Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের জয়জয়কার! ব্যাক টু ব্যাক পদক দেশের মুকুটে
Commonwealth Games 2026: স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বসে ২৩ তম কমনওয়েলথ গেমসের আসর। সেই প্রতিযোগিতায় ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত অধ্যায় টিম ইন্ডিয়ার জন্য।
এখনও অবধি ভারতের হয়ে পদক জিতলেন কারা?
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে বসেছে ২৩ তম কমনওয়েলথ গেমসের আসর। এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ২৩ জুলাই থেকে এবং চলবে আগামী ২ অগাস্ট পর্যন্ত। যে মেগা ইভেন্টে বিভিন্ন বিভাগ মিলিয়ে মোট ৩,০০০ জন ক্রীড়াবিদ অংশগ্রহণ করছেন। সর্বমোট ১৬টি স্পোর্টস ইভেন্টে রয়েছে এবারের কমনওয়েলথ গেমসে। চলতি কমনওয়েলথ গেমসে এখনও অবধি ভারতের হয়ে পদক জিতলেন কারা? সেই প্রতিযোগিতায় ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত অধ্যায় টিম ইন্ডিয়ার জন্য।

সোনা জিতলেন মীরাবাঈ চানু
মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে সোনা জিতেছেন মীরাবাঈ চানু। তিনিই চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে সোনার পদক জিতেছেন। পাশাপাশি কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে স্বর্ণপদক জয়ের হ্যাটট্রিক করে নয়া মাইলস্টোন তৈরি করলেন এই ভারতীয় তারকা। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬, তিনবারই সোনা ঞ্জিতলেন মীরাবাঈ চানু। এই জয় ভারতের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক এবং কমনওয়েলথ গেমসে দেশের অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁর অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করে তুলল।
রুপো জিতেছেন ঋষিকান্ত সিং
অন্যদিকে, ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন ঋষিকান্ত সিং। পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপোর পদক জিতেছেন এই ভারতীয় তারকা। স্ন্যাচ: ১২১ কেজি, যা কমনওয়েলথ গেমসে একটি রেকর্ড। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১৪৩ কেজি, মোট ২৬৪ কেজি। ঋষিকান্ত সিং স্ন্যাচ বিভাগে ১২১ কেজি ওজন তুলে একটি নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন। নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মোট ২৬৪ কেজি উত্তোলনের ফলে, তিনি রুপোর পদক জয় করেন এবং গ্লাসগো ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে প্রথম সিলভার পদকটি অর্জন করেন। ঋষিকান্ত মণিপুরের বাসিন্দা এবং ভারোত্তোলন বিভাগে ভারতের অন্যতম একজন উদীয়মান তারকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
রুপো জিতেছেন রাজা মুথুপান্ডি
রাজা মুথুপান্ডিও ভারোত্তোলন বিভাগে পদক জিতেছেন। যিনি ২০২৬ সালের চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন। তরুণ তারকা হিসেবে তিনি দেশকে সিলভার মেডেলটি এনে দিয়েছেন।
জ্ঞানেশ্বরী যাদব দেশকে এনে দিলেন রুপো
ভারতের হয়ে চতুর্থ পদকটি জেতেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর মঞ্চে মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি। এবার তিনিও পদক জিতেছেন। মহিলাদের ৫৩ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপো জিতেছেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব। তাঁর এই পদক চলতি প্রতিযোগিতায় ভারতের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে আরও সমৃদ্ধ করল এবং এটি আমাদের দেশের জন্য চতুর্থ ভারোত্তোলন পদক।
ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিন্ধ্যারানি দেবী
মহিলাদের ৫৮ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন বিন্ধ্যারানি দেবী। ভারতের হয়ে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। মোট উত্তোলন ১৯৯ কেজি, স্ন্যাচ: ৮৭ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১১২ কেজি। প্রসঙ্গত, এটি বিন্ধ্যারানি দেবীর দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমস পদক। এর আগে তিনি ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫৫ কেজি ইভেন্টে রুপো জেতেন। এই ব্রোঞ্জ জয়ের মাধ্যমে চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে দেশের ভারোত্তোলন দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অব্যাহত রইল এবং দেশের পদক তালিকায় আরও একটি পদক যুক্ত হল।
ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন ঝান্ডু কুমার
আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক এসেছে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ভারতকে সাফল্য এনে দিয়েছেন ঝান্ডু কুমার। সেরা লিফট ১৯০ কেজি, ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন তিনি দেশের হয়ে। উল্লেখ্য, ভারতের হয়ে প্রথম পদক জিতলেন ঝান্ডু কুমার। বিহারের বাসিন্দা ঝান্ডু কুমারকে প্রচুর আর্থিক প্রতিকূলতার মোকাবিলা করে এই জায়গায় আসতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে পদক জেতার আগে পরিবারকে সহায়তা এবং নিজের প্রশিক্ষণের খরচ জোগাতে একটা সময় তিনি সবজি বিক্রি করেছেন ও ই-রিকশাও চালিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যকে অদম্য সংকল্প এবং জীবনে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষমতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা যেতে পারে।
ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সোনার পদক
ভারতীয় প্যারা-অ্যাথলিট শর্মিলা ধানকার দেশের হয়ে দ্বিতীয় সোনার পদকটি জিতলেন। তাঁর অনবদ্য লড়াইকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। মহিলাদের শট পুট এফ৫৭ (F57) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মঙ্গলবার, ৯.৮১ মিটারের ‘সিজন-বেস্ট’ থ্রো-এর মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা-অ্যাথলেটিক্স বিভাগে ভারতের হয়ে প্রথম স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছেন তিনি। ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তাঁর হাত ধরেই কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা-অ্যাথলেটিক্স বিভাগে প্রথম সোনার পদক এল। শর্মিলা মূলত হরিয়ানার বাসিন্দা। মাত্র ২ বছর বয়সে তিনি পোলিওতে আক্রান্ত হন, যা তাঁর একটি পায়ের উপর প্রভাব ফেলে। তারপরেও লড়াই ছাড়েননি তিনি। প্রতিযোগিতামূলক প্যারা-অ্যাথলেটিক্স দিয়ে শুরু করেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পদক বিজয়ী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। কমনওয়েলথ গেমসের আগে, তিনি ফাজ্জা আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপ সহ একাধিক প্রতিযোগিতায় পদক জিতে তাক লাগিয়ে দেন।
হাই জাম্প ইভেন্টে রুপোর পদক জিতলেন সর্বেশ
পুরুষদের হাই জাম্প ইভেন্টে রুপোর পদক জিতলেন সর্বেশ অনিল কুশারে। মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা সর্বেশ বিশ্বের মঞ্চে ভারতের নাম উজ্জ্বল করলেন। এই মুহূর্তে দেশের অন্যতম একজন শীর্ষস্থানীয় অ্যাথলিট তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর মঞ্চে ২.২৫ মিটার উচ্চতা অতিক্রম করে এই মেগা প্রতিযোগিতার হাই জাম্প ইভেন্টে রুপোর পদক ছিনিয়ে এনেছেন তিনি। ব্যক্তিগত সেরা সাফল্যের নিরিখে দেখতে গেলে ২.৩১ মিটার (জাতীয় রেকর্ড)। এটি তিনি ২০২৬ সালের জুন মাসে অর্জন করেন এবং তার মাধ্যমে ২.৩০ মিটারের বাধা অতিক্রমকারী প্রথম ভারতীয় পুরুষ অ্যাথলিট হিসেবে ইতিহাস গড়েন। সর্বেশ প্যারিস ২০২৪ অলিম্পিকেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রথম ভারতীয় পুরুষ হাই জাম্পার হিসেবে বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠেন এবং ২০২৫ সালে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন। সেইসঙ্গে, ২০২৩ সালের এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর জেতেন।
ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন ভাল্লুরি অজয় বাবু
গ্লাসগোতে আয়োজিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে ভারতের হয়ে রুপো জিতেছেন ভাল্লুরি অজয় বাবু। স্ন্যাচ ১৪৯ কেজি, যা কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে একটি রেকর্ড এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ১৮১ কেজি, তথা মোট উত্তোলন: ৩৩০ কেজি। মাত্র ১ কেজির ব্যবধানের জন্য স্বর্ণপদক হাতছাড়া হয় তাঁর। তবে দুর্দান্ত লড়াই করে সিলভার মেডেল ছিনিয়ে এনেছেন তিনি।
ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা অ্যাথলিট শিল্পা কে. শায়লা
মহিলাদের শট পুট এফ৫৭ (F57) বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। এটি এমন একটি ইভেন্ট যা শরীরের নিম্নাংশে অক্ষমতা থাকা সেইসব অ্যাথলিটদের জন্য নির্ধারিত। যারা সাধারণত বসে থেকে শট পুট নিক্ষেপ করে থাকেন। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের শট পুট F57 ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতলেন টিম ইন্ডিয়ার তারকা অ্যাথলিট শিল্পা কে. শায়লা। প্রাথমিকভাবে তিনি পদক তালিকার বাইরে থাকলেও, আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার পর নাইজেরিয়ান অ্যাথলিট ইউচারিয়া ইয়িয়াজি (Eucharia Iyiazi) অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় তিনি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। মহিলাদের শট পুট F57 ইভেন্টে ব্যক্তিগত সেরা থ্রো করেন তিনি, ৭.২৬ মিটার।
রুপো জিতলেন হরজিন্দর কৌর
রুপো জিতলেন হরজিন্দর কৌর। গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে হরজিন্দর কৌর সিলভার মেডেল জিতলেন। নিঃসন্দেহে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন তিনি এবং ভারতকে আরও একটি পদক এনে দিলেন। স্ন্যাচে ১০১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি, মোট ২২৭ কেজি ওজন তুলে ভারতের সফল ভারোত্তোলন অভিযানে আরও একটি পদক যুক্ত করেছেন হরজিন্দর কৌর।
ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং ইতিহাস গড়লেন
গ্লাসগোতে ইতিহাস। ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং ইতিহাস গড়লেন। কমনওয়েলথ গেমসে লম্বা দূরত্বের দৌড়ে পদক জয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার ইভেন্টের ফাইনালে গুলবীর সিং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রুপোর পদক জিতলেন। এই প্রতিযোগিতার বেশিরভাগ সময় তিনি পিছিয়ে থাকলেও, শেষ পর্যায়ে এসে অবিশ্বাস্য গতিতে দৌড়ন এবং দ্বিতীয় স্থানটি নিশ্চিত করেন। এমন একটি ইভেন্ট যেখানে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারত ঐতিহাসিকভাবে খুব কমই পদক জিততে পেতেছে অতীতে। তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস বলা চলে। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার ইভেন্টের ফাইনালে গুলবীর সিং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রুপোর পদক জিতলেন। গ্লাসগোতে তৈরি হল ইতিহাস। মঙ্গলবার রাতে, ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং (Commonwealth Games 2026)। কমনওয়েলথ গেমসে লম্বা দূরত্বের দৌড়ে পদক জয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে নিজের নাম লেখালেন তিনি।
সোনা জিতলেন দিলীপ গাভিট
পুরুষদের ১০০ মিটার T47 প্যারা অ্যাথলেটিক্স বিভাগে সোনা জিতলেন দিলীপ গাভিট। তিনি দৌড় শেষ করতে সময় নেন ১০.৭১ সেকেন্ড। আর সেই সুবাদেই কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়লেন এই ভারতীয় অ্যাথলিট। সেই একই ইভেন্টে আরেক ভারতীয় অ্যাথলিট মহম্মদ বাসিল মোরসিংনাকাথ রুপো জেতেন। অর্থাৎ, এই ইভেন্টের প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি পজিশনেই টিম ইন্ডিয়ার দাপট। দিলীপ হলেন কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় পুরুষ প্যারা অ্যাথলিট। তাঁর এই জয় ভারতীয় প্যারা-স্পোর্টসের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকল।
রুপো জিতলেন মহম্মদ বাসিল মোরসিংনাকাথ
চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিলেন মহম্মদ বাসিল মোরসিংনাকাথ। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ প্যারা অ্যাথলেটিক্স বিভাগে রুপো জিতলেন এই তারকা। সেই একই ইভেন্টে আরেক ভারতীয় অ্যাথলিট দিলীপ গাভিট সোনা জিতলেন। অর্থাৎ, এই ইভেন্টের প্রথম এবং দ্বিতীয়, দুটি পজিশনেই টিম ইন্ডিয়ার দাপট। চলতি ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় এটি ছিল ভারতের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য, যা প্যারা স্প্রিন্ট ইভেন্টগুলোতে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে।
লং জাম্প ইভেন্টে মুরলী শ্রীশঙ্কর রুপোর পদক জিতলেন
গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের লং জাম্প ইভেন্টে মুরলী শ্রীশঙ্কর রুপোর পদক জয় করলেন। তাঁর সেরা জাম্প: ৮.০৯ মিটার। প্রসঙ্গত, গত ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে সিলভার মেডেল জয়ের পর, এটি শ্রীশঙ্করের টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে রুপোর পদক জয়। ফাইনালের আগে শ্রীশঙ্কর তাঁর প্রথম প্রচেষ্টাতেই ৮.০১ মিটার লাফিয়ে সহজেই যোগ্যতা অর্জন করেন এবং সরাসরি পদক জয়ের লড়াইয়ের জন্য নিজের জায়গাটি নিশ্চিত করেন।
ব্রোঞ্জ পদক জিতেলেন সীমা কালিরমনা
মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে সীমা কালিরমনা ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের সম্মান উজ্জ্বল করলেন। তাঁর সেরা থ্রো ৫৮.৬৫ মিটার। সীমার এই সাফল্য বিশেষভাবে অনুপ্রেরণা দেবে তরুণ প্রজন্মকে। কারণ, তিনি একইসঙ্গে একজন সন্তানের মা এবং পিএইচডি গবেষক। প্রতিযোগিতার সময় চারটি ফাউল হওয়া সত্ত্বেও, সীমা ৫৮.৬৫ মিটারের সেরা থ্রো করে ব্রোঞ্জ পদকটি নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর এই পদকটি তাঁর স্বামীকে উৎসর্গ করেছেন এবং এই যাত্রাপথে তাঁর অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন।
রুপো জিতলেন লাভপ্রীত সিং
পুরুষদের +১১০ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে রুপো জিতলেন লাভপ্রীত সিং। নিঃসন্দেহে ভারতের হয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন তিনি। পুরুষদের +১১০ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে সিলভার মেডেল জিতলেন লাভপ্রীত। স্ন্যাচ ১৭৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক ২১২ কেজি, তাঁর মোট উত্তোলন ৩৮৮ কেজি। প্রসঙ্গত, স্ন্যাচ বিভাগে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তবে মাত্র ১ কেজির ব্যবধানে স্বর্ণপদক হাতছাড়া হল। নিউজিল্যান্ডের ডেভিড লিটি তাঁর চূড়ান্ত লিফটের মাধ্যমে এগিয়ে থেকে সোনার মেডেল জেতেন। পাঞ্জাবের অমৃতসরের বাসিন্দা এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর সদস্য লাভপ্রীত ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন এবং এবার ২০২৬ সালে জিতলেন রুপোর পদক।
জুডোতে সোনা জিতলেন অস্মিতা দে
মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়লেন অস্মিতা দে। মাত্র ২৩ বছর বয়সে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতলেন তিনি। দক্ষিণ ত্রিপুরার অন্তর্গত বেলোনিয়ার বাসিন্দা হলেন অস্মিতা। ভোপালের স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়াতে অনুশীলন করেন তিনি। কোচের নাম যশপাল সোলাঙ্কি। ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে পরাজিত করে সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নেন অস্মিতা দে। কার্যত, হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর 'গোল্ডেন স্কোর' পর্যায়ে ম্যাচের ফলাফল নির্ধারিত হয়। আর কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় নারী হলেন অস্মিতা দে। নিঃসন্দেহে ইতিহাস লিখলেন তিনি। সহ-জুডোকা হর্ষ সিং-এর সঙ্গে মিলে তিনি কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে ভারতের হয়ে প্রথমবারের জন্য ‘ডাবল গোল্ড’ জয়ের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেন। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২৫ সালের কাসাব্লাঙ্কা আফ্রিকান ওপেন, ২০২৩ জুনিয়র এশিয়া কাপ, ২০২৩ এশিয়ান ওপেন এবং ২০২৩–২৪ জুনিয়র ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন সহ একাধিক খেতাব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। পাশাপাশি খেলো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি গেমসে তিনি বহুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
হর্ষ সিং গোল্ড মেডেল জিতলেন
গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের ৬০ কেজি জুডো ইভেন্টে হর্ষ সিং গোল্ড মেডেল জিতলেন। সেই সুবাদেই তিনি কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে ফেললেন। ফাইনালের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার জশুয়া কাটজকে পরাজিত করেন ভারতের হর্ষ সিং। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয় গোটা খেলায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে একটি নির্ণায়ক 'ওয়াজা-আরি' (Waza-ari) পয়েন্ট অর্জন করে হর্ষ জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর এই জয় এবং সেইসঙ্গে মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে অস্মিতা দে-র স্বর্ণপদক জয়! যার সুবাদে কমনওয়েলথ গেমসের জুডো ইভেন্টে ভারত প্রথমবারের জন্য একই আসরে দুটি স্বর্ণপদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করল।
