Mohun Bagan vs East Bengal: ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের মেগা কলকাতা ডার্বি। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল, মাঠে ধুন্ধুমার ফুটবল এবং গ্যালারি জুড়ে গর্জন। গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই মুহূর্ত, উত্তেজনার গ্রাফ যেখানে কোনও লিমিট মানে না। সেই ম্যাচই ১-১ গোলে ড্র হল।
Mohun Bagan vs East Bengal: ডার্বি ম্যাচ ড্র। আইএসএল-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার, কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হয় মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল (mohun bagan vs east bengal)। সেই ম্যাচই ১-১ গোলে অমীমাংসিতভাবে শেষ হল।

সবুজ মেরুন বনাম লাল হলুদ! এই চিরন্তন লড়াই যেন মিলিয়ে দেয় ৮ থেকে ৮০ সকলকে। নিজের প্রিয় দলের জয় দেখতে মাঠে হাজির হন হাজার হাজার সমর্থক। কার্যত, স্মরণীয় একটি ফুটবলের লড়াই, ৯০ মিনিটের টানটান যুদ্ধ।
টানটান উত্তেজনার ফুটবল যুদ্ধ!
ঐতিহাসিক এবং ঐতিহ্যের মেগা কলকাতা ডার্বি। মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল, মাঠে ধুন্ধুমার ফুটবল এবং গ্যালারি জুড়ে গর্জন। গায়ে কাঁটা দেওয়া সেই মুহূর্ত, উত্তেজনার গ্রাফ যেখানে কোনও লিমিট মানে না। আক্ষরিক অর্থেই সেই ছবি ধরা পড়ল রবিবাসরীয় সল্টলেক স্টেডিয়ামে। আর এই ম্যাচ ১-১ গোলে ড্র হল।
টানটান উত্তেজনায় জমে ওঠে রবিবারের ডার্বি। একেবারে শুরুতেই সুযোগ চলে আসে সবুজ মেরুনের সামনে। তবে গোল হয়নি। পাল্টা আক্রমণ তুলে আনে ইস্টবেঙ্গলও। কিন্তু পিভি বিষ্ণুর দৌড়কে দুরন্ত ট্যাকলে থামিয়ে দেন মোহনবাগান ডিফেন্ডার টেকচাম অভিষেক সিং। উল্টোদিকে আবার কর্নার থেকে আসা হেডার মিস করেন সবুজ মেরুনের টম অ্যালড্রেড। কিন্তু সবথেকে সহজ সুযোগটি সম্ভবত হেলায় হারান মোহনবাগানের মিডফিল্ডার সাহাল আবদুল সামাদ।
খেলার ৯ মিনিটে, মনবীরের বাড়ানো ক্রস ধরে কার্যত, খালি গোল পেয়েও মিস করেন সাহাল। তারপর ম্যাচের ১৪ মিনিটে, ফের অ্যাটাক তুলে আনে লাল হলুদ ব্রিগেড। অ্যান্টনের শট বারপোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। অর্থাৎ, ম্যাচ যেন পেন্ডুলামের মতো এদিক থেকে ওদিকে দুলছিল।
ইস্টবেঙ্গল এগোতেই পাল্টা জবাব বাগানের
ম্যাচের ২২ মিনিটে, জিকসন সিং-এর অসাধারণ থ্রু-পাস পান বিপিন সিং। কিন্তু গোলকিপারকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর খেলার ২৪ মিনিটে, অনিরুদ্ধ থাপার শট রুখে দেন লাল হলুদ গোলকিপার প্রভসুখান সিং গিল। তবে তার কয়েক মুহূর্ত বাদে ইস্টবেঙ্গল ফরোয়ার্ড অ্যান্টনকে ফাউল করার অপরাধে হলুদ কার্ড দেখেন মোহনবাগান রক্ষণভাগের ফুটবলার আলবার্তো রডরিগেজ।
অন্যদিকে, ম্যাচের ৩২ মিনিটে, আবার মিস করেন সেই সাহাল। পাশাপাশি সুযোগ নষ্ট করেন লিস্টন কোলাসোও। তাঁর দূরপাল্লার শট অনেকটা বাইরে দিয়ে চলে যায়। এরপর খেলার ৩৭ মিনিটে, অ্যান্টনের শট সেভ করেন মোহনবাগান গোলকিপার ভিশাল কেইথ। তবে ৩৯ মিনিটে, মনবীরের বাঁ-পায়ের শট একটুর জন্য বাইরে চলে না গেলে, খেলায় তখনই লিড নিতে পারত বাগান ব্রিগেড।
তারপর আবার ৪৪ মিনিটে, বিপিন সিং-এর শট অনেকটা বাইরে দিয়ে উড়ে যায়। তবে দুই দলই বেশ ওপেন ফুটবল খেলে। কিন্তু এটাও ঠিক যে, একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে পারেনি ব্রুজো এবং লোবেরার ছাত্ররা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থাতেই। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ফের আক্রমণের ঝড়। বিপিনের শট বাইরে দিয়ে চলে যেতেই, পাল্টা আক্রমণে ওঠা মোহনবাগানের লিস্টন আটকে যান ইস্টবেঙ্গলের পায়ের জটলায় এবং টেকচামের শটও তার কয়েক মুহূর্ত বাদেই মিস হয়।
কলকাতা ডার্বির ফলাফল ১-১
অপরদিকে, খেলার ৫৯ মিনিটে, লিস্টনের ফ্রিকিক একটুর জন্য জালে জড়ায়নি। নাহলে এই সুযোগটি থেকেও গোল পেতে পারত বাগান শিবির। এরপর দুটি পরিবর্তন করেন লাল হলুদ হেডস্যার অস্কার ব্রুজো। পিভি বিষ্ণুর বদলে এডমুন্ড এবং অ্যান্টন শোবার্গের পরির্বতে মাঠে নামেন ইউসুফ এজ্জেজারি। অন্যদিকে, মোহনবাগান মিডফিল্ডার আপুইয়া রালতে আবার গোলমুখী একটি শট নেন, যেটি বাইরে চলে যায়।
খেলার ৬৬ মিনিটে, মিগুয়েলের শট দুর্দান্ত সেভ করেন মোহনবাগান গোলকিপার ভিশাল। এরপর একটি পরিবর্তন আসে সবুজ মেরুন ব্রিগেডে। সাহাল আবদুল সামাদের বদলে মাঠে আসেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। ম্যাচের ৭২ মিনিটে, লিস্টনের মাইনাস জমা হয় ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারের পায়ে।
তারপর একাধিক পরির্বতন করেন মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। টম অ্যালড্রেডের জায়গায় মাঠে আসেন, রবসন রবিনহো। অন্যদিকে, মনবীরের জায়গায় মাঠে নামেন মেহতাব সিং। জেসন কামিংস মাঠে আসেন আলবার্তো রডরিগেজের জায়গায় এবং দীপক টাংরি নামেন আপুইয়া রালতের পরিবর্তে। কিন্তু এরপরই এল সেই লাল হলুদ ঝড়। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে, মিগুয়েলের পাস থেকে বল পেয়ে অনবদ্য গোল করে যান এডমুন্ড লালরিনডিকা।
তবে সবুজ মেরুন তো ছাড়বার পাত্র নয়। খেলা তখন একদম শেষ পর্যায়ে। যখন সবাই ধরেই নিয়েছে যে, ইস্টবেঙ্গলই ডার্বি জিততে চলেছে। তখনই গোটা লাল হলুদ গ্যালারিকে চুপ করিয়ে দিয়ে সবুজ মেরুন গ্যালারির গর্জন শুরু। খেলার ৮৯ মিনিটে, পেত্রাতোসের কর্নার থেকে আসা বলে দুরন্ত গোল করে যান সুপার-সাব জেসন কামিংস।
খেলার ফলাফল তখন ১-১। তবে অতিরিক্ত সময়ে, ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখান সিং গিল মোহনবাগান ফরোয়ার্ড জেমি ম্যাকমারেনের শটটি না বাঁচালে, খেলার ফলাফল হয়ত অন্যরকম কিছু হতে পারত। শেষপর্যন্ত, ১-১ গোলে শেষ হয় এই উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ। অনেকদিন পর বলা চলে, ডার্বির মতো একটা ডার্বি গোল। তবে হ্যাঁ, সুযোগ নষ্টের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।
আপাতত এই ম্যাচের পর, আইএসএল লিগে টেবিলের এক নম্বরে উঠে গেল ইস্টবেঙ্গল। ১২ ম্যাচ খেলে তাদের ২৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মোহনবাগানও ২ নম্বরে উঠে এল। তাদেরও ১২ ম্যাচ খেলে ২৩ পয়েন্ট। কিন্তু গোল পার্থক্যে লাল হলুদ এগিয়ে আছে। তিন নম্বরে রয়েছে বেঙ্গালুরু এফসি। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পাঞ্জাব এফসি। ১২ ম্যাচ খেলে তাদের পয়েন্ট ২২ এবং পঞ্চম স্থানে রয়েছে মুম্বই সিটি এফসি। তাদেরও ১২ ম্যাচ খেলে ২২ পয়েন্ট। কিন্তু এক্ষেত্রেও ফ্যাক্টর গোল পার্থক্য।
আগামী ২১ মে, বিকেল ৫টায় লুধিয়ানার গুরু নানক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে মুম্বই সিটি এফসি বনাম পাঞ্জাব এফসি। ঐ একই দিনে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান বনাম স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি এবং কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল বনাম ইন্টার কাশী। এই দুটি ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিটে।
অর্থাৎ, সেইদিনই ঠিক হয়ে যাবে যে, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হবে কোন দল।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।