ফের দ্বিচারিতার প্রমাণ দিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। একই সঙ্গে বুঝিয়ে দিলেন তাঁর মুসলিম দরদও স্রেফ লোক দেখানো। গত শুক্রবারই পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে মুসলিমদের ঘরছাড়া করার উদ্দেশ্যেই। কিন্তু, চিনে যে উইঘুর মুসলিমদের পাগলা গারদে বন্দি রাখা হচ্ছে, তাই নিয়ে প্রশ্ন করায় এবার তিনি বললেন, এই বিষযে তাঁর বিশেষ কিছু জানা নেই। কাশ্মীর ও পাকিস্তানের সমস্যা নিয়েই তিনি ব্যস্ত।   

কঠিন প্রশ্নের মুখে ইমরান
 
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একটি সাক্ষাতকার দিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে চিনের মুসলিমদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাম্প্রতিককালে চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং-এর সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন ইমরান। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, সেই সময়ে একবারও চিনে উইগুর মুসলিমদের সমস্যার কথা তুলেছেন তিনি?

আরও পড়ুুন - নরকে হবে ভোজ, মোদীকে 'বিশেষ উপহার'-এর হুমকি, দেশেই বিপাকে পাক গায়িকা, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন - ভারত-পাক যুদ্ধ নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি, পরমাণু-সম্ভাবনা উসকেও হার মেনে নিলেন ইমরান

আরো পড়ুন - ভুগোল ইতিহাসের পর এবার অঙ্ক, পাক প্রধানমন্ত্রীর বিরাট ভুল, নেট দুনিয়া জুড়ে প্রবল হাসাহাসি

আরো পড়ুন - পাকিস্তানই প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, সিআইএ-র টাকায়, গুরুতর স্বীকারোক্তি ইমরানের

না খেলে, ছেড়ে দিলেন বলটি

জবাবে ইমরান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিশেষ কিছু না কি তাঁর জানা নেই। তিনি। যুক্তি দেন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাকিস্তানের অর্থনীতি, কাশ্মীর সমস্যার পাশাপাশি দেশের আরও বিভিন্ন সমস্যা নিয়েই তাঁরা ব্যস্ত আছেন। তাই চিনে মুসলিমদের সঙ্গে কী হচ্ছে তা তাঁর জানা নেই।

কী অবস্থায় চিনের মুসলিমরা

এটি কোনও সাম্প্রতিক সমস্যা নয়। গত কয়েক বছর ধরেই চিনের কমিউনিস্ট সরকার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ইসলাম ধর্মকে মানসিক রোগ হিসেবে দেখে। কথায় কথায় বিনা কারণে তাদের ধরে নি.য়ে পাগলা গারদে বন্দি করা হয়। শিনজিয়াং প্রদেশে ১ কোটির বেশি উইঘুর মুসলিম থাকেন। তারমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষকেই এইভাবে বন্দি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। সেখানে তাঁদের জোর করে ইসলাম ধর্মের অবমাননা করানো হয়। সারাদিন ধরে কমিউনিস্ট পার্চির প্রোপাগান্ডা মূলক সঙ্গীত গাইতে বাধ্য করা হয়। জোর করে পুরুষদের দাড়ি কেটে দেওয়া হয়, মদ খাওয়ানো হয়।

রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কর্মীদের রিপোর্টেই যেখানে এইরকম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচারের ছবি উঠে এসেছে, সেখানে ইমরান খান বলছেন তিনি নাকি এসব কিছু নিয়ে জানেন না। উল্টে চিনকে তিনি পাকিস্তানের 'সেরা বন্ধু' বলে দাবি করেছেন।