বিদেশ থেকে দেশে ফেরে কোয়ারেন্টাইনে না থেকে এবার বিতর্কে জড়ালেন বিশ্বজয়ী বক্সার মেরি কম। কারণ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রুখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছে, বিদেশ থেকে ফিরলেই সেলফ কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে সকলকে। ১৪ দিন সমাজ থেকে দূরে থাকতে হবে। গোটা বিশ্ব এই নিয়ম পালন করা বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়েছে হু। কিন্তু অনেকেই সেই নিয়মের তোয়াক্কা না বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মাবজাতিকে ঠেলে দিচ্ছে আরও বিপদের দিকে। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন ৫ বারের বিশ্বজয়ী বক্সার মেরি কম।

আরও পড়ুনঃচুক্তি শেষের আগেই মোহনবাগান ছাড়ছেন কিবু ভিকুনা, কোচ হচ্ছেন কেরালা ব্লাস্টার্সের

সম্প্রতি এশিয়া-ওশিয়ানিয়া অলিম্পিক কোয়ালিফায়ারের জন্য জর্ডন গিয়েছিলেন লন্ডন অলিম্পিকে পদকজয়ী ভারতীয় বক্সার। সেখানে টোকিও অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতাও অর্জিন করেছেন মেরি। তারপর  গত ১৩ মার্চ দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়মাবলি মেনে মেরির দু’সপ্তাহ সেল্‌ফ কোয়ারেন্টাইনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিয়মকে তোয়াক্কা না করে পাঁচদিন গৃহবন্দি থাকেন মেরি। তারপরই মেরি কম হাজির হন রাষ্ট্রপতি ভবনে। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সঙ্গে প্রাতঃরাশে যোগ দিতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন বিশ্বজয়ী বক্সার। সেই আয়োজনের ছবি ১৮ মার্চ নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সেখানেই দেখা যায়, অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন মেরি কমও।

আরও পড়ুনঃকরোনাভাইরাস কি বাধ্য করবে ধোনিকে অবসর নিতে, চারিদিকে চলছে জল্পনা

আরও পড়ুনঃইপিএল ও ব্রিটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতানৈক্য, প্রশ্নের মুখে প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ

তবে মেরি কম একাই দুশ্চিন্তা বাড়াননি, তাঁর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছেন বিজেপি নেতা দুষ্মন্ত সিং। করোনায় আক্রান্ত বলিউড গায়িকা কনিকা কাপুরের সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎ হয়েছিল দুষ্মন্ত সিংয়ের। তারপরই তিনি রাষ্ট্রপতি ভবনে যান। যদিও বক্সার মেরি কমের দাবি, তিনি বিজেপি নেতার সংস্পর্শে আসেননি। সপক্ষে সাফাই দিয়ে তিনি বলেন, “জর্ডন থেকে ফেরার পর আমি বাড়িতেই ছিলাম। শুধু রাষ্ট্রপতি ভবনেই গিয়েছিলাম। কিন্তু দুষ্মন্ত সিংয়ের সঙ্গে দেখা করিনি। করমর্দনও করিনি। জর্ডন থেকে ফেরার পর কোয়ারেন্টাইনে থাকা হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও আগামী ৩-৪ দিন বাড়িতেই থাকব।” যদিও জর্ডন থেকে ফেরা সব বক্সারই ১৪ দিনের অত্যাবশ্যক কোয়ারেন্টাইনে থাকছেন। কিন্তু মেরি কম কীভাবে পাঁচদিন পরই সোজা রাষ্ট্রপতি ভবন পৌঁছে গেলেন। তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। দেশের অন্যান্য ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা যেখানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ থেকে বাঁচতে ও মানুষকে সচেতন করতে বার্তা দিচ্ছেন। সেখানে মেরি কমের এহেন কাজ মোটেই কাম্য নয় বলে মত নেট দুনিয়ায়।