FIFA president Gianni Infantino: ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে কি সত্যিই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থার (Selección de fútbol de Argentina) যোগসাজশ আছে? সাম্প্রতিক ঘটনা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

DID YOU
KNOW
?
বিপাকে ফিফা প্রেসিডেন্ট
উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করায় বিপাকে পড়ে গিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো।

Gianni Infantino-Donald Trump: ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্তিনোর পাশে দাঁড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বকাপ ফুটবলের (FIFA World Cup) বাণিজ্যিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানে অংশীদারিত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর ইনফ্যান্তিনোর উপর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যেই তাঁকে সরানোর কথা ভাবলে তা ‘ভয়ংকর ভুল’ হবে বলে সতর্ক করলেন ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের সাফল্যের নেপথ্যে ফিফা প্রেসিডেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দিলে ফিফা একই সাফল্য ধরে রাখতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প লেখেন, ‘ যে কোনও কারণে প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফ্যান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবলেও ফিফা ভয়ঙ্কর ভুল করবে।’ ফিফা প্রেসিডেন্টকে ‘দারুণ’ বলেও প্রশংসা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্বেই ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে ফিফা।

বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইনফ্যান্তিনো

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ফিফার অন্দরে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য নতুন সংস্থা ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ গঠন এবং তাতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রায় ২১ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারিত্ব বিক্রির সম্ভাবনা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। নতুন সংস্থাটির মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ধরা হতে পারে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবল সংস্থা উয়েফা (UEFA), এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (AFC) এবং কনকাকাফ-সহ (CONCACAF) ফুটবল বিশ্বের একাধিক শক্তিশালী সংগঠনের প্রবল বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করে ফিফা। তবে প্রস্তাব প্রত্যাহার করেই বিতর্কের অবসান হয়নি। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ যৌথভাবে জানিয়েছে, বিষয়টি শুধুমাত্র ‘যোগাযোগের ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখলে আসল সমস্যাকে আড়াল করা হবে। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোচনা ও পরামর্শ ছাড়াই অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তিন কনফেডারেশন এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। কীভাবে পরিকল্পনাটি তৈরি হয়েছিল এবং কেন এত দ্রুত তা সদস্য দেশগুলোর সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তদন্তের পক্ষেও সওয়াল করেছে তারা।

ফিফা টুর্নামেন্ট বয়কটের হুমকি উয়েফার

এদিকে, উয়েফা ফিফা প্রতিযোগিতা বয়কটের মতো আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছে। অন্যদিকে, পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় ভুলের জন্য ইনফ্যান্তিনো ইতিমধ্যেই ক্ষমা চেয়েছেন। ফলে বিতর্ক এখন আর শুধুমাত্র বাতিল হয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ঘিরে নেই। বিষয়টি পরিণত হয়েছে ফিফার শাসনব্যবস্থা, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা এবং বিশ্ব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নে। বিশ্বকাপ ফুটবলের বাণিজ্যিক পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্পের সমর্থন চেয়েছিলেন ইনফ্যান্তিনো, এমন খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ফিফা সেই দাবি নাকচ করে এটিকে মিথ্যা বলে জানিয়েছে। ফলে ওই দাবি এখনও বিতর্কিত। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ হস্তক্ষেপ নিয়ে কোনও সংশয় নেই। একদিকে উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফ ইনফ্যান্তিনোর নেতৃত্বের জবাবদিহি চাইছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যেই তাঁকে সরানোর বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।