় মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
  • অ্যান্টি-এজিং: মুখের বলিরেখা দূর করতে আমরা অনেক কিছুই করি। কিন্তু হাতের ত্বক পাতলা হওয়ায় বয়সের ছাপ সেখানে দ্রুত দেখা যায়। হ্যান্ড মাস্ক এটি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

বিভিন্ন ধরনের হ্যান্ড মাস্ক

বাজারে আজ প্রধানত তিন ধরনের হ্যান্ড মাস্ক পাওয়া যায়:

  • ময়েশ্চারাইজিং মাস্ক: শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা এবং ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এই মাস্কগুলো শুষ্ক হাতে দ্রুত আর্দ্রতা জোগায়।
  • এক্সফোলিয়েটিং মাস্ক: হাতের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে উজ্জ্বল করতে এগুলি সাহায্য করে।
  • ব্রাইটনিং মাস্ক: রোদে পোড়া ভাব এবং কালো দাগ দূর করতে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মাস্ক খুব ভালো কাজ করে।

ঘরেই কীভাবে হ্যান্ড মাস্ক তৈরি করবেন?

বাজারের মাস্ক ছাড়াও প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে আমরা বাড়িতেই হ্যান্ড মাস্ক তৈরি করতে পারি:

মধু এবং কলা: একটি পাকা কলা চটকে তাতে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে হাতে লাগান। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। এটি হাতকে অসাধারণ নরম করে তোলে।

নারকেল তেল এবং লেবুর রস: রাতে ঘুমানোর আগে নারকেল তেলের সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে ম্যাসাজ করে একটি সুতির গ্লাভস পরে ঘুমান। এটি একটি চমৎকার ওভারনাইট মাস্ক।

অ্যালোভেরা জেল: খাঁটি অ্যালোভেরা জেল হাতে লাগানো রোদে পোড়া ত্বকের জন্য আরামদায়ক।

কিছু জরুরি বিষয়

  • বেশিরভাগ হ্যান্ড মাস্ক ১৫ থেকে ২০ মিনিট ব্যবহার করতে হয়। প্যাকেজের নির্দেশাবলী সঠিকভাবে অনুসরণ করুন।
  • মাস্ক ব্যবহারের আগে হাত ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।
  • নতুন কোনো ব্র্যান্ড ব্যবহার করার সময় প্রথমে অল্প জায়গায় পরীক্ষা করে দেখুন কোনো অ্যালার্জি হচ্ছে কিনা।

মুখের মতোই আমাদের হাতেরও যত্ন প্রয়োজন। সপ্তাহে একবার হ্যান্ড মাস্ক ব্যবহার করলে হাতের ত্বক স্বাস্থ্যকর এবং তরুণ থাকবে। এটি কেবল একটি সৌন্দর্য পণ্য নয়, বরং নিজের যত্ন নেওয়ার একটি অংশ হিসেবে এই ট্রেন্ডকে আমরা গ্রহণ করতে পারি।