ইংরেজদের বিরুদ্ধে দেশের জন্য তাঁর লড়াই, ভারতের স্বাধীনতা, এই ইতিহাস কারও কাছেই অজানা নয়। বুধবার গোটা দেশ পালন করছে মহাত্মা গান্ধীর জন্মের সার্ধ শতবর্ষ। দেশের নতুন প্রজন্মের কাছে মহাত্মার আদর্শের কথা ছড়িয়ে দিচ্ছেন দেশের নেতা নেত্রীরা। বিশাখাপত্তনমে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে শুরু হল গান্ধী ম্যান্ডেলা টেস্ট সিরিজ। দুই দেশের দুই রাষ্ট্র নায়কে সম্মান জানিয়ে বেশ কয়েক বছর আগে এই ট্রফির নাম দেওয়া হয়েছেন গান্ধী ম্যান্ডেলা ট্রফি। অনেকের কাছে মহাত্মা ও খেলাধূলোর সম্পর্কটা এখানেই শেষ। কিন্তু বিষয়টা একেবারেই তা নয়। 

আরও পড়ুন - বয়েস ভাঁড়ানো রুখতে এবার হেল্প লাইন নাম্বার চালু করল ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড

মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ও খেলাধূলোর সম্পর্ক আরও অনেক গভীর। আর সেটা ফুটবলকে কেন্দ্র করে। এই ইতিহাস জানতে ফিরে যেতে হবে বহু বছর আগে। গান্ধীজি তখন ইংল্যান্ডে। আইনের পড়াশোনার পাশাপাশি সেই সময় থেকেই ফুটবলের প্রতি টান মহাত্মার। কিন্তু নিজে কখনও ফুটবল খেললেনি। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীজিকে পাওয়া গেল ফুটবল প্রশাসক হিসেবে। সত্যাগ্রহ আন্দোলকে ছড়িয়ে দেওয়ার আরও একটা পথ হিসেবে গান্ধীজি বেছে নিয়েছিলেন ফুটবল। ডুরবিন, প্রিটোরিয়া, জোহানসবার্গ দক্ষিণ আফ্রিকার এই তিন শহরেই গান্ধীজির নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল ফুটবল ক্লাব। তিনিটি দলের নামই রাখা হয়েছিল প্যাসিভ রেজিস্টার্স। ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইতে ফুটবলের মাঠ থেকেই যেন শক্তি মজুত করত ইংরেজদের অত্যাচারের শিকার মানুষগুলো। বিভিন্ন ম্যাচ খেলে যে টাকা পাওয়া যেত সেই টাকা দিয়ে জেলবন্দি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পরিবারকে সাহয্য করার কাজও শুরু করেছিলেন বাপু। 

আরও পড়ুন - ফোকাসে অলিম্পিকের সোনা, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জবাব দেওয়ার মঞ্চ মেরিরা কাছে

১৯১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারতে চলে আসেন গান্ধীজি। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁর সলেই ফুটবল ক্লাব বন্ধ হতে দেননি। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার বসেছিল ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। ফুটবলের নিয়াক সংস্থাও মহাত্মা গান্ধীর ফুটবল প্রেম ও দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবলে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে একটি বিশেষ আর্টিকেল প্রকাশ করেছিল। ভারতবর্ষ পরিচিত ক্রিকেটের দেশ হিসেবে। কিন্তু সেই দেশের জাতীয় জনক যাঁকে বলা হয় সেই মহাত্মা গান্ধী ছিলেন একজন ফুটবল ভক্ত। 

আরও পড়ুন - মিডল অর্ডার থেকে ওপেনারের ভূমিকায় সেরা পাঁচ সফল ব্যাটসম্যান