দলকে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন করেছেন। তাও এক নয়, দুই নয়, চার ম্যাচ আগে। শেষ কবে কোনও আইলিগ জয়ী দল গোটা টুর্মামেন্ট এতকরফাভাবে ডমিনেট করেছে তাও সকলের অজানা। সেই কার্যসিদ্ধিও করেছিলেন মোহন বাগান কোচ কিবু ভিকুনা। স্প্যানিস কোচের তত্ত্বাবধানে আইলিগে ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থাকার নজিরও গড়েছে মোহনবাগান। এত কিছুর পর ক্লাবে তার ভবিষ্যৎ ছিল অনিশ্চিত। কোচের বদলে অন্য কোনও পদ কিবু জন্য ভাবা হচ্ছে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল বাগান কর্তৃপক্ষ। ফলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেও পরের মরসুমে সহকারি কোচ বা অন্য কোনও পদে দেওয়াটা কিবুর অপমান বলেই মনে করেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা। আর বাস্তবে হলোও তাই। মোহনবাগানের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই পরের মরসুমে কেরালা ব্লাস্টার্সের দায়িত্ব নেওয়াটা মোটামুটি পাকা করে ফেললেন কিবু ভিকুনা। 

আরও পড়ুনঃদেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার্তা সুনীল ছেত্রীর, সকলকে সুস্থ ও সচেতন থাকার আবেদন

অপরদিকে দেশের অপর লিগ আইএসএলেও এবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে  এটিকে। সেখানেও আরেক স্প্যানিশ কোচ অ্যান্টোনিও লোপেজ হাবাসের কোচিংয়েই তৃতীয়বার ট্রফি ঘরে তুলেছে কলকাতার দলটি। কিন্তু পরের মরসুমে মোহনবাগানের সঙ্গে সংযুক্তি হচ্ছে এটিকের। সেক্ষেত্রে চলতি মরসুমে দায়িত্বপ্রাপ্ত মোহনবাগান কোচ কিবু ভিকুনার বিদায় প্রায় নিশ্চিত ছিল। কারণ হাবাসই পরের মরসুমে মোহনবাগান ও এটিকের সংযুক্ত হওয়া দলকে প্রশিক্ষণ দেবেন তা জানিয়ে দিয়েছিল এটিকে কর্তারা।

আরও পড়ুনঃএবার করোনা আতঙ্কে ভুগছেন পিভি সিন্ধু, সাইনা নেওয়াল সহ ভারতীয় শাটলাররা

আরও পড়ুনঃইপিএল ও ব্রিটিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মতানৈক্য, প্রশ্নের মুখে প্রিমিয়ার লিগের ভবিষ্যৎ

চলতি মরশুমে কিবুর অধীনে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে সবুজ-মেরুন। তা সত্ত্বেও আগামী মরশুমের জন্য চুক্তি নবীকরণ করেনি মোহনবাগান। এই পরিস্থিতি বেশ কিছু দিন ধরে একটু ভেঙেই পড়েছিলেন কিবু ভিকুনা। মোহনবাগান তাকে অন্য কোনও পদ দিলেও তা কতটা সম্মানের হত সেই বিষয়ে প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছিল। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই নতুন ক্লাবে সই করতে চলেছেন মোহনবাগান কোচ কিবু ভিকুনা। আগামী মরশুমে কেরালা ব্লাস্টার্সের কোচিং করাবেন তিনি। এ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত চুক্তি ছিল তাঁর। চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই নতুন ক্লাবে সই করছেন স্প্যানিশ তারকা কোচ। ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইচ্ছা করেই আই লিগ ছেড়ে আইএসএলের দলে যোগ দিচ্ছেন কিবু। কারণ পরের মরসুমে মোহনবাগানও  খেলতে চলেছে আইএসএলে। পুরনো ক্লাবকে জবাব দেওয়ার লক্ষ্যে ও নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করার জন্য কিবুর কেরালা গমন। ফলে পরের মরসুমে হাবাস ও কিবুর দ্বৈরথ দেখতে এখন থেকেই অপেক্ষায় রইল ফুটবল প্রেমিরা।