কুমারীত্বের পরীক্ষায় পাশ করার ই-কমার্স সাইটে বিকোচ্ছে বিশেষ পিল সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রোডাক্টটি ঘিরে ব্যাপক চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে মেয়েদের বিয়ের পরেই পরীক্ষা দিতে হয় চরিত্রের সমাজের চাপেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এখনও সতীত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য মেয়েরা

ডিজিটাল মিডিয়ার যুগেও যতই নারী পুরুষ সমান বলে আমরা গলা ফাটাই না কেন, এখনও সমাজ ব্যবস্থার অদৃশ্য এক শক্তি মেয়েদের অন্ধকারে ঠেলে রাখতেই এক পা সব সময় বাড়িয়ে রেখেছে। মেয়েদের এটা করা উচিৎ নয়, মেয়েদের এভাবে চলা উচিৎ নয়, সব কিছুতেই 'মেয়েদের' জন্য রয়ে গিয়েছে নিয়মের অদৃশ্য এক বেড়াজাল। তাই স্মার্ট ফোনের যুগেও মেয়েদের এখনও পুড়ে মরতে হয় পন এর জন্য। মেয়েদের এখনও মরতে হয় কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য। স্লিভলেস পোষাক পড়া বা ধূমপানে ব্যস্ত মেয়েটির দিকে মর্ডান যুগেও বেশ কয়েকটি বাঁকা ভ্রু এসে থমকে যায়। আরও একবার এই ঘটনা প্রমান করে দিল যে 'মেয়ে' এখনও তুমি সমাজের কাছে এক বস্তু হয়েই রয়ে গিয়েছো, মানুষ হিসেবে পরিচয় পাওনি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সম্প্রতি, বিয়ের প্রথম রাতে কুমারীত্বের পরীক্ষায় পাশ করার জন্য ই-কমার্স সাইট অ্যামাজনে দেদার বিকোচ্ছে ‘আই ভার্জিন’নামে বিশেষ এক প্রোডাক্ট। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই প্রোডাক্টটি ঘিরে ব্যাপক চঞ্চলতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম রাতে নিশ্চিত রক্তপাতের জন্যই ব্যবহার করা যাবে এই ভার্জিনিটি পিল। তবে সংস্থার দাবি, এই ওষুধের কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। সেই সঙ্গে এই পিল অত্যন্ত নিরাপদ এবং সুবিধাজনক বলেও দাবি করেছে পিল প্রস্তুতকারক সংস্থা।

Scroll to load tweet…

ঐতিহ্যবাহী নিয়ম অনুযায়ী, এখনও দেশের বহু জায়গায় মেয়েদের বিয়ের পরেই পরীক্ষা দিতে হয় চরিত্রের। শারীরিক সম্পর্ক ছাড়াও সাঁতার, সাইকেলিং-সহ আরও বিভিন্ন কারণে হাইমেন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে, শিক্ষিত সমাজে এই বৈজ্ঞানিকভিত্তিক ধারনা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের প্রোডাক্ট বা চিকিৎসা ব্যবস্থা বেছে নিতে হচ্ছে মহিলাদের। সমাজের চাপেই নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য এখনও সতীত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য মেয়েরা। এই সুযোগে ব্যাবসা করে নিচ্ছে এই ধরণের চিকিৎসা ব্যবস্যা ও প্রোডাক্ট সহ ই কমার্স সাইটগুলি। ডিসকাউন্টের সঙ্গে ৩৬০০ টাকা মূল্যের এই আই ভার্জিন পিল বিক্রি হচ্ছে ৩১০০ টাকায়। সাধারণ এই একটি পিল আরও একবার বর্তমান যুগে পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মুখে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল। যার উত্তর হয়তো কারও কাছেই নেই...