বিশ্ব ম্যারাথন চ্যালেঞ্জে ইতিহাস গড়লেন প্রথম ভারতীয় আদিত্য রাজ। আদিত্য ৭ দিনে ৭টি মহাদেশে ম্যারাথন দৌড়েছেন। গুড়গাঁওয়ের বাসিন্দা আদিত্য রাজ কেপটাউন থেকে এই চ্যালেঞ্জ শুরু করেছিলেন। মিয়ামিতে তিনি চ্যালেঞ্জটি শেষ করেছেন। এই চ্যালেঞ্জে তিনি অ্যান্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, ইউরোপ এবং দক্ষিণ আমেরিকাতে দৌড়েছিলেন। বিশ্ব ম্যারাথন চ্যালেঞে ১৫ জন মহিলা-সহ মোট ৩৩ জন খেলোয়াড় অংশ নিয়েছিল। এই চ্যালেঞ শেষ করতে মোট সময় লেগেছে ১৬৮ ঘন্টা অর্থাৎ সাত দিন।

আরও পড়ুন- গেমারদের জন্য সুখবর, উন্নতমানের গেমিং বেড তৈরি করল জাপানের এই সংস্থা

আরও পড়ুন- টাকার মাধ্যমে ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস, ডিজিটাল লেনদেন এর পরামর্শ 'হু'-এর

ম্যারাথনগুলি নভো (অ্যান্টার্কটিকা), কেপটাউন (দক্ষিণ আফ্রিকা), পার্থ (অস্ট্রেলিয়া), দুবাই (এশিয়া), মাদ্রিদ (ইউরোপ), ব্রাজিল (দক্ষিণ আমেরিকা) এবং মিয়ামি (উত্তর আমেরিকা) এ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আদিত্য এশিয়া ম্যারাথনটি ৪ ঘন্টা ২৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডে শেষ করেছেন। অ্যান্টার্কটিকা ম্যারাথনে তিনি ৭ ঘন্টারও বেশি সময় নিয়েছিলেন। ভারতীয় এই অ্যাথলিট আফ্রিকান ম্যারাথন ৪:৫৭:৫১ মিনিটে, অস্ট্রেলিয়ায় ৪:২৪:৪৫ মিনিটে, ইউরোপ ম্যারাথন ৪:৪৩:৩৮ মিনিটে, চার ঘন্টা বেশি সময় নিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকান ম্যারাথন ৫:৪৩:৩৫ মিনিটে এবং উত্তর আমেরিকা ম্যারাথন ৫:১৩:০৫ মিনিটে শেষ করেছেন।

আরও পড়ুন- আইপিএল শুরুর আগেই ধাক্কা খেল দিল্লি, অদ্ভুত কারণ দেখিয়ে নাম তুললেন ওকস

আদিত্য সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই ম্যারাথনে অংশ নিতে প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা প্রবেশ মূল্যের প্রয়োজন। প্রতি বছর এই চ্যালেঞ্জ হয় এবং বিশ্বের সমস্ত দেশের বড় বড় অ্যাথলিটরা অংশগ্রহণ করেন। এই চ্যালেঞ্জের সবথেকে বড় বিষয় হল ৭ দিনের মধ্যে গোটা বিশ্ব দৌড়ে শেষ করা। আমিই প্রথম ভারতীয় যে এই চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়েছি এবং এটি সম্পন্ন করেছি। রাত বারোটায় কেপটাউন থেকে এই ম্যারাথন দৌড় শুরু করি আমরা। অ্যান্টার্কটিকায় পৌঁছনোর সময় আবহাওয়া খুব খারাপ ছিল। আমাদের কাছে ম্যারাথনটি শেষ করার সময়ও খুব কম ছিল "।

আদিত্য আরও জানিয়েছেন, অ্যান্টার্কটিকায় মাইনাস ৩০ ডিগ্রি তাপমাত্রা ছিল, সেই সঙ্গে ছিল ঘন্টায় ৫০-৬০ কিমি বেগে হাওয়া। এই কারণে অনেকেরই শ্বাস নিতেও অসুবিধা শুরু হয়ে যায়। খারাপ আবহাওয়ার কারণে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়েছিল। তাই আমরা অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ি যে সঠিক সময়ের মধ্যে চ্যালেঞ্জটা শেষ করতে পারবো কি না তা ভেবে। তবে যখন মায়ামিতে চ্যালেঞ্জ শেষ করি তখন দুপুর ১২টা বাজে। আর সেখানকার তাপমাত্রা তখন ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আদ্রতা ৯০ শতাংশেরও বেশি। আদিত্যর মতে, এই চ্যালেঞ্জ শেষ করার জন্য শারীরিক জোড়ের থেকেও বেশি প্রয়োজন মানসিক জোড়।  এই চ্যালেঞ্জে শরীরে একেবারে ভেঙ্গে যায়। এই ম্যারাথন শেষ হওয়ার ৩ থেকে ৪ দিন অবধি সময় লাগে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার জন্য।