মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, নজর দোষ আসলে নেতিবাচক মানসিকতার প্রতিফলন। সবসময় আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং ইতিবাচক চিন্তা করাও এক ধরণের রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
নজর দোষ বা 'Evil Eye' হলো ঈর্ষা বা তীব্র নেতিবাচক মানসিকতা থেকে উৎপন্ন কুদৃষ্টি, যা কারোর সুখ, উন্নতি বা স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে বলে লোকবিশ্বাস করে। এই ধারণা হাজার হাজার বছর ধরে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র, প্রাচীন সংস্কৃতি এবং বিভিন্ন ধর্মে প্রচলিত, যেখানে মনে করা হয় কারো তীব্র ঈর্ষার নেতিবাচক তরঙ্গ মানুষের অরা (Aura) বা রক্ষাকবচ ভেদ করে অশুভ প্রভাব ফেলে।
নজর দোষের উৎপত্তি ও ধারণা :
* প্রাচীন বিশ্বাস: প্রাচীনকাল থেকেই বিশ্বাস করা হতো যে, কেউ অতিরিক্ত প্রশংসা করলে বা কারো উন্নতি দেখে ঈর্ষা করলে 'কুনজর' লাগে।
* জ্যোতিষশাস্ত্র: বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে, চন্দ্র যদি দুর্বল হয় বা শনি-রাহুর প্রভাবে থাকে, তবে নজর দোষের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
* মনস্তাত্ত্বিক দিক: এটি মূলত নেতিবাচক চিন্তা এবং ঈর্ষার একটি বহিঃপ্রকাশ।
নজর দোষের লক্ষণসমূহ:
* শিশুদের ক্ষেত্রে: অকারণে কান্নাকাটি, দুধ পান বন্ধ করা, হঠাৎ অসুস্থতা বা ক্লান্ত হয়ে পড়া।
* বড়দের ক্ষেত্রে: হঠাৎ কাজে বড় বাধা, ব্যবসায় লোকসান, পরিবারে অশান্তি, শারীরিক অসুস্থতা বা উন্নতি স্থবির হয়ে পড়া
নজর দোষের প্রতিকারের উপায়(Nazar Dosh Remedies)
১. লবণ দিয়ে নজর ঝাড়া: এক মুঠো নুন (লবণ) আক্রান্ত ব্যক্তির মাথার উপর থেকে ৭ বার (ঘড়ির কাঁটার দিকে) ঘুরিয়ে বাইরে ফেলে দিন ।
২. শুকনো লঙ্কার ব্যবহার: ৭টি শুকনো লাল লঙ্কা নিয়ে ব্যক্তির উপর ৭ বার ঘুরিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা।
৩. গঙ্গাজল ও হলুদ: সারা ঘরে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দেওয়া এবং বৃহস্পতিবার বাড়ির মূল দরজায় হলুদের জল ছিটানো ।
৪. প্রার্থনা করা : ধর্মীয় গ্রন্থ (যেমন- কুরআন, মন্ত্র) পাঠ করে ফু দেওয়া, যা নেতিবাচক শক্তি দূর করে।
৫. সুরক্ষা কবচ: অশুভ নজর থেকে বাঁচতে 'ইভিল আই' (Evil Eye) ব্রেসলেট বা টোটকা ব্যবহার করা।
৬. তামার পাত্র: তামার পাত্রে জল ও ফুল রেখে ঘরের কোণে রাখা।
নজর দোষ একটি প্রাচীন লোকবিশ্বাস ও সংস্কার, যা অনেকেই মেনে চলেন। তবে তীব্র শারীরিক অসুস্থতায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
