বাচ্চা ডিম খেতে না-চাইলে কী করবেন, কী খাওয়াবেন

ছোটদের মস্তিষ্কের বিকাশে ডিমের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডিম খুব ভাল একটি সুষম খাদ্য়। এতে রয়েছে ভাল পরিমাণে প্রোটিন। রয়েছে নানারকম ভিটামিন, মিনারেল। তাই মিড-ডে মিলের পাতেও একখানা করে ডিম খুব জরুরি বলে মনে করা হয়।

বাচ্চারা এমনিতে ডিম যে পছন্দ করে না তা কিন্তু নয়। কিন্তু, কিছু বাচ্চা  আবার ডিমের গন্ধ একেবারেই নিতে পারে না। সেক্ষেত্রে ওই ছোট বয়সে ডিম যে পুষ্টি দিতে পারে, তার থেকে বঞ্চিত হয় শিশু। তখন অনেক মা-বাবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। যদিও ডিম না-খেলে চিন্তার কিছু নেই। যদি একবার জেনে নেওয়া যায়, ডিমের বিকল্প হিসেবে কী কী  খাওয়ানো দরকার আপনার বাচ্চাকে।

আপনার বাচ্চাকে নিয়মিত, পারলে রোজই একটা কলে কলা খাওয়ান। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। যা আপনার বাচ্চার বিকাশে খুব কার্যকরী। এছাড়াও, এনার্জি জোগাতে কলার সত্য়িই কোনও বিকল্প নেই। সস্তার ফল, বারোমাসই পাওয়া যায়। ছোটদের কোষ্ঠকাঠিন্য় দূর করতেও কলা খুব উপকারী।

জানবেন, সুষম খাদ্য় হিসেবে ডিম যদি দু-নম্বরে থাকে, তাহলে এক নম্বরে রয়েছে দুধ। খাবারের এমন কোনও উপাদান নেই, যা দুধে থাকে না। তাই আপনার বাচ্চাকে প্রতিদিন একগ্লাস করে দুধ খাওয়ান। কোনও কোনও বাচ্চা আবার দুধ খেতে চায় না। সেক্ষেত্রে দুধে চকোলেট বা স্ট্রবেরি ফ্লেভার মিশিয়ে  দিতে পারেন। দেখবেন চোঁ-চোঁ করে দুধ খেয়ে নেবে আপনার বাচ্চা।

দই, বিশেষ করে টকদই এক অর্থে দধেরও বিকল্প, আবার ডিমেরও বিকল্প।  দইতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্য়ালশিয়াম। যা ছোট-বড় নির্বিশেষে সকলের দরকার। হাড়ের স্বাস্থ্য়রক্ষা করে এই ক্য়ালশিয়াম। টকদইতে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক। এটি পেটের পক্ষে ভীষণ উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য় রোধ করে, হজম ভাল করে। এই প্রোবায়োটিক আমাদের অন্ত্রে থাকে উপকারী ব্য়াকটেরিয়া হিসেবে। কিন্তু নানা কারণে এর পরিমাণ কমে গেলে অনেক সমস্য়া হয়। তাই টকদই নিয়মিত খাওয়ান আপনার বাচ্চাকে।

আপনার বাচ্চা ডিম না-খেলে শরীরে যে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে, তা আপনি পূরণ করতে পারেন পনির দিয়েও।  পনিরে ভালো পরিমাণে রয়েছে প্রোটিন। এছাড়াও রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। পনিরের নানা পদ বাচ্চাদের কাছে বেশ লোভনীয় কিন্তু।

সবশেষে বলি সোয়াবিনের কথা। প্রাণীজ প্রোটিনের মধ্য়ে যেমন ডিম, উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্য়ে তেমন সোয়াবিন। নিরামিষ প্রোটিনের মধ্য়ে সোয়াবিনকে সেরা বললেও অত্য়ুক্তি হয় না। সোয়াবিন নানাভাবে খাওয়া যায়। নিউট্রিলার তরকারি তো একটি লোভনীয় পদ।  সপ্তাহে অন্তত বারতিনের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সোয়াবিনের পদ রান্না করুন। আপনার বাচ্চার প্রোটিনের ঘাটতি নিশ্চয় দূর হবে।