England vs Croatia: চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া। প্রসঙ্গত, এই দুই দল চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ এল-এ রয়েছে। সেই ম্যাচেই ৪-২ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল ইংল্যান্ড। তবে বেশ কিছু ভালো সেভ করেছেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ।
England vs Croatia: বিশ্বকাপের মঞ্চে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ভারতীয় সময় বুধবার রাতে, চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ডালাস স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড বনাম ক্রোয়েশিয়া (england vs croatia)। প্রসঙ্গত, এই দুই দল চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ এল-এ রয়েছে। সেই ম্যাচেই ৪-২ গোলে জয় ছিনিয়ে নিল ইংল্যান্ড। তবে বেশ কিছু ভালো সেভ করেছেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ (fifa world cup 2026 live score)।

খেলার একেবারে শুরুতেই সুযোগ চলে আসে ক্রোয়েশিয়ার সামনে। রাইট-ব্যাক জোসিপ সুতালোর ডান পায়ে নেওয়া জোরালো শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। প্রথমে কর্নার এবং তারপর ইভান পেরিসিচ এই পাসটি বাড়ান।
আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণের ঝড়!
তবে পাল্টা আক্রমণ তুলে আনে ইংল্যান্ডও। ৭ মিনিটের মাথায়, হ্যারি কেনের শট ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারদের পায়ে ব্লক হয়। তার কয়েক মুহূর্ত বাদেই ডেক্লান রাইসের নেওয়া ক্রস থেকে বল পেয়ে, বক্সের মাঝখান থেকে কনসার নেওয়া হেডারটিও আটকে যায়।
তারপরেই ম্যাচের রঙ বদলে যায় একটিমাত্র ভুলের জন্য। ডি বক্সের মধ্যে নোনি মাদুয়েকেকে ফাউল করে বসেন লুকা মদরিচ। সঙ্গে সঙ্গে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সেই পেনাল্টি থেকে প্রথমে যে শটটি হ্যারি কেন নেন, সেটি সেভ করে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ। কিন্তু সেটি বাতিল করে ফের রি-টেকের নির্দেশ দেন রেফারি। ম্যাচের ১২ মিনিটে, পেনাল্টি থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন হ্যারি কেন।

এরপরেও হ্যারি কেন একটি শট নেন, যেটি ব্লক হয়ে যায়। অন্যদিকে, ৩৪ মিনিটে, ইংল্যান্ডের একটি শট প্রতিহত হয়। সজাগ ছিলেন ক্রোয়েশিয়াম ডিফেন্ডার সুতালো, ভাসকোভিচ এবং ভার্দিওলরা। অপরদিকে, মাঝমাঠ এবং আক্রমণভাগে গতি বাড়াচ্ছিলেন স্ট্যানিসিচ, লুকা মদরিচ এবং ইভান পেরিসিচরা।
মুসাও বেশ সচল ছিলেন। উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে, ইংল্যান্ড ডিফেন্সকে ভরসা দিচ্ছিলেন স্টোনস এবং জেমসরা। তাছাড়া বেলিংহ্যাম, গর্ডন এবং অ্যান্ডারসনরাও ভালো খেলছিলেন। কিন্তু লড়াই যেন ক্রোয়েশিয়ার রক্তে। তাই পিছিয়ে পড়েও পাল্টা লড়াই দিতে প্রস্তুত ছিল তারা।
চূড়ান্ত উত্তেজনার লড়াই শেষে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারাল ইংল্যান্ড
সেই সুবাদেই খেলার ৩৬ মিনিটে, পিটার সুচিচের পাস পেয়েই জায়গা তৈরি করে নেন এবং তারপরেই বক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের জোরালো দূরপাল্লার শটে দুরন্ত গোল করে যান মার্টিন বাতুরিনা। কার্যত, ইংল্যান্ড গোলকিপার পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে যায়।
কিন্তু ম্যাচে যেন একেবারে পেন্ডুলামের মতো এদিক থেকে ওদিকে দুলছিল। কারণ, তার কয়েক মিনিট বাদেই ফের গোল পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৪২ মিনিটের মাথায়, ডেকলান রাইসের ক্রস থেকে অনবদ্য হেডারে গোল করে আবারও ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন সেই হ্যারি কেন। তবে সেই গোলের পরেও একেবারেই দমে যায়নি ক্রোয়েশিয়া। ফের লড়াইতে ফিরে আসে তারা।
প্রথমার্ধের সংযুক্তি সময়ে, ইভান পেরিসিচ হেড করে বল বাড়ান পিটার মুসার দিকে। আর সেই বল পেয়ে প্রথম প্রচেষ্টাতেই গোল করে যান তিনি। সেন্টার বক্সের মধ্যে থেকে তাঁর ডান পায়ের শট গিয়ে সোজা জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-২ ফলাফল নিয়ে।
জোড়া গোল করলেন হ্যারি কেন
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোল পেয়ে যায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যামের ডান পায়ের শট গোলপোস্টের লেফট কর্নার দিয়ে সোজা গোলে ঢুকে যায়। ইংল্যান্ড ম্যাচে লিড নেয় ৩-২ ব্যবধানে। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে, ফের দূরপাল্লার শট নেন বেলিংহ্যাম। কিন্তু এক্ষেত্রে দুরন্ত সেভ করেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার লিভাকোভিচ। এরপরেই কর্নার থেকে আসা বলে হেডার মিস করেন নিকো ও'রাইলি।
তারপর আরও চাপ বাড়াতে শুরু করে থমাস টুখেলের ছেলেরা। একের পর এক কর্নার আদায় করতে থাকে তারা। এমনকি, ম্যাচের ৫১ মিনিটে, বক্সের বাঁদিক থেকে নেওয়া ডেক্লান রাইসের ডান পায়ের শটটিও টপ রাইট কর্নারে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন ডমিনিক লিভাকোভিচ।
৫৫ মিনিটে, এজরি কনসার শটও সেভ করেন তিনি। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে, সেন্টার বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের শট নেন হ্যারি কেন। সেই শটটিও সেভ করেন এই গোলকিপার। কার্যত, ব্যাক টু ব্যাক শট সেভ করে দলের পতন রোধ করেন লিভাকোভিচ।
তারপরেই ক্রোয়েশিয়া দলে দুটি পরিবর্তন করেন কোচ। পিটার মুসার জায়গায় আসেন ইগোর মাতানোভিচ এবং লুকা ভাস্কোভিচের জায়গায় মাঠে আসেন মার্কো পাসালিচ। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড দলেও দুটি বদল আসে। নোনি মাদুকের জায়গায় নামেন বুকায়ো সাকা এবং অ্যান্টনি গর্ডনের পরিবর্তে আসেন মার্কাস র্যাশফোর্ড।
খেলার ৭৫ মিনিটে, প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিল ক্রোয়েশিয়া। বক্সের ডান দিক থেকে মার্কো পাসালিচের নেওয়া বাঁ পায়ের শটটি সেভ করেন ইংল্যান্ড গোলকিপার পিকফোর্ড। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে, বুকায়ো সাকার পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে বুদ্ধিদীপ্ত গোল করে যান মার্কাস র্যাশফোর্ড। আর সেই সুবাদেই ম্যাচে আরও ব্যবধান বাড়ায় ইংল্যান্ড। কার্যত, সুপার সাব হয়ে যান র্যাশফোর্ড।
শেষপর্যন্ত, আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণের ঝড় শেষে তথা চূড়ান্ত উত্তেজনার ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে জয় হাসিল করে ইংল্যান্ড।
ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।