প্রেম শুরু হওয়ার সময়ে সবটাই স্বপ্নের মতো মনে হয়। শয়নে, স্বপনে, জাগরনে  তখন শুধু তারই নাম। কিন্তু প্রেমের সম্পর্কে বেশ কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটানোর পরে যদি জানতে পারেন যে সঙ্গী বিয়ে করতে চান না তা হলে কী করবেন! এই সমস্যায় অনেকেই পড়েন। কেউ প্রেমে পড়েন স্রোতে গা ভাসিয়ে। কোনও এক মানুষের সঙ্গে কথা বলা, সময় কাটানো এসব থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রেম। আবার অনেকে একেবারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভেবে চিন্তেই প্রেমের সাগরে ডুব দেয়। কিন্তু মাঝ পথে এসে অনেকেই দেখেন সঙ্গী সম্পর্ক রাখলেও, বিয়ে করতে চান না। 

সঙ্গীর বিয়ে সম্পর্কে এই মনোভাব শুনে ভেঙে পড়বেন না। বরং কী কারণে তিনি বিয়ের পক্ষে নয় তা বোঝার চেষ্টা করুন। প্রথমত বিয়ে একটি পুরুষতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান বলে যদি তিনি মনে করেন, তা হলে কিন্তু সেই মতকে আপনার সম্মান জানানো উচিত। পরিষ্কার করে বুঝে নিন, সঙ্গীর কি আপনার সঙ্গে থাকায় সমস্যা না কি বিয়ে নামক এই রীতিতে তিনি বিশ্বাসী নন। 

আরও পড়ুনঃ সঙ্গীর সামনে কাঁদলে, সে আর গুরুত্ব দেয় না! মনোবিদরা কী বলছেন এ বিষয়ে
আবার অনেকে অতীতে খারাপ কোনও অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়ে থাকলেও এই ধরনের দায়বদ্ধতায় জড়াতে চান না। নাকি দায়িত্ব নিতে ভয় পান বলেই বিয়ে এড়িয়ে যেতে চান! এরকম নানা রকমের কারণ থাকতে পারে। সৎ ভাবে যদি তা আপনাকে সঙ্গী বলেন, তা বোঝার চেষ্টা করুন। 

কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে নিজে ভাবুন আপনি সঙ্গী বা এই সম্পর্কটা থেকে ঠিক কী কী চান। ভেবে দেখুন, কেন আপনি সঙ্গীকে বিয়ে করে থাকতে চান! তাতে কি সত্যি সুখে থাকবেন নাকি বিয়ে না করে সম্পর্ক রাখলে সুখী থাকবেন! একটা মানুষের সঙ্গে সারাদিন ফোনে কথা বলা বা দেখা করে বেড়াতে যাওয়া আর তার সঙ্গে সারাদিন এক ছাদের তলায় ঘর করার মধ্য়ে পার্থক্য রয়েছে। মনে রাখবেন যে এখনই দায়িত্ব এড়ানোর জন্য বিয়ে করতে চায় না, সে যদি কোনও  ভাবে বিয়েটা করেও ফেলে সে কি দায়িত্ব নিতে পারবে! বিয়ে করার জন্য শুধু প্রেম ও ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে দায়িত্ববোধ প্রয়োজন। সর্বোপরি, নিজেকে প্রশ্ন করুন, বিয়ের মানে আপনার কাছে কী। 

সঙ্গী বিয়ে করতে চাইছে  না বলে তার উপর কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। তাকে বিয়ের জন্য জোর করলে হীতে বিপরীত হতে পারে। তার চেয়ে, সত্যি ভালোবাসলে অপেক্ষা করুন। 

সঙ্গীর সঙ্গে মতের পার্থক্য হওয়া কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তবে মাঝামাঝি জায়গায় নিজেদের ধরে রাখতে হয় কী ভাবে জানুন। কিন্তু আপনি যদি প্রেমের অন্তিম পরিণতি হিসেবে বিয়েকেই মর্যাদা দেন এবং সঙ্গী ঠিক উল্টোটাই ভাবে তা হলে সেই সম্পর্ক থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসাই শ্রেয়।