প্রেশারের ওষুধ নিয়মিত খেতে ভুলে গেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক আর কিডনি ড্যামেজের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এছাড়া মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা বা বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

আজকাল হাই ব্লাড প্রেশার বা উচ্চ রক্তচাপ খুব সাধারণ একটা সমস্যা। প্রেশার কন্ট্রোলে রাখতে অনেকেই নিয়মিত ওষুধ খান। কারণ, হাই প্রেশার থেকে হার্টের রোগ, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলিওর-সহ নানা রকম জটিলতা দেখা দিতে পারে।

ব্লাড প্রেশার ঠিকঠাক থাকলে হার্ট আর রক্তনালীগুলোও ঠিকমতো কাজ করে। অনেকের ক্ষেত্রে শুধু লাইফস্টাইল বদলালেই প্রেশার কন্ট্রোলে থাকে না, তাদের রোজ ওষুধ খাওয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে।

যাঁদের ক্রনিক হাই প্রেশার আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটা খুব চেনা ছবি। প্রেশারের ওষুধ মূলত রক্তনালীগুলোকে রিল্যাক্স করে, রক্তের পরিমাণ কমায় বা হার্ট রেট ঠিক রেখে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তাই নিয়ম করে ওষুধ খাওয়াটা খুব দরকার। তবে হ্যাঁ, কাজের চাপে বা অন্য কোনো কারণে মাঝে মাঝে এক-আধটা ডোজ মিস হয়ে যাওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।

প্রেশারের ওষুধ খেতে ভুলে গেলে শরীরে ঠিক কী ঘটে?

একবার প্রেশারের ওষুধ খেতে ভুলে গেলে সাধারণত ব্লাড প্রেশার সাময়িকভাবে একটু বেড়ে যায়। এতে সঙ্গে সঙ্গে বড় কোনো বিপদের ভয় থাকে না। কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত ওষুধ খেতে ভুলে যান, তাহলে কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক আর কিডনি ড্যামেজের মতো দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা বুক ধড়ফড় করার মতো সমস্যাও হতে পারে।

অনেকের ক্ষেত্রে আবার কোনো লক্ষণই দেখা যায় না, তাঁরা একদম স্বাভাবিক বোধ করেন। কিন্তু দিনের পর দিন ওষুধ বাদ দিলে টানা হাই প্রেশারের কারণে রক্তনালীগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রেশার বেশি থাকলে তা ধীরে ধীরে কিডনি, চোখ আর ব্রেনের ক্ষতি করে। এর ফলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক বা হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।

যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন

ওষুধ খাওয়ার কথা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিস হয়ে যাওয়া ডোজটা খেয়ে নিন।

তবে একটা ডোজ মিস হয়ে গেছে বলে, সেটা মেকআপ করতে একসঙ্গে দুটো ডোজ একেবারেই খাবেন না।

যদি দেখেন পরপর কয়েকদিন ওষুধ খাওয়া হয়নি, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

বাড়িতে নিয়মিত ব্লাড প্রেশার মেপে দেখুন।

কখন জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের কাছে যাবেন?

বুকে যদি প্রচণ্ড চাপ বা ব্যথা অনুভব করেন।

হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে।

হঠাৎ করে খুব তীব্র মাথাব্যথা হলে।

মুখ বা শরীরের একপাশ অবশ, দুর্বল বা ঝিনঝিন করলে।

হঠাৎ করে চোখে দেখতে বা কথা বলতে সমস্যা হলে।

মোদ্দা কথা হলো, কোনো একটা ডোজ মিস হয়ে গেলে ডাক্তারের দেওয়া নিয়মগুলো মেনে চলুন। সাধারণত, পরের ডোজ খাওয়ার সময় যদি খুব কাছাকাছি না থাকে, তাহলে মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিস হওয়া ডোজটা খেয়ে নেওয়া উচিত। তবে কোনোভাবেই একসঙ্গে ডবল ডোজ খাওয়া চলবে না।