Health News: ভোটের কালিতে থাকে ১০-১৮% সিলভার নাইট্রেট। এটা স্কিনে লাগলে ১৫-২০ সেকেন্ডে কালো হয়ে যায়, সূর্যের আলোয় স্থায়ী দাগ হয়। অল্প কালি, যেমন আঙুল চাটলে বা বাচ্চা মুখে দিলে, সাধারণত বিপদ নেই। 

Health News: বুথ থেকে বেরিয়ে কোনো কারণে বা ফুচকা খেতে গিয়ে কালি লাগা আঙুল মুখে চলে গেল। বাড়ি ফিরে ২ বছরের বাচ্চা আপনার আঙুল চুষতে শুরু করল। টেনশন? এই কালি বিষ নাকি?

কালিতে আসলে কী থাকে?

ভোটের কালি বানায় মাইসুরুর MYLAC। ফর্মুলা সিক্রেট, কিন্তু মেইন উপাদান সিলভার নাইট্রেট AgNO₃, ১০-১৮%। সাথে অ্যালকোহল, জল, কিছু রং।

সিলভার নাইট্রেট স্কিনের প্রোটিন আর নুনের সাথে রিঅ্যাকশন করে সিলভার ক্লোরাইড বানায়। সূর্যের UV রশ্মি পড়লে এটা কালো সিলভার মেটালে বদলে যায়। তাই দাগ ১৫-২০ দিন ওঠে না।

পেটে গেলে কী হয়? ডোজের উপর সব নির্ভর:

১. অল্প চাটলে কি হতে পারে:

পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড থাকে। সিলভার নাইট্রেট পেটে গিয়েই HCl-এর সাথে বিক্রিয়া করে সিলভার ক্লোরাইড হয়ে যায়। এটা জলে গলে না, শরীর শোষণ করে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পায়খানার সাথে বেরিয়ে যায়। বমি, পাতলা পায়খানা, মুখে ধাতব স্বাদ লাগতে পারে। জল খান, ঠিক হয়ে যাবে।

WHO-র হিসেব: ৭০ কেজি মানুষের জন্য ১০ গ্রাম সিলভার নাইট্রেট খেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। ভোটের কালির ১ ফোঁটায় থাকে মাত্র ০.০১ গ্রাম। মানে ১০০০ ফোঁটা খেলে তবে বিপদ। সেটা সম্ভব নয়।

২. বাচ্চা আঙুল চুষলে:

বাচ্চাদের ওজন কম, তাই টেনশন বেশি। কিন্তু বুথের কালির ডোজে বাচ্চারও কিছু হবে না। হালকা বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে। ORS জল খাওয়ান। ৬ ঘণ্টা নজর রাখুন। বমি না থামলে, ঝিমিয়ে পড়লে ডাক্তার।

৩. বেশি খেলে, যেমন শিশি খুলে খেলে:

এটা ইচ্ছাকৃত বিষ খাওয়া। তখন সিলভার পয়জনিং হবে। ওমুখ-পেট জ্বালা, বমিতে রক্ত, কালো পায়খানা, কিডনি ফেল, খিঁচুনি। সাথে সাথে হাসপাতাল। পেট ওয়াশ, স্যালাইন লাগবে। তবে ভোটের বুথে এত কালি থাকে না।

চোখে গেলে কী করবেন?

হাত না ধুয়ে চোখ চুলকালে জ্বলবে, লাল হবে। সিলভার নাইট্রেট কর্নিয়া পোড়াতে পারে। ১০ মিনিট ধরে চোখে জলের ঝাপটা দিন। কল খুলে দিন। ড্রপ, মলম নিজে দেবেন না। জ্বালা না কমলে চোখের ডাক্তার।

স্কিনে অ্যালার্জি হলে:

যাদের একজিমা, ডার্মাটাইটিস আছে, কালি লাগা জায়গা চুলকোবে, লাল হবে, ফোস্কা পড়তে পারে। এটা সিলভার নাইট্রেটের কেমিক্যাল বার্ন। বরফ ঘষুন, অ্যান্টি-অ্যালার্জি ক্রিম লাগান। না কমলে স্কিন ডাক্তার।

দীর্ঘমেয়াদি ভয় - আর্গাইরিয়া হবে?

আর্গাইরিয়া মানে স্কিন নীলচে-ধূসর হয়ে যাওয়া। সেটা হতে বছরের পর বছর রুপো খেতে হয়। যেমন রুপোর বাসনে খাওয়া, কোলয়েডাল সিলভার খাওয়া। ১ দিনের কালিতে আর্গাইরিয়া অসম্ভব।

কালি তোলার ভুল উপায়, যেটা করবেন না:

১. লেবু-নুন ঘষা: অ্যাসিড + ঘষা = স্কিনের উপর লেয়ার উঠে যাবে, জ্বলবে, দাগ কালো হবে।

২. নেলপালিশ রিমুভার/অ্যাসিটোন: কেমিক্যাল বার্ন হবে। বাচ্চার স্কিনে তো নয়ই।

৩. ব্লেড/ঝামা দিয়ে ঘষা: ইনফেকশন হবে।

কালি তুলতে চাইলে সেফ উপায়:

সময় দিন। ৭-১০ দিনে স্কিনের উপর লেয়ার উঠে গেলে কালিও যাবে। তাড়া থাকলে নারকেল তেল + চিনি দিয়ে হালকা স্ক্রাব করুন। ভিটামিন E অয়েল মাখুন।

ভোটের দিনের ৪টে সেফটি টিপস:

১. কালি শুকোতে দিন: বুথ থেকে বেরিয়ে ২ মিনিট আঙুল ফাঁকা রাখুন। শুকিয়ে গেলে মুখে লাগবে না।

২. সাথে স্যানিটাইজার নয়: অ্যালকোহল কালির সাথে রিঅ্যাকশন করে বেশি জ্বলবে। জল দিয়ে ধুয়ে নিন।

৩. বাচ্চা কোলে নিলে বাম হাত দূরে: বাম হাতের তর্জনীতেই কালি দেয়। বাচ্চা ধরলে ডান হাত ব্যবহার করুন।

৪. খাওয়ার আগে হাত ধোন: ফুচকা, ঝালমুড়ি খাওয়ার আগে জল দিয়ে আঙুল ধুয়ে নিন।

ভোটের কালি ‘ইন্ডেলিবল’ মানে মোছা যায় না, ‘ইনেডিবল’ মানে খাওয়া যাওয় না। কিন্তু ভুল করে ১-২ ফোঁটা পেটে গেলে প্যানিক করবেন না। জল খান, নজর রাখুন। বাচ্চা, প্রেগন্যান্ট মহিলা, কিডনি রোগী হলে ডাক্তারকে একবার ফোন করে নিশ্চিন্ত হন।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।