IAMGAME Awards 2026: দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে পরিণত হয়েছে আই অ্যাম গেম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬। নয়াদিল্লিতে এবারের পুরস্কার প্রদান অনুুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ পুরস্কার পেল রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস (Roundglass Sports) ও পাঞ্জাব এফসি (Punjab FC)।
KNOW
IAMGAME Awards: আই অ্যাম গেম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করে তিনটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেল রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস (Roundglass Sports) এবং পাঞ্জাব এফসি (Punjab FC)। তৃণমূল স্তরে খেলার উন্নতি এবং সমর্থকদের লাইভ ও ইন্টার্যাকটিভ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে খেলাধুলার আরও কাছে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাদের উদ্যোগকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ‘হোলিস্টিক ওয়েলবিইং’ বা সামগ্রিক কল্যাণের নীতির মাধ্যমে ভারতীয় ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস একাধিক বিভাগে সম্মান পেয়েছে। গ্রাসরুট স্পোর্টস প্রোগ্রাম অব দ্য ইয়ার বিভাগে সোনা এবং তাদের গ্রাসরুট স্পনসরশিপ ইনিশিয়েটিভের জন্য বিশেষ স্বীকৃতি পেয়েছে রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস। অন্যদিকে, ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (Indian Super League) খেলা পাঞ্জাব এফসি ফ্যান এনগেজমেন্ট অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স বিভাগে সোনা জিতেছে।
আই অ্যাম গেম অ্যাওয়ার্ডসে বিশেষ পুরস্কার
আই অ্যাম গেম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ ক্রীড়া ব্যবসা ক্ষেত্রে অসাধারণ পারফরম্যান্স করা বিভিন্ন সংগঠন, ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং উদ্যোগকে সম্মান জানানো হয়েছে। ভারতের খেলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া এবং নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানগুলিকেই মূলত এই পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ফ্যান এনগেজমেন্ট অ্যান্ড এক্সপেরিয়েন্স বিভাগে সোনা পেয়েছে পাঞ্জাব এফসি। সমর্থকদের সঙ্গে শক্তিশালী ও অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ভারতের শীর্ষ ফুটবল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্লাবটি সমর্থকদের জন্য আরও প্রাণবন্ত এবং পরিবারকেন্দ্রিক ম্যাচডে অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে। এর মধ্যে ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে ইন্টার্যাকটিভ গেম জোন তৈরি করা হয়েছে, যাতে কিক-অফের আগেও সমর্থকেরা বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যকলাপে অংশ নিতে পারেন। ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ভিতরেও একাধিক আকর্ষণীয় আয়োজন করা হয়। স্টেডিয়ামের বাইরেও পাঞ্জাব এফসি নয়াদিল্লি, চণ্ডীগড় এবং মোহালিতে সমর্থকদের জন্য লাইভ ফুটবল ম্যাচ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করেছে। এই তৃণমূল স্তরের উদ্যোগের পাশাপাশি ক্লাবটি বিভিন্ন ইন্টার্যাকটিভ ডিজিটাল উদ্যোগও নিয়েছে, যার মাধ্যমে সমর্থকদের ক্লাবের যাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রাসরুট স্পোর্টস প্রোগ্রাম অব দ্য ইয়ার বিভাগে সোনা পেয়েছে রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস। রাউন্ডগ্লাস ফুটবল, হকি, টেনিস এবং গল্ফ অ্যাকাডেমিতে গড়ে তোলা তাদের বিস্তৃত ও সুসংগঠিত খেলোয়াড় উন্নয়ন মডেলের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রাউন্ডগ্লাসের গ্রাসরুট প্রোগ্রাম প্রত্যন্ত গ্রাম ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে থাকা প্রতিভাবান এবং সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের সক্রিয়ভাবে খুঁজে বের করে তাদের বিশ্বমানের হাই-পারফরম্যান্স ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করে। বিশ্বমানের পরিকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক মানের কোচদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি এই কর্মসূচিতে ‘হোলিস্টিক ওয়েলবিইং’-এর উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, তরুণ খেলোয়াড়দের ক্রীড়া প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষাগত সহায়তা, বিশেষজ্ঞদের পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ এবং মানসিক প্রস্তুতির প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো খেলোয়াড়দের একজন সম্পূর্ণ মানুষ এবং ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা।
রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টসকে বিশেষ স্বীকৃতি
জোড়া সোনার পাশাপাশি রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস তাদের গ্রাসরুট স্পনসরশিপ ইনিশিয়েটিভের জন্য বিশেষ স্বীকৃতিও পেয়েছে। পাঞ্জাব-সহ সারা দেশে তৃণমূল স্তরের খেলাধুলার পরিবর্তনে সংগঠনটির করা মৌলিক বিনিয়োগকেই এই সম্মানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় টুর্নামেন্টে স্পনসর করা এবং স্থানীয় ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়নের মাধ্যমে রাউন্ডগ্লাস নিশ্চিত করছে। যাতে উঠতি খেলোয়াড়েরা নিজেদের অঞ্চলেই প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সম্পদ পান। এই উদ্যোগগুলি একটি বৃহত্তর ও সুসংগঠিত ইকোসিস্টেমের অংশ। এর লক্ষ্য হল খেলোয়াড়দের জন্য খেলায় সাফল্য অর্জনের একটি সুস্পষ্ট পথ তৈরি করা। ফুটবল, হকি, টেনিস এবং গল্ফ, এই চারটি প্রধান খেলায় সক্রিয় রাউন্ডগ্লাস স্পোর্টস ২০২১ সাল থেকে বিভিন্ন পারফরম্যান্স পাথওয়ের মাধ্যমে ৫,৫০০-রও বেশি খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছানো এবং একেবারে শুরুতেই তাদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সংগঠনটি পাঞ্জাবের ১,০০০-রও বেশি গ্রামে পৌঁছে গিয়েছে। পাঞ্জাবে নিজেদের ভিলেজ স্পোর্টস সেন্টারের মাধ্যমে রাউন্ডগ্লাসের গ্রাসরুট ফুটবল ইকোসিস্টেম শিশুদের সুসংগঠিত ক্রীড়া প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করছে। এর মাধ্যমে তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস এবং দলগত কাজের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে এবং একইসঙ্গে সম্ভাবনাময় প্রতিভাদের চিহ্নিত করাও সম্ভব হচ্ছে।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।
