Health News: এপ্রিল-মে মাসে ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় রোদ থেকে ফিরে মাথা ঘোরা, বমি, গা গরম বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া মানেই হিট এক্সহশন বা হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪°F ছাড়ালে ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্রেন ড্যামেজ হতে পারে। রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে ছায়ায় শুইয়ে জামা আলগা করুন, ভেজা কাপড়ে গা মুছিয়ে পাখার নিচে রাখুন। 

Health News: চৈত্রের শেষ থেকেই রোদের তেজ ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়েছে। স্কুল, অফিস বা বাজার থেকে ফিরে অনেকেই বলছেন মাথা ঘুরছে, গা গোলাচ্ছে, চোখে অন্ধকার দেখছি। অনেকে আবার ঘরে ঢুকেই বমি করে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন।

ডাক্তাররা বলছেন, এটা সাধারণ ‘গরম লাগা’ নয়। হিট এক্সহশন বা হিট স্ট্রোক। শরীরের নিজস্ব AC সিস্টেম ফেল করলে ব্রেন, কিডনি, হার্ট ১৫-৩০ মিনিটেই বিকল হতে পারে। ভারতে প্রতি বছর গরমে ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান শুধু সময়মতো প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে।

রোদ থেকে ফিরে এই ৬টা লক্ষণ দেখলে বুঝবেন বিপদ:

১. হিট এক্সহশন: মাথা যন্ত্রণা, প্রচণ্ড ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, পায়ের পেশিতে টান, দুর্বল লাগা। শরীরের তাপমাত্রা ১০০-১০২°F।

২. হিট স্ট্রোক: ঘাম বন্ধ হয়ে গা শুকনো ও গরম, তাপমাত্রা ১০৪°F এর উপর, কথা জড়িয়ে যাওয়া, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া। এটা মেডিকেল ইমার্জেন্সি।

বাড়িতে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করবেন? ৫ মিনিটের গোল্ডেন রুল:

ধাপ ১: জায়গা বদলান, জামা আলগা করুন

রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে রোদ থেকে সরিয়ে AC বা পাখার নিচে, ছায়া জায়গায় নিয়ে যান। শুইয়ে দিন। জামা, বেল্ট, টাই, অন্তর্বাস যতটা সম্ভব আলগা করে দিন। মোজা-জুতো খুলে দিন। শরীর থেকে তাপ বেরোতে দিন।

ধাপ ২: শরীর ঠান্ডা করুন - সবচেয়ে জরুরি

একটা বালতিতে সাধারণ কলের জল নিন। গামছা বা তোয়ালে ভিজিয়ে নিংড়ে রোগীর সারা গা, বিশেষ করেটি ঘাড়, বগল, কুঁচকি, হাত-পায়ের পাতা বারবার মুছিয়ে দিন। পাখা চালিয়ে দিন। জল বাষ্প হয়ে তাপ টেনে নেবে। ১০ মিনিটে তাপমাত্রা ২-৩ ডিগ্রি কমবে।

জ্ঞান থাকলে কি করবেন : কপালে, ঘাড়ে ওয়েট টাওয়েল দিন।

ধাপ ৩: জল খাওয়ান, তবে নিয়ম মেনে

রোগীর জ্ঞান থাকলে এবং বমি না করলে তবেই জল দিন। সাধারণ জল নয়। ১ গ্লাস জলে ১ চামচ ORS বা আধ চামচ নুন + ২ চামচ চিনি গুলে দিন। অল্প অল্প করে খাওয়ান। ডাবের জল, পাতলা লেবু-চিনির সরবতও চলবে। কোল্ড ড্রিংকস, দুধ, কফি একদম নয়।

সাবধান: জ্ঞান না থাকলে বা বমি করলে এক ফোঁটাও জল নয়। শ্বাসনালীতে চলে গিয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যেতে পারে। পাশ ফিরিয়ে শুইয়ে দিন যাতে বমি বেরিয়ে যায়।

ধাপ ৪: পা উঁচু করুন

মাথা ঘুরলে বা প্রেশার ফল করলে পায়ের নিচে ২টো বালিশ দিয়ে পা বুকের থেকে উঁচুতে তুলে দিন। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়বে।

ধাপ ৫: ১০৮ এ কল করুন যদি...

* ১৫ মিনিটেও জ্ঞান না ফেরে।

* তাপমাত্রা ১০৪°F এর উপর থাকে।

* খিঁচুনি হয় বা কথা জড়িয়ে যায়।

* শ্বাসকষ্ট হয়।

হিট স্ট্রোকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেরি মানেই মৃত্যু। অ্যাম্বুলেন্স আসার আগ পর্যন্ত গা মোছানো বন্ধ করবেন না।

এই ৩টে ভুল একদম নয়:

১. বরফ জল ঢালবেন না: হঠাৎ ঠান্ডা জলে শিরা সংকুচিত হয়ে তাপ ভিতরে আটকে যাবে। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কলের সাধারণ জলই সেফ।

২. কোলন ঘষবেন না: স্কিন শুকনো করে দেয়, তাপ বেরোতে পারে না।

৩. প্যারাসিটামল দেবেন না: হিট স্ট্রোকে জ্বরের ওষুধ কাজ করে না। উল্টে লিভারের ক্ষতি করে।

প্রতিরোধ কীভাবে?

দুপুর ১২টা-৪টা রোদ এড়ান। বেরোলে ছাতা, টুপি, সানগ্লাস নিন। ঢিলেঢালা সুতির হালকা রঙের জামা পরুন। বেরোনোর আগে ও প্রতি ৩০ মিনিটে জল খান। পকেটে ORS রাখুন।

মনে রাখবেন, হিট স্ট্রোকে ‘গোল্ডেন আওয়ার’ ৩০ মিনিট। আপনার ৫ মিনিটের সঠিক কাজ একটা প্রাণ বাঁচাতে পারে।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।