ঝাঁঝে নয়, সবজির মধ্যে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের চোখে জল এনেছে পেঁয়াজ। দেশের বহু জায়গার ইতিমধ্যেই দুশো ছাড়িয়েছে পেঁয়াজের দাম। কলকাতার বাজারে ৪০ কেজি বস্তা প্রতির দাম ছিল ৩২০০ টাকা। পেঁয়াজের এই অত্যাধিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান মজার মজার ভিডিও ও ট্রোলও শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে পোস্ট শেয়ার করেন ডেয়ারি সংস্থা আমুল। এবার পেঁয়াজের মূল্য বৃ্দ্ধির ইস্যুতেও মজার ট্রোল করেছে এই সংস্থা।

আরও পড়ুন- আজ আকাশ ভরে উঠবে শীতল চাঁদ, যা আস্ত পূর্ণিমায় এই দশকের শেষ বিরল দৃশ্য

এই সংস্থার বিজ্ঞাপণের এই অভিনব পদ্ধতি নজর কেড়েছে সকলের। মজাদার সমস্ত পোস্টে বর্তমানে সময়ে ঘটতে থাকা বিভিন্ন অবস্থাকে তুলে কাটুর্নের আকারে রূপ দেয় জনপ্রিয় এই ডেয়ারি সংস্থা। তাই পেঁয়াজের আকাশ ছোঁয়া দামের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটলা না। এই ডেয়ারি সংস্থার নিজস্ব সমস্ত সোশ্যাল সাইটে এই পোস্ট করেছে। যাতে দেখা যাচ্ছে আমুল গার্ল হাতে তিনটি পেঁয়াজ নিয়ে জাগলিং করছে। আর তার কোল রাখা রয়েছে চপার বোর্ড-সব পেঁয়াজ কাটার সরঞ্জাম। আর সব থেকে মজার বিষয় হল, এই ছবির ক্যপশন। যাতে লেখা রয়েছে, "ক্যাহো না প্য়াঁয়াজ হ্যায়"।

সম্প্রতি সংস্থার সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন পেজ-এ এই পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কার্টুনের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। যা নজর কেড়েছে অনেকেরই। অনেকেই দিয়েছেন নানান মতামত। "ক্যাহো না প্য়াঁয়াজ হ্যায়"-এর উত্তরে অনেকেই আবার গানের সুরেই মন্তব্য করেছেন। আবার অনেক গ্রাহক এই পোস্টেই সরাসরি ডেয়ারি সংস্থার প্রোডাক্টের গুণমান নিয়েই কথা বলেছে।

ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজের চাষ হয় মহারাষ্ট্রে। উৎপাদনের দিক থেকে তার পরেই রয়েছে কর্নাটক, গুজরাত, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, অন্ধ্রপ্রদেশ, হরিয়ানা। এদিকে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ভারতে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তান, মায়ানমারের মতো দেশ পেঁয়াজের জন্য নির্ভরশীল ভারতের উপর। বন্যার কারণে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ক্ষতি হয়েছে বেশ কিছু ফসলের। আর ঠিক সেই কারণেই এই বছরে পেঁয়াজের জোগান কম থাকায় চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। একইভাবে এই বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বর্যা দেরিতে আসার ফলে দেরি হয়েছে পেঁয়াজের চাষেও। ফলে বাকি বছরগুলির তুলনায় চলতি বছরে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন হয়েছে পেঁয়াজের। কবে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেই আশায় রয়েছে মধ্যবিত্ত জনসাধারণ।