FIFA World Cup 2026: ডিনার ডেট, কফি ডেট পুরনো। ভারতের জেন-জি আর মিলেনিয়াল সিঙ্গলদের মধ্যে এখন হিট ‘ফুটবল ডেট’ বা ‘ম্যাচ-কিউট’। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হোক বা ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ, রাত ১টা-৩টের ম্যাচ দেখার জন্য ডেটিং অ্যাপে ম্যাচ করে স্পোর্টস ক্যাফে বা কারও ফ্ল্যাটে ওয়াচ পার্টি করছে ছেলেমেয়েরা। কারণটা সোজা, ফুটবলের ৯০ মিনিটে একজন মানুষের আসল রূপ বেরিয়ে আসে।

FIFA World Cup 2026: “চলো না, কফি খাই” - এই লাইন এখন ব্যাকডেটেড। ভারতের সিঙ্গলদের নতুন ডায়লগ, “আজ রাত ৩টেয় মেসির খেলা, আমার ফ্ল্যাটে চলে এসো, একসঙ্গে দেখি?”। অবাক লাগছে? এটাই এখন দেশের মেট্রো শহরগুলোর নতুন ডেটিং ট্রেন্ড, নাম ‘ফুটবল ডেটিং’ বা ‘ম্যাচ-কিউট’। ডেটিং অ্যাপ Bumble আর Tinder-এর রিপোর্ট বলছে, ভারতে ‘স্পোর্টস’, বিশেষ করে ‘ফুটবল’ ইন্টারেস্ট দেওয়া প্রোফাইলে ম্যাচ হওয়ার চান্স ৭০% বেশি। আর জেন-জি ছেলেমেয়েদের ৪৫% বলছে, প্রথম ডেটে ডিনারের চেয়ে একসাথে খেলা দেখতে তারা বেশি স্বচ্ছন্দ।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কবে শুরু এই ট্রেন্ড?

ট্রেন্ডটা শুরু হয়েছে লকডাউনের পর থেকে। রাতে ঘরে বসে একা একা খেলা দেখতে বোর লাগত, তাই ডেটিং অ্যাপে ম্যাচ করে লোকজন ভার্চুয়াল ওয়াচ পার্টি শুরু করে। এখন মাঠে দর্শক ঢুকছে, স্পোর্টস ক্যাফে গুলোও রাত ৩টে পর্যন্ত খোলা থাকছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা প্রিমিয়ার লিগের জন্য। কলকাতার পার্ক স্ট্রিট, ব্যাঙ্গালোরের ইন্দিরানগর, মুম্বাইয়ের বান্দ্রার স্পোর্টস বারগুলোতে উইকেন্ডের রাতের ম্যাচ মানেই হাউসফুল। সেখানে কাপল টেবিল বুকিং-এর ৬০% হল ফার্স্ট ডেট। মোমবাতি-ভায়োলিন নয়, এখন জায়ান্ট স্ক্রিন, চিয়ার্স আর অফসাইড নিয়ে তর্কই হল রোমান্সের নতুন ভাষা।

কিন্তু ফুটবল কেন? 

রিলেশনশিপ এক্সপার্টরা বলছেন, ৯০ মিনিটের একটা ম্যাচ হল একটা ‘পার্সোনালিটি স্ক্যানার’। প্রথম ডেটে সবাই ভালো সাজার চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের টিম হারতে থাকলে বা রেফারি বাজে সিদ্ধান্ত দিলে আসল রূপ বেরিয়ে আসে। ছেলেটা কি হেরে গিয়ে রিমোট ছুড়ে মারছে, নাকি হাসতে হাসতে বলছে ‘ব্যাড লাক’? মেয়েটা কি অফসাইড বুঝে তর্ক করছে, নাকি ‘আমি খেলা বুঝি না’ বলে ঢং করছে? গোল হলে সে কি জড়িয়ে ধরে সেলিব্রেট করছে, নাকি ফর্মাল হ্যান্ডশেক দিচ্ছে? এই ছোট ছোট রিঅ্যাকশন থেকেই বোঝা যায় মানুষটা রাগী না ঠান্ডা মাথার, টিম প্লেয়ার না সেলফিশ, ইমোশনালি কতটা ম্যাচিওর। কফি ডেটে ২ ঘণ্টা বানিয়ে কথা বলা যায়, কিন্তু টানটান ম্যাচের এক্সাইটমেন্টে অভিনয় করা যায় না। তাই ৩টের ম্যাচ শেষে অনেকেই বুঝে যায়, সেকেন্ড ডেট হবে নাকি এখানেই ফুলস্টপ।

লো-প্রেশার ডেটিং

এই ট্রেন্ডের আরও একটা প্লাস পয়েন্ট হল ‘লো-প্রেশার’ ডেটিং। ক্যান্ডেল লাইট ডিনারে কী পরে যাব, কী কথা বলব, বিল কে দেবে - অনেক টেনশন থাকে। কিন্তু খেলা দেখার সময় ফোকাস থাকে স্ক্রিনে। কথা না বললেও অড লাগে না, জার্সি-শর্টস পরেই যাওয়া যায়। পাশাপাশি বসে একটা টিম সাপোর্ট করলে অটোমেটিক বন্ডিং হয়ে যায়। গোল হলে হাই-ফাই দেওয়া, হাফ টাইমে একসাথে চিপস শেয়ার করা - এগুলোই হয়ে যায় ‘মিট-কিউট’ মোমেন্ট। অনেক কাপল বলছে, প্রথম ডেটে ম্যাচ দেখতে গিয়ে তারা বুঝেছে দুজনের সেন্স অফ হিউমার, টেম্পারামেন্ট আর প্যাশন একদম মিলে যাচ্ছে। তবে সাবধানও আছে। প্রথম ডেটেই নিজের ফ্ল্যাটে ডাকাটা রিস্কি, বিশেষ করে মেয়েদের জন্য। এক্সপার্টরা বলছেন, প্রথম ২-৩টে ম্যাচ ডেট সবসময় পাবলিক প্লেসে রাখুন, যেমন স্পোর্টস ক্যাফে বা বন্ধুদের গ্রুপ ওয়াচ পার্টি। আরেকটা সমস্যা হল ‘ক্লাব লয়্যালটি’। আপনি মাদ্রিদ সাপোর্টার, ক্রাশ বার্সা ফ্যান - তাহলে এল ক্লাসিকোর রাতে ডেট না রাখাই ভালো। ব্রেকআপ ম্যাচের আগেই হয়ে যেতে পারে! তাই শুরুর দিকে নিউট্রাল ম্যাচ বা দুজনের কমন পছন্দের টিমের খেলা বাছুন। প্রসঙ্গত, ফুটবল এখন শুধু ২২ জনের খেলা নয়, এটা সিঙ্গলদের ম্যাচমেকার। রাত জাগা, চিৎকার, টেনশন আর শেষ বাঁশির পরের শান্তি - এই রোলার কোস্টার রাইডটা দুজনে একসাথে পার করলে সম্পর্কের ভিতটাও পাকা হয়ে যায়। তাই ক্রাশকে আর রেস্টুরেন্টে নয়, এই উইকেন্ডে জিজ্ঞেস করুন, “রাত ১২.৩০-এ সিটি বনাম আর্সেনাল আছে, স্ক্রিনের সামনে দেখা হচ্ছে তো?”

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।