Portugal vs Colombia: এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের চাপ বাড়াতে শুরু করে কলম্বিয়া। খেলার ২ মিনিটের মাথায়, লুই দিয়াজের শট পর্তুগিজ ডিফেন্সে ব্লক হয়। এরপর আবার ৬ মিনিটে, জন আরিয়াসের হেডার থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শট নেন কলম্বিয়া স্ট্রাইকার লুই দিয়াজ। তবে বল মাঠের বাইরে চলে যায়।

Portugal vs Colombia: মিয়ামি স্টেডিয়ামে ধুন্ধুমার। চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ কে-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার ভোরে, মুখোমুখি হয় পর্তুগাল বনাম কলম্বিয়া (Portugal vs Colombia:)। সেই ম্যাচই ড্র হল গোলশূন্য অবস্থায় (Portugal vs Colombia score)। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের চাপ বাড়াতে শুরু করে কলম্বিয়া। খেলার ২ মিনিটের মাথায়, লুই দিয়াজের শট পর্তুগিজ ডিফেন্সে ব্লক হয়। এরপর আবার ৬ মিনিটে, জন আরিয়াসের হেডার থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শট নেন কলম্বিয়া স্ট্রাইকার লুই দিয়াজ। তবে বল মাঠের বাইরে চলে যায়। 

পর্তুগিজ ডিফেন্সে কামান দাগল কলম্বিয়া!

তবে পাল্টা আক্রমণ তুলে আনার চেষ্টা করে পর্তুগালও। ম্যাচের ১২ মিনিটে, ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট বাইরে উড়ে যায়। এরপর আবারও সেই কলম্বিয়ার অ্যাটাক। যা সামলাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে পর্তুগালকে। রীতিমতো ঝড়ের গতিতে আক্রমণ শানাতে শুরু করে তারা। ১৭ মিনিটের মাথায়, জন কর্দোবার শট সেভ করেন পর্তুগিজ গোলকিপার দিয়োগো কোস্তা। তারপরের মুহূর্তেই লুই দিয়াজের শট ব্লক হয়।

ম্যাচের ২২ মিনিটে, জন আরিয়াসের শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর খেলার ২৪ মিনিটে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শট সেভ করেন কলম্বিয়ার কামিলো ভার্গাস। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ম্যাচের ২০ মিনিটের মধ্যেই ৬টি গোলমুখী শট নেয় কলম্বিয়া।

ম্যাচের ৩৮ মিনিটে, জোয়াও ফেলিক্সের অ্যাসিস্ট থেকে পর্তুগিজ মিডিও ভিটিনহার ডান পায়ের শট ব্লক হয় কলম্বিয়া ডিফেন্সে। তবে সেখানেই শেষ নয়। এরপর খেলার ৩৯ মিনিটে, ব্রুনো ফার্নান্দেজের শট সেভ করেন কলম্বিয়ার গোলকিপার। তারপরেই আবার রোনাল্ডোর শট ব্লক। ম্যাচের ৪০ মিনিটে, ভিটিনহার অ্যাসিস্ট থেকে রুবেন নেভেসের নেওয়া ডান পায়ের জোরালো শট একটুর জন্য বাইরে চলে যায়। 

দুরন্ত ফুটবল এবং ক্ষিপ্র গোলকিপিং

খেলার ৪২ মিনিটের মাথায়, জোয়াও ফেলিক্সের শট বক্সের অনেকটা উপর দিয়ে উড়ে যায়। তারপরেই ফের অ্যাটাক শুরু করে কলম্বিয়া। জেমস রদ্রিগেজ এবং জেফারসন লার্মার শট ব্লক হয়। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে, গুস্তাভো পুয়ের্তার শট সেভ করেন পর্তুগাল গোলকিপার কোস্তা।৪৫ মিনিটের মাথায়, সুযোগ নষ্ট করেন লুই দিয়াজ। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে, ডেইভের মাচাদোর শট ব্লক হয়। এমনকি, জেমস রদ্রিগেজের একটি শট দুরন্ত সেভ করেন পর্তুগিজ গোলকিপার দিয়োগো কোস্তা। প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়।

YouTube video player

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুটি পরিবর্তন করে পর্তুগাল। জোয়াও ক্যানসেলোর জায়গায় মাঠে নামেন দিয়োগো ডালট এবং রুবেন নেভেসের পরিবর্তে খেলতে নামেন জোয়াও নেভেস। ম্যাচের ৫১ মিনিটে, জোয়াও ফেলিক্সের হেডার বাইরে চলে যায়। কিন্তু ৫৫ মিনিটের মাথায়, কলম্বিয়ার মিডফিল্ডার জেফারসন লার্মার শট সেভ করেন দিয়োগো কোস্তা। অন্যদিকে, মিনিটের মাথায় কলম্বিয়া দলেও দুটি পরিবর্তন আসে। 

তবে ম্যাচ থাকল গোলশূন্য

জেফারসন লার্মার পরিবর্তে রিচার্ড রিওস এবং কর্ডোবার পরিবর্তে লুইস সুয়ারেজ জোন মাঠে নামেন। তবে ৬২ মিনিটে, বক্সের ডানদিক দিয়ে সান্তিয়াগো আরিয়াসের বাড়ানো পাস থেকে বল পেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করেন রিচার্ড রিওস। ৬৫ মিনিটের মাথায়, জেমস হামেস রদ্রিগেজের ক্রস থেকে ভেসে আসা বলে হেড করেন ডেভিনসন স্যাঞ্চেজ। তবে বল চলে যায় মাঠের বাইরে। 

এরপর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে, জন আরিয়াসের জোরালো শর্ট আবারও রুখে দেন সেই পর্তুগিজ গোলকিপার দিয়োগো কোস্তা। খেলার ৭৪ মিনিটে, জেমস রদ্রিগেজের শট অনেকটা উপর দিয়ে দিয়ে চলে যায়। তবে প্রচণ্ড গতিতে এগোচ্ছিল গোটা ম্যাচ। একের পর এক আক্রমণ এবং প্রতি-আক্রমণ তৈরি হচ্ছিল। ৭০ মিনিটে, পর্তুগালের হয়ে মাঠে আসেন রাফায়েল লিও এবং উঠে না জোয়াও ফেলিক্স। পাশাপাশি ভিটিনহার জায়গায় নামেন সামু কোস্তা। 

গ্রুপ কে-র টপার হিসেবে নক-আউটে চলে গেল কলম্বিয়া

৭৩ মিনিটে, কলম্বিয়ার হয়ে সুযোগ নষ্ট করেন লুই দিয়াজ এবং ৭৮ মিনিটে, মিস করেন পর্তুগালের দিয়োগো ডালোট। ৮৭ মিনিটে, কলম্বিয়ার হয়ে মাঠে নামেন মুনোজ এবং উঠে যান আরিয়াস। খেলার শেষদিকে দুই দলই আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ায়। খেলার অতিরিক্ত সময়ে কলম্বিয়া গোল পেয়ে গেলেও তা অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায়। শেষপর্যন্ত এই ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য অবস্থায়। 

YouTube video player

আর এই ম্যাচ ড্র করার ফলে, তিন ম্যাচ খেলে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ কে-র টপার হিসেবে নক-আউটে চলে গেল কলম্বিয়া। অন্যদিকে, তিন ম্যাচ খেলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ কে-র দ্বিতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে গেল পর্তুগাল। 

কিন্তু এবার ১২টি দল থেকে দুটি করে দল রাউন্ড অফ ৩২ -তে যাওয়ার পর, আরও আটটি দল যাবে। নিয়মটা হচ্ছে, ১২টি গ্রুপ মিলিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলির মধ্যে সেরা আটটি দল যাবে পরের রাউন্ডে। অর্থাৎ, ১২টির মধ্যে আটটি গ্রুপ থেকে আরও একটি করে দল কোয়ালিফাই করবে। কিন্তু সেটা ঠিক হবে সমস্ত গ্রুপের ম্যাচ শেষ হলে।

এটি ছিল এই গ্রুপের শেষ ম্যাচ। তার ফলে, ছবিটা পরিষ্কার। গ্রুপ কে থেকে তৃতীয় দল হিসেবে রাউন্ড অফ ৩২-তে পৌঁছে গেল কঙ্গো। সেই দেশের ফুটবল ইতিহাসে নিঃসন্দেহে অনেক বড় ব্যাপার।

ফুটবল বিশ্বকাপের সব খবর সব আগে, শুধুমাত্র এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।