আগে যেখানে অস্টিওআথ্রাইটিস দেখা যেত ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মানুষের মধ্যে, এখন সেখানে ৩৫ থেকে ৪৫ বছরের মানুষের মধ্যে তা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, পরিবর্তিত জীবনযাত্রাই এর অন্যতম কারণ।

কম বয়সীদের মধ্যে অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা বাতের সমস্যা বাড়ার মূল কারণ স্থূলতা, অলস জীবনযাপন, এবং জয়েন্টে আঘাত। এটি সাধারণত হাঁটু, কোমর বা মেরুদণ্ডে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী শক্তভাব (stiffness), এবং নড়াচড়ার সময় কটকট শব্দ বা অস্বস্তি হিসেবে দেখা দেয়। চিকিৎসায় ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ব্যায়াম জরুরি।

কম বয়সীদের অস্টিওআর্থ্রাইটিসের লক্ষণসমূহ:

* জয়েন্টে ব্যথা: বিশেষ করে হাঁটু বা কোমরে ব্যথা, যা নড়াচড়া করলে বা হাঁটাচলা করলে বাড়ে এবং বিশ্রামে কমলে কমে।

* সকালে বা দীর্ঘক্ষণ পরে শক্তভাব: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা বেশিক্ষণ বসে থাকার পর জয়েন্ট শক্ত হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত ৩০ মিনিটের মধ্যে কমে যায়।

* জয়েন্ট নড়াচড়ায় শব্দ বা 'ক্র্যাকিং' অনুভূতি: হাঁটু ভাঁজ বা সোজা করার সময় কটকট বা ঘর্ষণের মতো শব্দ শোনা যেতে পারে।

* জয়েন্টের চারপাশে ফোলা বা কোমলতা: জয়েন্ট বা গাঁটের ওপর হালকা চাপে ব্যথা বা ফোলাভাব অনুভব করা।

* গতিশীলতা কমে যাওয়া: স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে কষ্ট হওয়া এবং নড়াচড়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া।

* অস্থিরতা (locking): হাঁটু বা গাঁট মাঝে মাঝে 'লক' বা জ্যাম হয়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি।

কেন কম বয়সীদের মধ্যে বাড়ছে?

১. স্থূলতা: শরীরের অতিরিক্ত ওজন হাঁটুর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করে, যা তরুণাস্থি (cartilage) ক্ষয় ত্বরান্বিত করে।

২. আসীন জীবনযাপন: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা এবং ব্যায়ামের অভাব।

৩. আঘাত (Injury): খেলাধুলা বা দুর্ঘটনায় অতীতে পাওয়া জয়েন্টের আঘাত।

৪. ভুল ভঙ্গিতে বসা/কাজ: দীর্ঘক্ষণ ভুল ভঙ্গিতে বসে থাকা জয়েন্টের ওপর চাপ ফেলে।

প্রতিরোধ ও প্রতিকার:

* ওজন কমানো: স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।

* ব্যায়াম: সাঁতার, সাইক্লিং বা হাঁটার মতো ব্যায়াম জয়েন্ট মজবুত রাখা।

* সঠিক ভঙ্গি: বসার সময় শিরদাঁড়া সোজা রাখা।

লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা উচিত।